ঢাকা নিউজ

টিকায় কমছে হামের সংক্রমণ ৩০ উপজেলায় স্বস্তি



টিকায় কমছে হামের সংক্রমণ ৩০ উপজেলায় স্বস্তি
ছবি : সংগৃহীত

দেশে হামের প্রকোপ বাড়লেও টিকাদান কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার পর সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলোতে নতুন করে হামে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বুধবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

ভ্যাকসিন কার্যকারিতা দেখাতে সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ৩০ উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কার্যক্রম চালুর পর বর্তমানে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা নেই বললেই চলে। বিশেষ করে ১৭ এপ্রিলের পর থেকে ওইসব এলাকায় রোগীর সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে কমতে শুরু করেছে এবং একই প্রবণতা ৫টি সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেও দেখা যাচ্ছে।

চলমান ক্যাম্পেইনের কাভারেজ সন্তোষজনক হলেও দীর্ঘমেয়াদে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রুটিন ইপিআই কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। এই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। জাতীয়ভাবে টিকার কাভারেজ ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত করা গেলে আলাদা ক্যাম্পেইনের প্রয়োজন পড়বে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

হামের এমআর টিকা শুরু হয় ৯ মাস থেকে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাসে হওয়ায় অনেক অভিভাবক এটি দিতে ভুলে যান। অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের দুই ডোজ টিকা প্রদানের বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। মোট জাতীয় কাভারেজ ৯৫ শতাংশ হলে হামের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

প্রথম পর্যায়ে ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ এপ্রিল থেকে চার সিটি কর্পোরেশনে টিকাদান শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে বিনামূল্যে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬১ শতাংশ।

মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় টিকা ও সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং রুটিন ইপিআই কার্যক্রমের টিকাও পর্যাপ্ত রয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে টিকার নতুন চালান হাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে, সেখানে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


টিকায় কমছে হামের সংক্রমণ ৩০ উপজেলায় স্বস্তি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশে হামের প্রকোপ বাড়লেও টিকাদান কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার পর সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলোতে নতুন করে হামে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বুধবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

ভ্যাকসিন কার্যকারিতা দেখাতে সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ৩০ উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কার্যক্রম চালুর পর বর্তমানে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা নেই বললেই চলে। বিশেষ করে ১৭ এপ্রিলের পর থেকে ওইসব এলাকায় রোগীর সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে কমতে শুরু করেছে এবং একই প্রবণতা ৫টি সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেও দেখা যাচ্ছে।

চলমান ক্যাম্পেইনের কাভারেজ সন্তোষজনক হলেও দীর্ঘমেয়াদে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রুটিন ইপিআই কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। এই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। জাতীয়ভাবে টিকার কাভারেজ ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত করা গেলে আলাদা ক্যাম্পেইনের প্রয়োজন পড়বে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

হামের এমআর টিকা শুরু হয় ৯ মাস থেকে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাসে হওয়ায় অনেক অভিভাবক এটি দিতে ভুলে যান। অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের দুই ডোজ টিকা প্রদানের বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। মোট জাতীয় কাভারেজ ৯৫ শতাংশ হলে হামের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

প্রথম পর্যায়ে ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ এপ্রিল থেকে চার সিটি কর্পোরেশনে টিকাদান শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে বিনামূল্যে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬১ শতাংশ।

মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় টিকা ও সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং রুটিন ইপিআই কার্যক্রমের টিকাও পর্যাপ্ত রয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে টিকার নতুন চালান হাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে, সেখানে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ