শরীরের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হলো হৃৎপিণ্ড। পায়ের অবস্থান হৃৎপিণ্ড থেকে সবচেয়ে দূরে হওয়ায় রক্ত চলাচলে কোনো সমস্যা হলে তার প্রভাব প্রায়ই পায়ে ফুটে ওঠে। যদিও পা দেখে সরাসরি রোগ নির্ণয় সম্ভব নয়, তবে কিছু পরিবর্তন হার্টের বড় বিপদের সংকেত হতে পারে।
যেসব লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন:
পা ফুলে যাওয়া (Edema): কোনো আঘাত ছাড়াই যদি হঠাৎ পায়ের পাতা বা গোড়ালি ফুলে যায় এবং আঙুল দিয়ে চাপ দিলে গর্ত হয়ে থাকে, তবে তা হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ হতে পারে। হার্ট ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে না পারলে শরীরে তরল জমে যায়, যা অভিকর্ষের টানে পায়ে গিয়ে জমা হয়।
হাঁটার সময় ব্যথা বা টান ধরা: কিছুটা পথ হাঁটলেই যদি পায়ে ক্লান্তি লাগে বা পেশিতে টান ধরে, তবে তা 'পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ' (PAD)-এর লক্ষণ হতে পারে। ধমনিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে এমনটি হয়। এই সমস্যা ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
পা ঠান্ডা ও ফ্যাকাশে হওয়া: যদি পা সবসময় ঠান্ডা লাগে, ত্বকের রং ফ্যাকাশে বা নীলচে হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে পায়ে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছাচ্ছে না।
অবশ ভাব বা ঝিনঝিনি: পায়ে নিয়মিত ঝিনঝিনি ধরা বা হঠাৎ অবশ হয়ে যাওয়া রক্ত সঞ্চালনের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
ঘা শুকাতে দেরি হওয়া: পায়ে কোনো ক্ষত বা কাটা দীর্ঘ সময় ধরে না শুকালে তা রক্ত চলাচলের গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
প্রতিরোধে করণীয়:
১. পায়ের এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ২. ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ৩. ধূমপান পুরোপুরি বর্জন করুন। ৪. নিয়মিত হাঁটাচলা বা হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন।
শরীরের এই 'সতর্কবার্তা'গুলো সঠিক সময়ে ধরতে পারলে বড় ধরনের হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
শরীরের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হলো হৃৎপিণ্ড। পায়ের অবস্থান হৃৎপিণ্ড থেকে সবচেয়ে দূরে হওয়ায় রক্ত চলাচলে কোনো সমস্যা হলে তার প্রভাব প্রায়ই পায়ে ফুটে ওঠে। যদিও পা দেখে সরাসরি রোগ নির্ণয় সম্ভব নয়, তবে কিছু পরিবর্তন হার্টের বড় বিপদের সংকেত হতে পারে।
যেসব লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন:
পা ফুলে যাওয়া (Edema): কোনো আঘাত ছাড়াই যদি হঠাৎ পায়ের পাতা বা গোড়ালি ফুলে যায় এবং আঙুল দিয়ে চাপ দিলে গর্ত হয়ে থাকে, তবে তা হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ হতে পারে। হার্ট ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে না পারলে শরীরে তরল জমে যায়, যা অভিকর্ষের টানে পায়ে গিয়ে জমা হয়।
হাঁটার সময় ব্যথা বা টান ধরা: কিছুটা পথ হাঁটলেই যদি পায়ে ক্লান্তি লাগে বা পেশিতে টান ধরে, তবে তা 'পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ' (PAD)-এর লক্ষণ হতে পারে। ধমনিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে এমনটি হয়। এই সমস্যা ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
পা ঠান্ডা ও ফ্যাকাশে হওয়া: যদি পা সবসময় ঠান্ডা লাগে, ত্বকের রং ফ্যাকাশে বা নীলচে হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে পায়ে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছাচ্ছে না।
অবশ ভাব বা ঝিনঝিনি: পায়ে নিয়মিত ঝিনঝিনি ধরা বা হঠাৎ অবশ হয়ে যাওয়া রক্ত সঞ্চালনের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
ঘা শুকাতে দেরি হওয়া: পায়ে কোনো ক্ষত বা কাটা দীর্ঘ সময় ধরে না শুকালে তা রক্ত চলাচলের গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
প্রতিরোধে করণীয়:
১. পায়ের এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ২. ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ৩. ধূমপান পুরোপুরি বর্জন করুন। ৪. নিয়মিত হাঁটাচলা বা হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন।
শরীরের এই 'সতর্কবার্তা'গুলো সঠিক সময়ে ধরতে পারলে বড় ধরনের হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন