জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ঋণখেলাপি, মুতা বিয়ে, পরকীয়া এবং হেফাজত নেতা মামুনুল হককে নিয়ে বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনের ১০ম দিনের কার্যক্রম শুরু হলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনো বক্তব্য রাখেননি। বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক ২০২১ সালে মামুনুল হককে ঘিরে আলোচিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘মাওলানা মামুনুল হক বাজেট নিয়ে সরকারের পতন ঘটানোর বড় বড় কথা বললেও গাজীপুরে নারীসহ ধরা পড়ার বিষয়টি আসলে কী ছিল?’ এছাড়া তিনি মুতা বিয়ের বিধান নিয়ে স্পিকারের কাছে জানতে চান। তাঁর এই বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকে ইশারায় থামতে দেখা গেলে তিনি ইসলামী ব্যাংকের ওপর সংসদে দীর্ঘ আলোচনা এবং সিগারেট-মদের শুল্কায়ন নিয়ে কথা বলেন। আবু আশফাকের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সাধারণত যার সংসদে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এখানে অভিযোগ তোলা সমীচীন নয়। মুতা বিয়ের ব্যাখ্যা দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আগের কালে নিয়ম ছিল কেউ বিদেশে গেলে সাময়িক এক মাসের জন্য সো-কল্ড বিয়ে করতে পারতেন বা একজন সঙ্গী খুঁজে নিতে পারতেন।’ তবে এসব অপ্রাসঙ্গিক ও রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জের সিদ্ধান্ত নেন। চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও অসংসদীয় বক্তব্যগুলো কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, মামুনুল হককে নিয়ে দেওয়া তথ্যটি ভুল। তিনি মুতা বিয়ে করেননি, বরং নিয়ম মেনে বিয়ে করেছিলেন এবং ঘটনাটি গাজীপুরে নয়, নারায়ণগঞ্জে ঘটেছিল যেখানে তাকে হেনস্তা করা হয়। অন্য এক পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতের এমপি মুজিবুর রহমান এ প্রসঙ্গটি থামানোর নির্দেশ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘একসময় মুতা বিয়ে করা যেত। তবে এটি এখন সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নিষিদ্ধ হয়ে গেছে, এখন আর তা করা যাবে না।’ উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের একটি রিসোর্টে মামুনুল হককে নারীসহ অবরুদ্ধ করার পর হেফাজতের কর্মী-সমর্থকরা সেখানে হামলা চালিয়ে তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ঋণখেলাপি, মুতা বিয়ে, পরকীয়া এবং হেফাজত নেতা মামুনুল হককে নিয়ে বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনের ১০ম দিনের কার্যক্রম শুরু হলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনো বক্তব্য রাখেননি। বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক ২০২১ সালে মামুনুল হককে ঘিরে আলোচিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘মাওলানা মামুনুল হক বাজেট নিয়ে সরকারের পতন ঘটানোর বড় বড় কথা বললেও গাজীপুরে নারীসহ ধরা পড়ার বিষয়টি আসলে কী ছিল?’ এছাড়া তিনি মুতা বিয়ের বিধান নিয়ে স্পিকারের কাছে জানতে চান। তাঁর এই বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকে ইশারায় থামতে দেখা গেলে তিনি ইসলামী ব্যাংকের ওপর সংসদে দীর্ঘ আলোচনা এবং সিগারেট-মদের শুল্কায়ন নিয়ে কথা বলেন। আবু আশফাকের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সাধারণত যার সংসদে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এখানে অভিযোগ তোলা সমীচীন নয়। মুতা বিয়ের ব্যাখ্যা দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আগের কালে নিয়ম ছিল কেউ বিদেশে গেলে সাময়িক এক মাসের জন্য সো-কল্ড বিয়ে করতে পারতেন বা একজন সঙ্গী খুঁজে নিতে পারতেন।’ তবে এসব অপ্রাসঙ্গিক ও রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জের সিদ্ধান্ত নেন। চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও অসংসদীয় বক্তব্যগুলো কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, মামুনুল হককে নিয়ে দেওয়া তথ্যটি ভুল। তিনি মুতা বিয়ে করেননি, বরং নিয়ম মেনে বিয়ে করেছিলেন এবং ঘটনাটি গাজীপুরে নয়, নারায়ণগঞ্জে ঘটেছিল যেখানে তাকে হেনস্তা করা হয়। অন্য এক পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতের এমপি মুজিবুর রহমান এ প্রসঙ্গটি থামানোর নির্দেশ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘একসময় মুতা বিয়ে করা যেত। তবে এটি এখন সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নিষিদ্ধ হয়ে গেছে, এখন আর তা করা যাবে না।’ উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের একটি রিসোর্টে মামুনুল হককে নারীসহ অবরুদ্ধ করার পর হেফাজতের কর্মী-সমর্থকরা সেখানে হামলা চালিয়ে তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল।

আপনার মতামত লিখুন