জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে পৌঁছেছে। সোমবার (১৫ জুন) রায়ের কপি পাওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী আনুপাতিক হারে আসামিদের সাজা দেওয়ায় প্রসিকিউশন সন্তুষ্ট। তবে পূর্ণাঙ্গ রায়টি আরও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে যদি সাজা বৃদ্ধির প্রয়োজন মনে হয়, তবে পরবর্তীতে আপিল করা হবে।
রায়ের প্রাথমিক পর্যালোচনার বিষয়ে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, ট্রাইব্যুনাল অত্যন্ত বিচারিক মনস্তত্ত্ব (জুডিসিয়াল মাইন্ড) প্রয়োগ করে এই জাজমেন্ট দিয়েছেন। মামলায় অভিযুক্ত ৩০ জন আসামির প্রত্যেককেই দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেওয়া হয়েছে। আবু সাঈদকে সরাসরি গুলি করার অভিযোগে মূল অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড এবং সেই গুলিতে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করার অপরাধে অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যারা লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে ধাওয়া করেছিল, তাদেরও অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তৎকালীন এএসআই (সশস্ত্র) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড এবং তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান, তাজহাট থানার পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম ও এসআই বিভূতি ভূষণ রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি পৃথক ধারায় আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বাকি ২৫ জন আসামির মধ্যে ৫ জনের ১০ বছর, ৮ জনের ৫ বছর এবং ১১ জনের ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে। এছাড়া অপর একজন আসামির হাজতবাসের সময়কালকেই তার দণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ৬ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন এবং বাকি ২৪ জন এখনো পলাতক রয়েছেন।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে পৌঁছেছে। সোমবার (১৫ জুন) রায়ের কপি পাওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী আনুপাতিক হারে আসামিদের সাজা দেওয়ায় প্রসিকিউশন সন্তুষ্ট। তবে পূর্ণাঙ্গ রায়টি আরও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে যদি সাজা বৃদ্ধির প্রয়োজন মনে হয়, তবে পরবর্তীতে আপিল করা হবে।
রায়ের প্রাথমিক পর্যালোচনার বিষয়ে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, ট্রাইব্যুনাল অত্যন্ত বিচারিক মনস্তত্ত্ব (জুডিসিয়াল মাইন্ড) প্রয়োগ করে এই জাজমেন্ট দিয়েছেন। মামলায় অভিযুক্ত ৩০ জন আসামির প্রত্যেককেই দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেওয়া হয়েছে। আবু সাঈদকে সরাসরি গুলি করার অভিযোগে মূল অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড এবং সেই গুলিতে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করার অপরাধে অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যারা লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে ধাওয়া করেছিল, তাদেরও অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তৎকালীন এএসআই (সশস্ত্র) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড এবং তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান, তাজহাট থানার পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম ও এসআই বিভূতি ভূষণ রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি পৃথক ধারায় আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বাকি ২৫ জন আসামির মধ্যে ৫ জনের ১০ বছর, ৮ জনের ৫ বছর এবং ১১ জনের ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে। এছাড়া অপর একজন আসামির হাজতবাসের সময়কালকেই তার দণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ৬ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন এবং বাকি ২৪ জন এখনো পলাতক রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন