ঢাকা নিউজ

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প: বালু উত্তোলনের নামে ৪৫৬ কোটি টাকা লুটপাটের আয়োজন!



মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প: বালু উত্তোলনের নামে ৪৫৬ কোটি টাকা লুটপাটের আয়োজন!
ছবি : সংগৃহীত

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে বালু সরবরাহকে কেন্দ্র করে সরকারি কোষাগারের প্রায় ৪৫৬ কোটি টাকা লোপাটের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কোনো দরপত্র বা পরিবেশ ছাড়পত্রের তোয়াক্কা না করেই ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাগর থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে, যেখানে উত্তোলনের খরচ বহন করবে সরকার আর লাভ করবে ঠিকাদার। ১৬ এপ্রিল ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) যুগান্তরের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই অনিয়মের চিত্র ফুটে ওঠে।

অনিয়মের মূল চিত্র: সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অধীনে ২৭.২ কিলোমিটার এই সড়ক নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটির জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ বালুর মূল্য প্রতি ঘনফুট ৬ টাকা ৯৪ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও ড্রেজিং বা উত্তোলন খরচ বাবদ ৪ টাকা ৫৬ পয়সা সরকারি কোষাগার থেকে ঠিকাদারকে পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর ফলে সরকার রাজস্ব হিসেবে পাবে মাত্র ২ টাকা ৩৭ পয়সা, যা সাধারণ বাজারের তুলনায় নামমাত্র। অথচ অন্য একটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব খরচে উত্তোলনের পাশাপাশি ৫ টাকা ৩৭ পয়সা রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

পরিবেশগত ঝুঁকি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন: পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবেশগত ছাড়পত্র বা এনভাইরনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) ছাড়াই বালু উত্তোলনের অনুমতি পেয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার দোহাই দিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করলেও, প্রকল্পে কত বালু প্রয়োজন বা ঠিকাদার কত দামে তা সরবরাহ করবে সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

টিআইবি-র প্রতিক্রিয়া: এই ঘটনাকে জনগণের সম্পদের চরম লুটপাট ও ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রের সম্পদ যেখানে উচ্চমূল্যে বিক্রির সুযোগ রয়েছে, সেখানে বিশেষ মহলকে সুবিধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই অনুমোদনের পথে বাধা হওয়ায় একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (এডিসি) উচ্চপর্যায়ের তদবিরের মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে।

এই বিশাল লুটপাটের আয়োজনে সরকারের শত শত কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং এর নেপথ্যে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গোপন আঁতাত রয়েছে বলে অভিযোগ জোরালো হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প: বালু উত্তোলনের নামে ৪৫৬ কোটি টাকা লুটপাটের আয়োজন!

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে বালু সরবরাহকে কেন্দ্র করে সরকারি কোষাগারের প্রায় ৪৫৬ কোটি টাকা লোপাটের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কোনো দরপত্র বা পরিবেশ ছাড়পত্রের তোয়াক্কা না করেই ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাগর থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে, যেখানে উত্তোলনের খরচ বহন করবে সরকার আর লাভ করবে ঠিকাদার। ১৬ এপ্রিল ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) যুগান্তরের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই অনিয়মের চিত্র ফুটে ওঠে।

অনিয়মের মূল চিত্র: সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অধীনে ২৭.২ কিলোমিটার এই সড়ক নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটির জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ বালুর মূল্য প্রতি ঘনফুট ৬ টাকা ৯৪ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও ড্রেজিং বা উত্তোলন খরচ বাবদ ৪ টাকা ৫৬ পয়সা সরকারি কোষাগার থেকে ঠিকাদারকে পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর ফলে সরকার রাজস্ব হিসেবে পাবে মাত্র ২ টাকা ৩৭ পয়সা, যা সাধারণ বাজারের তুলনায় নামমাত্র। অথচ অন্য একটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব খরচে উত্তোলনের পাশাপাশি ৫ টাকা ৩৭ পয়সা রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

পরিবেশগত ঝুঁকি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন: পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবেশগত ছাড়পত্র বা এনভাইরনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) ছাড়াই বালু উত্তোলনের অনুমতি পেয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার দোহাই দিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করলেও, প্রকল্পে কত বালু প্রয়োজন বা ঠিকাদার কত দামে তা সরবরাহ করবে সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

টিআইবি-র প্রতিক্রিয়া: এই ঘটনাকে জনগণের সম্পদের চরম লুটপাট ও ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রের সম্পদ যেখানে উচ্চমূল্যে বিক্রির সুযোগ রয়েছে, সেখানে বিশেষ মহলকে সুবিধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই অনুমোদনের পথে বাধা হওয়ায় একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (এডিসি) উচ্চপর্যায়ের তদবিরের মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে।

এই বিশাল লুটপাটের আয়োজনে সরকারের শত শত কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং এর নেপথ্যে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গোপন আঁতাত রয়েছে বলে অভিযোগ জোরালো হচ্ছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ