হরমুজ প্রণালিতে চলমান চরম উত্তেজনা ও মার্কিন অবরোধের মাঝেই আন্তর্জাতিক তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেক’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আগামী মাস থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সিদ্ধান্তকে বিশ্লেষকরা সৌদি আরবের প্রতি সরাসরি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার একটি সুনিপুণ কৌশল হিসেবে দেখছেন। দ্য মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাহ্যিকভাবে এই সিদ্ধান্তের মূলে রয়েছে তেল উৎপাদন নিয়ে সৌদি আরবের সাথে আমিরাতের দীর্ঘদিনের নীতিগত বিরোধ। সৌদি আরব সবসময় তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন সীমিত রাখার পক্ষে থাকলেও, আমিরাত তাদের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়িয়ে উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে এগোতে চায়। গ্লোবাল রিস্ক ম্যানেজমেন্টের প্রধান বিশ্লেষক আরনে লোহমান রাসমুসেনের মতে, মাটির নিচে থাকা তেলের ভবিষ্যৎ মূল্যের অনিশ্চয়তার কারণেই আমিরাত দ্রুত উত্তোলনের এই অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের গবেষক এলেন ওয়াল্ডের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি সহায়তার বিনিময়ে ওপেককে দুর্বল করার কোনো গোপন সমঝোতাও এর পেছনে থাকতে পারে। ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম উৎপাদক হিসেবে আমিরাতের এই প্রস্থান সংগঠনটির ৬৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আঘাত হতে পারে। ট্রাম্প যেহেতু দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকের সমালোচনা করে আসছেন, তাই এই পদক্ষেপ তার বিশ্বাস অর্জনের একটি মাধ্যম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়েও সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যকার প্রতিযোগিতা এখন প্রকাশ্য। ইয়েমেন, সুদান ও লিবিয়া সংকটে দুই দেশ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। এদিকে যুদ্ধের কারণে আমিরাতের তেল রপ্তানি দৈনিক ৩৫ লাখ ব্যারেল থেকে ১৯ লাখ ব্যারেলে নেমে এলেও, তারা ভবিষ্যতের জন্য বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওপেকের শর্ত থেকে মুক্ত হয়ে আমিরাত এখন নিজের জ্বালানি নীতি স্বাধীনভাবে পরিচালনা করবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে চলমান চরম উত্তেজনা ও মার্কিন অবরোধের মাঝেই আন্তর্জাতিক তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেক’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আগামী মাস থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সিদ্ধান্তকে বিশ্লেষকরা সৌদি আরবের প্রতি সরাসরি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার একটি সুনিপুণ কৌশল হিসেবে দেখছেন। দ্য মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাহ্যিকভাবে এই সিদ্ধান্তের মূলে রয়েছে তেল উৎপাদন নিয়ে সৌদি আরবের সাথে আমিরাতের দীর্ঘদিনের নীতিগত বিরোধ। সৌদি আরব সবসময় তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন সীমিত রাখার পক্ষে থাকলেও, আমিরাত তাদের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়িয়ে উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে এগোতে চায়। গ্লোবাল রিস্ক ম্যানেজমেন্টের প্রধান বিশ্লেষক আরনে লোহমান রাসমুসেনের মতে, মাটির নিচে থাকা তেলের ভবিষ্যৎ মূল্যের অনিশ্চয়তার কারণেই আমিরাত দ্রুত উত্তোলনের এই অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের গবেষক এলেন ওয়াল্ডের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি সহায়তার বিনিময়ে ওপেককে দুর্বল করার কোনো গোপন সমঝোতাও এর পেছনে থাকতে পারে। ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম উৎপাদক হিসেবে আমিরাতের এই প্রস্থান সংগঠনটির ৬৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আঘাত হতে পারে। ট্রাম্প যেহেতু দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকের সমালোচনা করে আসছেন, তাই এই পদক্ষেপ তার বিশ্বাস অর্জনের একটি মাধ্যম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়েও সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যকার প্রতিযোগিতা এখন প্রকাশ্য। ইয়েমেন, সুদান ও লিবিয়া সংকটে দুই দেশ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। এদিকে যুদ্ধের কারণে আমিরাতের তেল রপ্তানি দৈনিক ৩৫ লাখ ব্যারেল থেকে ১৯ লাখ ব্যারেলে নেমে এলেও, তারা ভবিষ্যতের জন্য বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওপেকের শর্ত থেকে মুক্ত হয়ে আমিরাত এখন নিজের জ্বালানি নীতি স্বাধীনভাবে পরিচালনা করবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন