ঢাকা নিউজ

দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ



দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
ছবি : সংগৃহীত

দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুবাই পুলিশ ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করেছে বলে রোববার নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজি) শাহাদাত হোসেন। সাবেক এই পুলিশ প্রধানের গ্রেফতারের খবরটি আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে তার দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ, ক্রসফায়ার ও গুমের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের আদেশে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে বেনজীরের বিরুদ্ধে দুদকের ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং বাকি পাঁচটি মামলায় প্রায় ৭৬ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত চলছে। মূলত পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের দুটি মামলার ভিত্তিতে এই রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল এবং এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটি একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র এবং গ্রেফতারই চূড়ান্ত কিছু নয়। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহি ও বিচার নিশ্চিত করা গেলেই কেবল একটি পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধীর রাজনৈতিক সংযোগ বা ক্ষমতা নির্বিশেষে আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব হলেই কেবল মূল বার্তাটি প্রতিষ্ঠিত হবে।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আমিরাত কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রেফতারের ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা এক্সট্রাডিশন আবেদন পাঠাতে হবে, যার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। এদিকে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এই গ্রেফতার প্রমাণ করেছে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে ২০২৪ সালের এপ্রিলে বেনজীর ও তার পরিবারের সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। এরপরই তিনি সপরিবারে দেশ ছাড়েন। পরবর্তীতে আদালতের আদেশে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বান্দরবান, উত্তরা, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে তাদের নামে থাকা শত শত বিঘা জমি, ৮টি ফ্ল্যাট, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার, ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৩৩টি ব্যাংক হিসাব ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়। এর আগে, র‌্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালীন বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।

দুবাইয়ে গ্রেফতারের পর ২০২৪ সালের ৪ মে বেনজীর আহমেদের কৌশলে দেশত্যাগের বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজটি নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় সাধারণ যাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক শারীরিক তল্লাশি ছাড়াই তিনি শেষ নিরাপত্তা চৌকি পার হন এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন। দুদকের অনুসন্ধান শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় তার এই দেশত্যাগের ঘটনাটি তখন থেকেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুবাই পুলিশ ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করেছে বলে রোববার নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজি) শাহাদাত হোসেন। সাবেক এই পুলিশ প্রধানের গ্রেফতারের খবরটি আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে তার দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ, ক্রসফায়ার ও গুমের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের আদেশে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে বেনজীরের বিরুদ্ধে দুদকের ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং বাকি পাঁচটি মামলায় প্রায় ৭৬ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত চলছে। মূলত পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের দুটি মামলার ভিত্তিতে এই রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল এবং এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটি একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র এবং গ্রেফতারই চূড়ান্ত কিছু নয়। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহি ও বিচার নিশ্চিত করা গেলেই কেবল একটি পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধীর রাজনৈতিক সংযোগ বা ক্ষমতা নির্বিশেষে আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব হলেই কেবল মূল বার্তাটি প্রতিষ্ঠিত হবে।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আমিরাত কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রেফতারের ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা এক্সট্রাডিশন আবেদন পাঠাতে হবে, যার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। এদিকে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এই গ্রেফতার প্রমাণ করেছে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে ২০২৪ সালের এপ্রিলে বেনজীর ও তার পরিবারের সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। এরপরই তিনি সপরিবারে দেশ ছাড়েন। পরবর্তীতে আদালতের আদেশে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বান্দরবান, উত্তরা, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে তাদের নামে থাকা শত শত বিঘা জমি, ৮টি ফ্ল্যাট, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার, ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৩৩টি ব্যাংক হিসাব ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়। এর আগে, র‌্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালীন বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।

দুবাইয়ে গ্রেফতারের পর ২০২৪ সালের ৪ মে বেনজীর আহমেদের কৌশলে দেশত্যাগের বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজটি নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় সাধারণ যাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক শারীরিক তল্লাশি ছাড়াই তিনি শেষ নিরাপত্তা চৌকি পার হন এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন। দুদকের অনুসন্ধান শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় তার এই দেশত্যাগের ঘটনাটি তখন থেকেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ