ঢাকা নিউজ

পশ্চিমবঙ্গে নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট: পদত্যাগে নারাজ মমতা



পশ্চিমবঙ্গে নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট: পদত্যাগে নারাজ মমতা
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পদত্যাগ না করার ঘোষণা দেওয়ায় রাজ্যে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সাধারণত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে নতুন সরকার আসা পর্যন্ত 'কেয়ারটেকার' হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু মমতা ব্যানার্জি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। এমনকি তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, "তারা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই আজকের দিনটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হোক। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে হোক।"

তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর বর্তমান সরকারের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু বিজয়ী দল বিজেপি জানিয়েছে, তারা আগামী ৯ মে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন শপথ নেবে। ফলে মাঝখানের এই ২৪ ঘণ্টা রাজ্যে কোনো বৈধ মন্ত্রিসভা থাকছে না। আইনজ্ঞদের মতে, সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মেয়াদের পর মন্ত্রিসভা আর ক্ষমতায় থাকতে পারে না। এই শূন্যতা পূরণে সাময়িকভাবে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

রাজ্যপালের ভূমিকা ও পরবর্তী পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ২৯৩টি আসনের গেজেট নোটিফিকেশন রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছে। প্রবীণ আইনজীবী হরিশ সালভে জানিয়েছেন, রাজ্যপাল চাইলে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করতে পারেন। মমতা পদত্যাগ করলে তাকে নতুন সরকার গঠন পর্যন্ত কেয়ারটেকার হিসেবে থাকার অনুরোধ করা যেত, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অল্প সময়ের জন্য হলেও রাষ্ট্রপতি শাসন প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিজেপি সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে মমতার অনড় অবস্থানের কারণে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন চরম উত্তপ্ত এবং শেষ পর্যন্ত এই সংকটের সমাধান কোন পথে হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো ভারত।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গে নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট: পদত্যাগে নারাজ মমতা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পদত্যাগ না করার ঘোষণা দেওয়ায় রাজ্যে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সাধারণত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে নতুন সরকার আসা পর্যন্ত 'কেয়ারটেকার' হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু মমতা ব্যানার্জি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। এমনকি তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, "তারা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই আজকের দিনটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হোক। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে হোক।"

তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর বর্তমান সরকারের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু বিজয়ী দল বিজেপি জানিয়েছে, তারা আগামী ৯ মে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন শপথ নেবে। ফলে মাঝখানের এই ২৪ ঘণ্টা রাজ্যে কোনো বৈধ মন্ত্রিসভা থাকছে না। আইনজ্ঞদের মতে, সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মেয়াদের পর মন্ত্রিসভা আর ক্ষমতায় থাকতে পারে না। এই শূন্যতা পূরণে সাময়িকভাবে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

রাজ্যপালের ভূমিকা ও পরবর্তী পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ২৯৩টি আসনের গেজেট নোটিফিকেশন রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছে। প্রবীণ আইনজীবী হরিশ সালভে জানিয়েছেন, রাজ্যপাল চাইলে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করতে পারেন। মমতা পদত্যাগ করলে তাকে নতুন সরকার গঠন পর্যন্ত কেয়ারটেকার হিসেবে থাকার অনুরোধ করা যেত, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অল্প সময়ের জন্য হলেও রাষ্ট্রপতি শাসন প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিজেপি সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে মমতার অনড় অবস্থানের কারণে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন চরম উত্তপ্ত এবং শেষ পর্যন্ত এই সংকটের সমাধান কোন পথে হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো ভারত।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ