ঢাকা নিউজ

জটিলতায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, আমানত ফেরাতে অনিশ্চয়তা



জটিলতায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, আমানত ফেরাতে অনিশ্চয়তা
ছবি : সংগৃহীত

পাঁচটি রুগ্ন ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন এবং এসআইবিএল-কে একীভূত করা হলেও প্রায় দেড় বছর ধরে নিজেদের জমানো টাকা তুলতে না পেরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করছেন ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘ সময় ধরে আমানত আটকে থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পাঁচ মাস পার হলেও ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, ভিন্ন ভিন্ন কর্মপদ্ধতি এবং আইনি জটিলতায় রাষ্ট্রীয় এই উদ্যোগ এখন ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, এর মধ্যেই সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক বা এসআইবিএল এই সম্মিলিত কাঠামো থেকে বেরিয়ে আবারও স্বতন্ত্র ব্যাংক হিসেবে চলার আবেদন করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবগুলো খারাপ ব্যাংককে একসাথে করার ভুল কৌশল এবং আমানতকারীদের আস্থার সংকটই এই স্থবিরতার মূল কারণ।

সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। এই আইনের একটি ধারার সুযোগ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎকারী সাবেক মালিকরা পুনরায় ব্যাংকগুলোর মালিকানায় ফিরে আসতে পারেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আশ্বস্ত করেছেন যে, সংশোধিত আইনের কঠোর শর্তের কারণে অপরাধীদের ফেরার সুযোগ থাকবে না।

বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি না হওয়ার কথা স্বীকার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন পর্যন্ত কোনো দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীও এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখায়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আপাতত এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং আমানতকারীদের জমানো টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ প্রয়োজনে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ পাবেন।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


জটিলতায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, আমানত ফেরাতে অনিশ্চয়তা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

পাঁচটি রুগ্ন ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন এবং এসআইবিএল-কে একীভূত করা হলেও প্রায় দেড় বছর ধরে নিজেদের জমানো টাকা তুলতে না পেরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করছেন ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘ সময় ধরে আমানত আটকে থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পাঁচ মাস পার হলেও ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, ভিন্ন ভিন্ন কর্মপদ্ধতি এবং আইনি জটিলতায় রাষ্ট্রীয় এই উদ্যোগ এখন ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, এর মধ্যেই সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক বা এসআইবিএল এই সম্মিলিত কাঠামো থেকে বেরিয়ে আবারও স্বতন্ত্র ব্যাংক হিসেবে চলার আবেদন করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবগুলো খারাপ ব্যাংককে একসাথে করার ভুল কৌশল এবং আমানতকারীদের আস্থার সংকটই এই স্থবিরতার মূল কারণ।

সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। এই আইনের একটি ধারার সুযোগ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎকারী সাবেক মালিকরা পুনরায় ব্যাংকগুলোর মালিকানায় ফিরে আসতে পারেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আশ্বস্ত করেছেন যে, সংশোধিত আইনের কঠোর শর্তের কারণে অপরাধীদের ফেরার সুযোগ থাকবে না।

বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি না হওয়ার কথা স্বীকার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন পর্যন্ত কোনো দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীও এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখায়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আপাতত এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং আমানতকারীদের জমানো টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ প্রয়োজনে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ পাবেন।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ