২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সবাইকে খুশি করার মতো একটি 'জনতুষ্টিমূলক বাজেট' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
জিএম কাদের বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে যে যা চেয়েছে তা-ই দেওয়ার অঙ্গীকারের মাধ্যমে জনগণকে এক ধরনের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সংস্থান কোথা থেকে হবে তা খোদ বাজেট প্রণেতারাও হয়তো বলতে পারবেন না। নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানি শুল্কে রেয়াত এবং নানা খাতের বরাদ্দকে স্বাগত জানালেও তিনি একে একটি প্রথাগত পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে বর্তমানে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নেই, ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং বেকারত্ব বাড়ছে। এছাড়া ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কোনো প্রতিফলন বা দূরদর্শিতা এই বাজেটে দেখা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বাজেটের গাণিতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরে জাপা চেয়ারম্যান জানান:
প্রাক্কলিত পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
পরিচালন ব্যয়ের ঘাটতি পূরণ করতেই দেশি ও বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে, যেখানে ঘাটতির পরিমাণ থাকবে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬১১ কোটি টাকা।
উন্নয়ন ব্যয়ের বরাদ্দের জন্য বৈদেশিক ঋণসহ আরও ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে।
ফলে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪ লাখ ৬৬ presc হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। এই বিশাল ঋণনির্ভর বাজেট কোনো বিচারেই বাস্তবায়নযোগ্য নয়।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং রাত ১০টার পর রাস্তায় স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে পারছে না। এছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সমর্থক বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা হয়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে। দেশের এই সংকটকালে প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষ ভুলে জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তারা দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানমুখী বাজেট প্রণয়নের দাবি জানান।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সবাইকে খুশি করার মতো একটি 'জনতুষ্টিমূলক বাজেট' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
জিএম কাদের বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে যে যা চেয়েছে তা-ই দেওয়ার অঙ্গীকারের মাধ্যমে জনগণকে এক ধরনের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সংস্থান কোথা থেকে হবে তা খোদ বাজেট প্রণেতারাও হয়তো বলতে পারবেন না। নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানি শুল্কে রেয়াত এবং নানা খাতের বরাদ্দকে স্বাগত জানালেও তিনি একে একটি প্রথাগত পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে বর্তমানে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নেই, ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং বেকারত্ব বাড়ছে। এছাড়া ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কোনো প্রতিফলন বা দূরদর্শিতা এই বাজেটে দেখা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বাজেটের গাণিতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরে জাপা চেয়ারম্যান জানান:
প্রাক্কলিত পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
পরিচালন ব্যয়ের ঘাটতি পূরণ করতেই দেশি ও বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে, যেখানে ঘাটতির পরিমাণ থাকবে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬১১ কোটি টাকা।
উন্নয়ন ব্যয়ের বরাদ্দের জন্য বৈদেশিক ঋণসহ আরও ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে।
ফলে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪ লাখ ৬৬ presc হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। এই বিশাল ঋণনির্ভর বাজেট কোনো বিচারেই বাস্তবায়নযোগ্য নয়।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং রাত ১০টার পর রাস্তায় স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে পারছে না। এছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সমর্থক বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা হয়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে। দেশের এই সংকটকালে প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষ ভুলে জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তারা দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানমুখী বাজেট প্রণয়নের দাবি জানান।

আপনার মতামত লিখুন