রাজধানী বাড্ডার এএমজেড হাসপাতালের ভুল ল্যাব রিপোর্টের কারণে দুই বছর বয়সি শিশু আইরা অপচিকিৎসার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির শরীরে উচ্চমাত্রার ও ব্যয়বহুল অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের ফলে সে আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্রেফ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে শিশুটিকে চার দিন ‘জিম্মি’ রেখে এই চিকিৎসা প্রদান করেছে।
ঠান্ডা-কাশিতে আক্রান্ত আইরাকে গত ১১ এপ্রিল এএমজেড হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. জান্নাতুল মাওয়ার কাছে নেওয়া হলে তিনি কিছু পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। ১৫ এপ্রিল ইউরিন সি/এস রিপোর্টে দেখা যায়, সব ওরাল অ্যান্টিবায়োটিক ‘রেজিস্ট্যান্স’ বা অকার্যকর হয়ে গেছে। চিকিৎসকের সতর্কবার্তায় আতঙ্কিত হয়ে পরিবার শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং টানা চার দিন তিনবেলা করে উচ্চমাত্রার ইঞ্জেকশন পুশ করা হয়।
ভর্তির ঠিক আগে সন্দেহের বশে শিশুটির বাবা গোপনে দ্বিতীয়বার ইউরিন স্যাম্পল জমা দেন। ১৮ এপ্রিল সেই রিপোর্ট হাতে এলে দেখা যায়, শিশুটির ইউরিনে কোনো ব্যাকটেরিয়াল গ্রোথ বা ইনফেকশনই নেই। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, তিন দিনের ব্যবধানে ব্যাকটেরিয়ার জিনগত বৈশিষ্ট্য বা রেজিস্ট্যান্স সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া বিজ্ঞানসম্মত নয়, যা ল্যাব রিপোর্টে ভুল বা জালিয়াতির ইঙ্গিত দেয়।
ভুক্তভোগী শিশুর মা সানজিদা আক্তার এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে জানান, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাবে ভবিষ্যতে সন্তানের কোনো শারীরিক সমস্যা হলে তার দায়ভার হাসপাতালকেই নিতে হবে। অন্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও রিপোর্টগুলোর মধ্যে অসামঞ্জস্যতা খুঁজে পেয়েছেন। শিশুটির বাবা রেজোয়ান কবির অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হলে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়ানো হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অপারেশন বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার নাইম হোসেন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও দুই রিপোর্টের আকাশ-পাতাল পার্থক্যের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি দাবি করেছেন যে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শিশুটির পরিবার এই অপচিকিৎসার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
রাজধানী বাড্ডার এএমজেড হাসপাতালের ভুল ল্যাব রিপোর্টের কারণে দুই বছর বয়সি শিশু আইরা অপচিকিৎসার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির শরীরে উচ্চমাত্রার ও ব্যয়বহুল অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের ফলে সে আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্রেফ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে শিশুটিকে চার দিন ‘জিম্মি’ রেখে এই চিকিৎসা প্রদান করেছে।
ঠান্ডা-কাশিতে আক্রান্ত আইরাকে গত ১১ এপ্রিল এএমজেড হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. জান্নাতুল মাওয়ার কাছে নেওয়া হলে তিনি কিছু পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। ১৫ এপ্রিল ইউরিন সি/এস রিপোর্টে দেখা যায়, সব ওরাল অ্যান্টিবায়োটিক ‘রেজিস্ট্যান্স’ বা অকার্যকর হয়ে গেছে। চিকিৎসকের সতর্কবার্তায় আতঙ্কিত হয়ে পরিবার শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং টানা চার দিন তিনবেলা করে উচ্চমাত্রার ইঞ্জেকশন পুশ করা হয়।
ভর্তির ঠিক আগে সন্দেহের বশে শিশুটির বাবা গোপনে দ্বিতীয়বার ইউরিন স্যাম্পল জমা দেন। ১৮ এপ্রিল সেই রিপোর্ট হাতে এলে দেখা যায়, শিশুটির ইউরিনে কোনো ব্যাকটেরিয়াল গ্রোথ বা ইনফেকশনই নেই। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, তিন দিনের ব্যবধানে ব্যাকটেরিয়ার জিনগত বৈশিষ্ট্য বা রেজিস্ট্যান্স সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া বিজ্ঞানসম্মত নয়, যা ল্যাব রিপোর্টে ভুল বা জালিয়াতির ইঙ্গিত দেয়।
ভুক্তভোগী শিশুর মা সানজিদা আক্তার এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে জানান, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাবে ভবিষ্যতে সন্তানের কোনো শারীরিক সমস্যা হলে তার দায়ভার হাসপাতালকেই নিতে হবে। অন্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও রিপোর্টগুলোর মধ্যে অসামঞ্জস্যতা খুঁজে পেয়েছেন। শিশুটির বাবা রেজোয়ান কবির অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হলে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়ানো হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অপারেশন বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার নাইম হোসেন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও দুই রিপোর্টের আকাশ-পাতাল পার্থক্যের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি দাবি করেছেন যে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শিশুটির পরিবার এই অপচিকিৎসার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

আপনার মতামত লিখুন