ঢাকা নিউজ

ইরানকে ট্রাম্পের অকথ্য ভাষায় হুমকি



ইরানকে ট্রাম্পের অকথ্য ভাষায় হুমকি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে নজিরবিহীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৫ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানকে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, আগামী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরানে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’ (Power Plant Day) এবং ‘সেতু দিবস’ (Bridge Day) পালন করা হবে, যা দেশটির ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে সরাসরি ইরানি কর্তৃপক্ষকে গালিগালাজ করে বলেন, এখনই ওই ‘নরকের প্রণালি’ (হরমুজ প্রণালি) দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে হবে। অন্যথায় ইরানকে আক্ষরিক অর্থেই নরকে পরিণত করার হুমকি দিয়ে তিনি লেখেন, “হয় এখনই পথ ছেড়ে দাও, না হলে তোমাদের জীবন নরক বানিয়ে দেব—শুধু চেয়ে চেয়ে দেখ!” উসকানিমূলক এই বার্তার শেষে তিনি বিদ্রূপাত্মকভাবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দটিও যুক্ত করেছেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক বিস্ময় ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

মূলত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাম্প্রতিক অবরোধ ও ড্রোন হামলার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে ট্রাম্পের এমন সরাসরি সামরিক ধ্বংসযজ্ঞের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ট্রাম্পের এই বার্তার পর বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে এবং পেন্টাগন ও আইআরজিসি উভয় পক্ষই যুদ্ধের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আলটিমেটাম কেবল মৌখিক হুমকি নয়, বরং এটি ইরানি অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার একটি আগাম সঙ্কেত। দ্য গার্ডিয়ানের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এখন যেকোনো মুহূর্তে ইরানের প্রধান প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও কৌশলগত সেতুগুলোতে বিমান হামলার নির্দেশ দিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো বিশ্ব এখন ৭ এপ্রিলের দিকে তাকিয়ে আছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইরানকে ট্রাম্পের অকথ্য ভাষায় হুমকি

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইরানের জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে নজিরবিহীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৫ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানকে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, আগামী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরানে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’ (Power Plant Day) এবং ‘সেতু দিবস’ (Bridge Day) পালন করা হবে, যা দেশটির ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে সরাসরি ইরানি কর্তৃপক্ষকে গালিগালাজ করে বলেন, এখনই ওই ‘নরকের প্রণালি’ (হরমুজ প্রণালি) দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে হবে। অন্যথায় ইরানকে আক্ষরিক অর্থেই নরকে পরিণত করার হুমকি দিয়ে তিনি লেখেন, “হয় এখনই পথ ছেড়ে দাও, না হলে তোমাদের জীবন নরক বানিয়ে দেব—শুধু চেয়ে চেয়ে দেখ!” উসকানিমূলক এই বার্তার শেষে তিনি বিদ্রূপাত্মকভাবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দটিও যুক্ত করেছেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক বিস্ময় ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

মূলত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাম্প্রতিক অবরোধ ও ড্রোন হামলার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে ট্রাম্পের এমন সরাসরি সামরিক ধ্বংসযজ্ঞের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ট্রাম্পের এই বার্তার পর বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে এবং পেন্টাগন ও আইআরজিসি উভয় পক্ষই যুদ্ধের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আলটিমেটাম কেবল মৌখিক হুমকি নয়, বরং এটি ইরানি অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার একটি আগাম সঙ্কেত। দ্য গার্ডিয়ানের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এখন যেকোনো মুহূর্তে ইরানের প্রধান প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও কৌশলগত সেতুগুলোতে বিমান হামলার নির্দেশ দিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো বিশ্ব এখন ৭ এপ্রিলের দিকে তাকিয়ে আছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ