মানবদেহের জিন রক্ষা এবং জিনের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত একটি বিশেষ প্রোটিন নারী ও পুরুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ বা বার্ধক্যের প্রক্রিয়ায় ভিন্নতার পেছনে অন্যতম ভূমিকা পালন করতে পারে। বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী 'ন্যাচার'-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাস জেনারেল ব্রিগহাম’ এবং স্পেনের ‘জোসেপ কারেরাস লিউকেমিয়া ইনস্টিটিউট’-এর গবেষকরা।
গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ‘এসআইআরটি৭’ নামের একটি প্রোটিন—যা মূলত কোষের মানসিক চাপ ও বার্ধক্যজনিত প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে—তা ‘এক্স ক্রোমোজোম’-এর সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত নারীদের শরীরে দুটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে এবং কোষের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য স্বাভাবিক নিয়মে একটি ক্রোমোজোম নিষ্ক্রিয় থাকে।
গবেষকরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন যে, শরীরে যখন এসআইআরটি৭ প্রোটিনের অভাব ঘটে, তখন এই স্বাভাবিক ভারসাম্য ভেঙে পড়ে। এর ফলে নিষ্ক্রিয় এক্স ক্রোমোজোমটি অতিরিক্ত মাত্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং সক্রিয় ক্রোমোজোমটি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা স্বাভাবিক জিন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে এবং সক্রিয় এক্স ক্রোমোজোমটির ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করাসহ সামগ্রিক জিনোমের স্থায়িত্ব নষ্ট করে।
এই প্রোটিনের অভাবজনিত ক্ষতি পুরুষ ইঁদুরের তুলনায় নারী ইঁদুরের শরীরে অনেক বেশি স্পষ্ট ধরা পড়েছে। এসআইআরটি৭ প্রোটিনবিহীন নারী ইঁদুরগুলোর শরীরে ব্যাপক ডিএনএ ক্ষতি, স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি এবং তুলনামূলকভাবে কম আয়ু লক্ষ্য করেছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষক দলটি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই আবিষ্কার বার্ধক্য, রোগের ঝুঁকি এবং নারী ও পুরুষের শরীরের ভিন্ন ভিন্ন জৈবিক প্রতিক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এক্স ক্রোমোজোম কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় তা জানার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নারী ও পুরুষকে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করে এমন জটিল রোগগুলোর আরও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করা সম্ভব হতে পারে।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
মানবদেহের জিন রক্ষা এবং জিনের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত একটি বিশেষ প্রোটিন নারী ও পুরুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ বা বার্ধক্যের প্রক্রিয়ায় ভিন্নতার পেছনে অন্যতম ভূমিকা পালন করতে পারে। বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী 'ন্যাচার'-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাস জেনারেল ব্রিগহাম’ এবং স্পেনের ‘জোসেপ কারেরাস লিউকেমিয়া ইনস্টিটিউট’-এর গবেষকরা।
গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ‘এসআইআরটি৭’ নামের একটি প্রোটিন—যা মূলত কোষের মানসিক চাপ ও বার্ধক্যজনিত প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে—তা ‘এক্স ক্রোমোজোম’-এর সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত নারীদের শরীরে দুটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে এবং কোষের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য স্বাভাবিক নিয়মে একটি ক্রোমোজোম নিষ্ক্রিয় থাকে।
গবেষকরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন যে, শরীরে যখন এসআইআরটি৭ প্রোটিনের অভাব ঘটে, তখন এই স্বাভাবিক ভারসাম্য ভেঙে পড়ে। এর ফলে নিষ্ক্রিয় এক্স ক্রোমোজোমটি অতিরিক্ত মাত্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং সক্রিয় ক্রোমোজোমটি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা স্বাভাবিক জিন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে এবং সক্রিয় এক্স ক্রোমোজোমটির ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করাসহ সামগ্রিক জিনোমের স্থায়িত্ব নষ্ট করে।
এই প্রোটিনের অভাবজনিত ক্ষতি পুরুষ ইঁদুরের তুলনায় নারী ইঁদুরের শরীরে অনেক বেশি স্পষ্ট ধরা পড়েছে। এসআইআরটি৭ প্রোটিনবিহীন নারী ইঁদুরগুলোর শরীরে ব্যাপক ডিএনএ ক্ষতি, স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি এবং তুলনামূলকভাবে কম আয়ু লক্ষ্য করেছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষক দলটি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই আবিষ্কার বার্ধক্য, রোগের ঝুঁকি এবং নারী ও পুরুষের শরীরের ভিন্ন ভিন্ন জৈবিক প্রতিক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এক্স ক্রোমোজোম কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় তা জানার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নারী ও পুরুষকে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করে এমন জটিল রোগগুলোর আরও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করা সম্ভব হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন