টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের দুর্যোগ কাটিয়ে নেত্রকোনায় দেখা মিলেছে ঝলমলে রোদের। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তীব্র রোদের উপস্থিতিতে হাওড় অঞ্চলের কিষাণ-কিষাণিদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। গত কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে যেসব ধান ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তা শুকাতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। আটপাড়া ও খালিয়াজুরীসহ বিভিন্ন উপজেলার খলাগুলোতে (ধান শুকানোর স্থান) এখন চিরচেনা বৈশাখী আমেজ বিরাজ করছে।
তবে এই স্বস্তির মাঝেও রয়েছে ফসল হারানোর হাহাকার। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। যদিও স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে, জেলার ৭০ হাজার কৃষকের প্রায় ২২ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩১৩ কোটি টাকা। অনেক বর্গাচাষি ধারদেনা করে আবাদ করলেও ফসল তলিয়ে যাওয়ায় এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আগামী তিন দিন পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা থাকলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির শঙ্কা রয়ে গেছে। ফলে কৃষকরা এখন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ধান গোলায় তোলার চেষ্টা করছেন। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সোমেশ্বরী, কংস ও ধনুসহ প্রধান নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে, যা নতুন করে ধান তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমিয়ে আনবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকার এরই মধ্যে তিন মাসের খাদ্য সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল হক জানিয়েছেন, দলমত নির্বিশেষে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সব ধরনের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক দিনে হাওড়ের বাকি ধানটুকু নিরাপদে ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের দুর্যোগ কাটিয়ে নেত্রকোনায় দেখা মিলেছে ঝলমলে রোদের। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তীব্র রোদের উপস্থিতিতে হাওড় অঞ্চলের কিষাণ-কিষাণিদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। গত কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে যেসব ধান ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তা শুকাতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। আটপাড়া ও খালিয়াজুরীসহ বিভিন্ন উপজেলার খলাগুলোতে (ধান শুকানোর স্থান) এখন চিরচেনা বৈশাখী আমেজ বিরাজ করছে।
তবে এই স্বস্তির মাঝেও রয়েছে ফসল হারানোর হাহাকার। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। যদিও স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে, জেলার ৭০ হাজার কৃষকের প্রায় ২২ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩১৩ কোটি টাকা। অনেক বর্গাচাষি ধারদেনা করে আবাদ করলেও ফসল তলিয়ে যাওয়ায় এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আগামী তিন দিন পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা থাকলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির শঙ্কা রয়ে গেছে। ফলে কৃষকরা এখন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ধান গোলায় তোলার চেষ্টা করছেন। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সোমেশ্বরী, কংস ও ধনুসহ প্রধান নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে, যা নতুন করে ধান তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমিয়ে আনবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকার এরই মধ্যে তিন মাসের খাদ্য সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল হক জানিয়েছেন, দলমত নির্বিশেষে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সব ধরনের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক দিনে হাওড়ের বাকি ধানটুকু নিরাপদে ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন