ঢাকা নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: আসামির বয়ানে অসঙ্গতি ও চাঞ্চল্যকর তথ্য



যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: আসামির বয়ানে অসঙ্গতি ও চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পিএইচডি গবেষণারত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তকারী প্রসিকিউটররা নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন। আদালতের নথি ও সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহ-এর দেওয়া পরস্পরবিরোধী জবানবন্দি এবং হত্যাকাণ্ডের সময়ের একটি বিস্তারিত টাইমলাইন এই রহস্য উদঘাটনে মূল ভূমিকা রাখছে।

নিহত শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়, যার ময়নাতদন্ত রিপোর্টে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশামের বিরুদ্ধে লিমন এবং তার নিখোঁজ বন্ধু নাহিদা বৃষ্টিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও বৃষ্টির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তবে সম্প্রতি জলাশয় থেকে কিছু দেহাংশ উদ্ধারের পর কর্মকর্তাদের ধারণা তিনিও একই পরিণতির শিকার হয়েছেন।

তদন্তে দেখা গেছে, আসামি হিশাম শুরুতে ১৬ এপ্রিল রাতে লিমন ও বৃষ্টির সঙ্গে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করলেও মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাকিংয়ে তার গাড়ির অবস্থান ক্লিয়ারওয়াটার বিচে শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি স্বীকার করেন যে, লিমন ও তার বান্ধবীকে তিনি সেখানে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এছাড়া তার আঙুলে থাকা ব্যান্ডেজ সম্পর্কে ‘পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে আহত’ হওয়ার দাবি এবং অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধারকৃত আলামত ধ্বংসের সরঞ্জাম কেনার রসিদ তার বিরুদ্ধে জোরালো প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।

অপরাধের নৃশংসতা ও জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রসিকিউটররা আসামিকে জামিন না দিয়ে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন জানিয়েছেন। হিশামের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা ছাড়াও আলামত নষ্ট এবং মরদেহ গুম করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবারের শুনানিতে আদালত তার পরবর্তী কারাবাসের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: আসামির বয়ানে অসঙ্গতি ও চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পিএইচডি গবেষণারত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তকারী প্রসিকিউটররা নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন। আদালতের নথি ও সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহ-এর দেওয়া পরস্পরবিরোধী জবানবন্দি এবং হত্যাকাণ্ডের সময়ের একটি বিস্তারিত টাইমলাইন এই রহস্য উদঘাটনে মূল ভূমিকা রাখছে।

নিহত শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়, যার ময়নাতদন্ত রিপোর্টে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশামের বিরুদ্ধে লিমন এবং তার নিখোঁজ বন্ধু নাহিদা বৃষ্টিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও বৃষ্টির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তবে সম্প্রতি জলাশয় থেকে কিছু দেহাংশ উদ্ধারের পর কর্মকর্তাদের ধারণা তিনিও একই পরিণতির শিকার হয়েছেন।

তদন্তে দেখা গেছে, আসামি হিশাম শুরুতে ১৬ এপ্রিল রাতে লিমন ও বৃষ্টির সঙ্গে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করলেও মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাকিংয়ে তার গাড়ির অবস্থান ক্লিয়ারওয়াটার বিচে শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি স্বীকার করেন যে, লিমন ও তার বান্ধবীকে তিনি সেখানে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এছাড়া তার আঙুলে থাকা ব্যান্ডেজ সম্পর্কে ‘পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে আহত’ হওয়ার দাবি এবং অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধারকৃত আলামত ধ্বংসের সরঞ্জাম কেনার রসিদ তার বিরুদ্ধে জোরালো প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।

অপরাধের নৃশংসতা ও জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রসিকিউটররা আসামিকে জামিন না দিয়ে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন জানিয়েছেন। হিশামের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা ছাড়াও আলামত নষ্ট এবং মরদেহ গুম করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবারের শুনানিতে আদালত তার পরবর্তী কারাবাসের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ