ঢাকা নিউজ

পশ্চিমা অস্ত্রের রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করছে ইরান



পশ্চিমা অস্ত্রের রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করছে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় ইরানের ভূখণ্ডে পড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে তেহরান। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির তথ্যমতে, বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমোজগান প্রদেশে ১৫টি ভারী মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং বা কারিগরি বিশ্লেষণের জন্য গবেষণা ইউনিটে পাঠিয়েছে।

উদ্ধার করা এসব অস্ত্রের মধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী 'জিবিইউ-৫৭ বাংকার বাস্টার' বোমাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়ায় কোনো যন্ত্র বা অস্ত্রের নকশা ও কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করে সেটির প্রযুক্তি আয়ত্ত করা হয়।

ইরানের স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ক এই ঘটনাকে মার্কিন ও ইসরাইলি প্রযুক্তির জন্য একটি 'কেলেঙ্কারি' হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্র এখন ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য গবেষণাগারে পরিণত হয়েছে, যেখানে শত্রুপক্ষের উন্নত প্রযুক্তির কোড ভেঙে তা নকল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পশ্চিমা বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরান উন্নত মার্কিন ও ইসরাইলি অস্ত্রের প্রযুক্তিগত গোপনীয়তা উন্মোচন করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে বাস্তব উদ্বেগ রয়েছে। এর আগেও ইরান ২০১১ সালে মার্কিন ড্রোন এবং হক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তি সফলভাবে নকল করার নজির স্থাপন করেছিল।

ইরানের কট্টরপন্থি কায়হান পত্রিকার সম্পাদক শরীয়তমাদারি দাবি করেছেন, যুদ্ধের সময় টমাহক ও এজিএম-১৫৮ ক্ষেপণাস্ত্রসহ এমকিউ-৯ ড্রোনের মতো অসংখ্য অত্যাধুনিক মার্কিন অস্ত্র ইরানে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি এই প্রযুক্তিগুলো চীন ও রাশিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সরকারপন্থি বিশ্লেষক ও কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে একটি 'বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের সূচনা' হিসেবে দেখছেন। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক এহসান তাকদাসির মতে, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক প্রযুক্তির নিরাপত্তায় নতুন করে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হতে পারে এবং ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


পশ্চিমা অস্ত্রের রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করছে ইরান

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় ইরানের ভূখণ্ডে পড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে তেহরান। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির তথ্যমতে, বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমোজগান প্রদেশে ১৫টি ভারী মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং বা কারিগরি বিশ্লেষণের জন্য গবেষণা ইউনিটে পাঠিয়েছে।

উদ্ধার করা এসব অস্ত্রের মধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী 'জিবিইউ-৫৭ বাংকার বাস্টার' বোমাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়ায় কোনো যন্ত্র বা অস্ত্রের নকশা ও কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করে সেটির প্রযুক্তি আয়ত্ত করা হয়।

ইরানের স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ক এই ঘটনাকে মার্কিন ও ইসরাইলি প্রযুক্তির জন্য একটি 'কেলেঙ্কারি' হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্র এখন ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য গবেষণাগারে পরিণত হয়েছে, যেখানে শত্রুপক্ষের উন্নত প্রযুক্তির কোড ভেঙে তা নকল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পশ্চিমা বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরান উন্নত মার্কিন ও ইসরাইলি অস্ত্রের প্রযুক্তিগত গোপনীয়তা উন্মোচন করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে বাস্তব উদ্বেগ রয়েছে। এর আগেও ইরান ২০১১ সালে মার্কিন ড্রোন এবং হক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তি সফলভাবে নকল করার নজির স্থাপন করেছিল।

ইরানের কট্টরপন্থি কায়হান পত্রিকার সম্পাদক শরীয়তমাদারি দাবি করেছেন, যুদ্ধের সময় টমাহক ও এজিএম-১৫৮ ক্ষেপণাস্ত্রসহ এমকিউ-৯ ড্রোনের মতো অসংখ্য অত্যাধুনিক মার্কিন অস্ত্র ইরানে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি এই প্রযুক্তিগুলো চীন ও রাশিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সরকারপন্থি বিশ্লেষক ও কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে একটি 'বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের সূচনা' হিসেবে দেখছেন। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক এহসান তাকদাসির মতে, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক প্রযুক্তির নিরাপত্তায় নতুন করে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হতে পারে এবং ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হবে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ