ঢাকা নিউজ

চিকেন পক্সের লক্ষণ, ঘরোয়া যত্ন ও সতর্কতা



চিকেন পক্সের লক্ষণ, ঘরোয়া যত্ন ও সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়ে ভেরিসেলা-জোস্টার নামক অত্যন্ত সংক্রামিত ভাইরাসের কারণে জলবসন্ত বা ‘চিকেন পক্স’ রোগটি হয়ে থাকে। সাধারণত ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ১০ থেকে ২১ দিনের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে কিংবা রোগীর শরীরে ওঠা ফোস্কার তরল ও ব্যবহৃত কাপড় থেকে এ রোগ ছড়ায়। ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার ১-২ দিন আগে থেকে শুরু করে ফোঁস্কাগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত একজন রোগী সবচেয়ে বেশি সংক্রামক থাকেন। এর প্রধান লক্ষণের মধ্যে রয়েছে হালকা থেকে মাঝারি জ্বর, শরীর ও মাথাব্যথা, তীব্র ক্লান্তি এবং পরে মুখ, বুক ও পিঠ থেকে শুরু করে সারা শরীরে তরলযুক্ত চুলকানিপ্রবণ লালচে ফোঁস্কা ওঠা।

সাধারণত ১ থেকে ১০ বছর বয়সি unvaccinated শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হলেও প্রাপ্তবয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস বা পানিশূন্যতার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। সংক্রমণ রোধে রোগীকে সম্পূর্ণ আলাদা ঘরে রাখতে হবে এবং সুতির ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ পানিতে নিমপাতা ফুটিয়ে ঠান্ডা করে গোসল করালে চুলকানি কমে, তবে কোনোভাবেই নখ দিয়ে ফোঁস্কা ফাটানো যাবে না। চুলকানি উপশমে চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যালামাইন লোশন বা অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

মুখের ভেতরের ক্ষতের কারণে খাবার গিলতে কষ্ট হতে পারে বিধায় এই সময়ে রোগীর ডায়েটের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। পানিশূন্যতা দূর করতে প্রচুর পানি, ডাবের পানি, ডালের পানি ও ঘরে তৈরি স্যুপ খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি তেল ছাড়া সিদ্ধ সবজি, দই এবং পেঁপে, আপেল, আনারস ও ব্রকলির মতো ফলমূল ও সবজি খাওয়া উচিত। অন্যদিকে মাখন, অতিরিক্ত তেল-মসলা ও ঝাল খাবার এবং আখরোট, চিনাবাদাম ও কিসমিসের মতো ড্রাই ফ্রুটস পরিহার করতে হবে, কারণ এগুলো পক্সের জীবাণুর বংশবিস্তারে ও প্রদাহ বাড়াতে সহায়তা করে।

জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খাওয়া গেলেও শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেওয়া যাবে না এবং ভাইরাল অসুখে শিশুদের কখনোই অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না। যদি জ্বর ৪ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তীব্র কাশি, শ্বাসকষ্ট, অনবরত বমি বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয় কিংবা ফোঁস্কা থেকে পুঁজ বের হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সঠিক সময়ে টিকা নেওয়া এবং রোগীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র সম্পূর্ণ আলাদা রাখা।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


চিকেন পক্সের লক্ষণ, ঘরোয়া যত্ন ও সতর্কতা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়ে ভেরিসেলা-জোস্টার নামক অত্যন্ত সংক্রামিত ভাইরাসের কারণে জলবসন্ত বা ‘চিকেন পক্স’ রোগটি হয়ে থাকে। সাধারণত ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ১০ থেকে ২১ দিনের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে কিংবা রোগীর শরীরে ওঠা ফোস্কার তরল ও ব্যবহৃত কাপড় থেকে এ রোগ ছড়ায়। ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার ১-২ দিন আগে থেকে শুরু করে ফোঁস্কাগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত একজন রোগী সবচেয়ে বেশি সংক্রামক থাকেন। এর প্রধান লক্ষণের মধ্যে রয়েছে হালকা থেকে মাঝারি জ্বর, শরীর ও মাথাব্যথা, তীব্র ক্লান্তি এবং পরে মুখ, বুক ও পিঠ থেকে শুরু করে সারা শরীরে তরলযুক্ত চুলকানিপ্রবণ লালচে ফোঁস্কা ওঠা।

সাধারণত ১ থেকে ১০ বছর বয়সি unvaccinated শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হলেও প্রাপ্তবয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস বা পানিশূন্যতার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। সংক্রমণ রোধে রোগীকে সম্পূর্ণ আলাদা ঘরে রাখতে হবে এবং সুতির ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ পানিতে নিমপাতা ফুটিয়ে ঠান্ডা করে গোসল করালে চুলকানি কমে, তবে কোনোভাবেই নখ দিয়ে ফোঁস্কা ফাটানো যাবে না। চুলকানি উপশমে চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যালামাইন লোশন বা অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

মুখের ভেতরের ক্ষতের কারণে খাবার গিলতে কষ্ট হতে পারে বিধায় এই সময়ে রোগীর ডায়েটের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। পানিশূন্যতা দূর করতে প্রচুর পানি, ডাবের পানি, ডালের পানি ও ঘরে তৈরি স্যুপ খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি তেল ছাড়া সিদ্ধ সবজি, দই এবং পেঁপে, আপেল, আনারস ও ব্রকলির মতো ফলমূল ও সবজি খাওয়া উচিত। অন্যদিকে মাখন, অতিরিক্ত তেল-মসলা ও ঝাল খাবার এবং আখরোট, চিনাবাদাম ও কিসমিসের মতো ড্রাই ফ্রুটস পরিহার করতে হবে, কারণ এগুলো পক্সের জীবাণুর বংশবিস্তারে ও প্রদাহ বাড়াতে সহায়তা করে।

জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খাওয়া গেলেও শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেওয়া যাবে না এবং ভাইরাল অসুখে শিশুদের কখনোই অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না। যদি জ্বর ৪ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তীব্র কাশি, শ্বাসকষ্ট, অনবরত বমি বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয় কিংবা ফোঁস্কা থেকে পুঁজ বের হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সঠিক সময়ে টিকা নেওয়া এবং রোগীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র সম্পূর্ণ আলাদা রাখা।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ