নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানি প্রদান করছে এবং এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮১০ জনকে এ ভাতা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-১ আসনের সদস্য মো. মাজেদুর রহমানের টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে কর্মরত ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সরকারের কাছে না থাকলেও ২০২০ সালের হিসাব অনুযায়ী ৩ লাখ ৩১ হাজার ১২৫টি মসজিদের বিপরীতে এই সম্মিলিত সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার ২৫০ জন হতে পারে। এছাড়া ঢাকা-৪ আসনের সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষকরা বর্তমানে মাসিক ৬ হাজার টাকা সম্মানি পাচ্ছেন, যা ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে ধীরে ধীরে ৭ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত করা হবে।
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশের লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে চালু হওয়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (অষ্টম পর্যায়)’ বর্তমানে সারা দেশে সম্প্রসারিত হয়েছে এবং প্রকল্পের সংশোধনের সময় কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হবে। অন্যদিকে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ‘মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’-এর ষষ্ঠ পর্যায় বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে, যা আগামী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে এ ধরনের কোনো প্রকল্প বর্তমানে না থাকলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট বর্তমানে সারা দেশে ৭ হাজার ৪০০টি মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনার পাশাপাশি পুরোহিত ও মন্দির পরিচর্যাকারীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ৫৬৪টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার মধ্যে ৩৪২টি মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ১৮৬টির কাজ চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট মসজিদগুলোর নির্মাণকাজ ২০external৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রোকেয়া বেগমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নারী ও তরুণদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে ধর্মীয় নেতা, ইমাম ও শিক্ষকদের মাধ্যমে সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা প্রচারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কক্সবাজার-৩ আসনের সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালে সৌদি আরবে হজ পালনকারী বাংলাদেশির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮ হাজার ৬০০ জন কমেছে এবং চলতি বছর মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন বাংলাদেশি হজ পালন করেছেন। সবশেষে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯৬২ সালের ওয়াকফ অধ্যাদেশের ৬৪ ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন আইনি ও উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তি পুনরুদ্ধার সম্ভব এবং গত এক বছরে অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে ১৫১ দশমিক ১৭৯৫ একর ওয়াকফ জমি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে তালিকাভুক্ত ওয়াকফ ও দেবোত্তর সম্পত্তি প্রকৃতপক্ষে কতটুকু উদ্ধার করা হয়েছে— সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেননি ধর্মমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানি প্রদান করছে এবং এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮১০ জনকে এ ভাতা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-১ আসনের সদস্য মো. মাজেদুর রহমানের টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে কর্মরত ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সরকারের কাছে না থাকলেও ২০২০ সালের হিসাব অনুযায়ী ৩ লাখ ৩১ হাজার ১২৫টি মসজিদের বিপরীতে এই সম্মিলিত সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার ২৫০ জন হতে পারে। এছাড়া ঢাকা-৪ আসনের সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষকরা বর্তমানে মাসিক ৬ হাজার টাকা সম্মানি পাচ্ছেন, যা ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে ধীরে ধীরে ৭ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত করা হবে।
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশের লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে চালু হওয়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (অষ্টম পর্যায়)’ বর্তমানে সারা দেশে সম্প্রসারিত হয়েছে এবং প্রকল্পের সংশোধনের সময় কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হবে। অন্যদিকে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ‘মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’-এর ষষ্ঠ পর্যায় বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে, যা আগামী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে এ ধরনের কোনো প্রকল্প বর্তমানে না থাকলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট বর্তমানে সারা দেশে ৭ হাজার ৪০০টি মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনার পাশাপাশি পুরোহিত ও মন্দির পরিচর্যাকারীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ৫৬৪টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার মধ্যে ৩৪২টি মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ১৮৬টির কাজ চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট মসজিদগুলোর নির্মাণকাজ ২০external৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রোকেয়া বেগমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নারী ও তরুণদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে ধর্মীয় নেতা, ইমাম ও শিক্ষকদের মাধ্যমে সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা প্রচারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কক্সবাজার-৩ আসনের সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালে সৌদি আরবে হজ পালনকারী বাংলাদেশির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮ হাজার ৬০০ জন কমেছে এবং চলতি বছর মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন বাংলাদেশি হজ পালন করেছেন। সবশেষে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯৬২ সালের ওয়াকফ অধ্যাদেশের ৬৪ ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন আইনি ও উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তি পুনরুদ্ধার সম্ভব এবং গত এক বছরে অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে ১৫১ দশমিক ১৭৯৫ একর ওয়াকফ জমি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে তালিকাভুক্ত ওয়াকফ ও দেবোত্তর সম্পত্তি প্রকৃতপক্ষে কতটুকু উদ্ধার করা হয়েছে— সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেননি ধর্মমন্ত্রী।

আপনার মতামত লিখুন