ঢাকা নিউজ

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ফ্রন্ট গঠনে ব্যর্থ হয়ে ক্ষুব্ধ আমিরাত



ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ফ্রন্ট গঠনে ব্যর্থ হয়ে ক্ষুব্ধ আমিরাত
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিমান হামলার জবাবে সৌদি আরব ও কাতারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে প্রতিবেশী দেশগুলো এই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় আবুধাবি চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে বলে ব্লুমবার্গ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু করে, তার পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ অঞ্চলের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে একাধিক ফোনালাপ করলেও রিয়াদ ও দোহার পক্ষ থেকে একে তাদের যুদ্ধ নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়।

মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে ইরান যখন উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছিল, তখন আবুধাবিসহ পুরো অঞ্চলের বন্দর, বিমানবন্দর এবং আবাসিক এলাকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এমনকি ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়, যা তাদের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত দ্রুত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং ইসরাইলের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলেও, অন্য উপসাগরীয় দেশগুলো এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করায় সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যকার সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যায়।

এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জের ধরেই গত এপ্রিলের শেষের দিকে জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক ত্যাগ করার মতো ঐতিহাসিক ও আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেয় আমিরাত। উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থন ছাড়াই মার্চ ও এপ্রিল মাসে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত আকারে নিজস্ব হামলা চালায় আবুধাবি এবং বর্তমানে তারা জিসিসি-সহ অন্যান্য আঞ্চলিক সংস্থায় নিজেদের সদস্যপদ বজায় রাখার বিষয়টিও পুনর্বিবেচনা করছে। যুদ্ধবিরতির আগে ইরান আমিরাত লক্ষ্য করে প্রায় ৩,০০০ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব ও ওমানও নিয়মিত ইরানি হামলার শিকার হয়।

এই সংকটে আমিরাত ও ইসরাইল গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং ইরানের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে যৌথভাবে কাজ করেছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি নিশ্চিত করেছেন, ইসরাইল ইতোমধ্যেই আমিরাতকে রক্ষায় আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং তা পরিচালনার জন্য সেনা পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব গত মার্চ মাসে ইরানের ওপর নিজস্ব উদ্যোগে কিছু হামলা চালালেও পরবর্তীতে সুর নরম করে এবং পাকিস্তান-নেতৃত্বাধীন শান্তিপ্রক্রিয়ায় অংশ নেয়, যেখানে আমিরাতকে যথেষ্ট মূল্যায়ন না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে আবুধাবি ইসলামাবাদের ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সুবিধা স্থগিত করে দেয় এবং পরে সৌদি আরব এগিয়ে এসে পাকিস্তানকে সেই আর্থিক সংকট থেকে উদ্ধার করে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ফ্রন্ট গঠনে ব্যর্থ হয়ে ক্ষুব্ধ আমিরাত

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

ইরানের বিমান হামলার জবাবে সৌদি আরব ও কাতারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে প্রতিবেশী দেশগুলো এই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় আবুধাবি চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে বলে ব্লুমবার্গ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু করে, তার পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ অঞ্চলের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে একাধিক ফোনালাপ করলেও রিয়াদ ও দোহার পক্ষ থেকে একে তাদের যুদ্ধ নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়।

মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে ইরান যখন উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছিল, তখন আবুধাবিসহ পুরো অঞ্চলের বন্দর, বিমানবন্দর এবং আবাসিক এলাকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এমনকি ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়, যা তাদের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত দ্রুত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং ইসরাইলের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলেও, অন্য উপসাগরীয় দেশগুলো এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করায় সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যকার সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যায়।

এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জের ধরেই গত এপ্রিলের শেষের দিকে জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক ত্যাগ করার মতো ঐতিহাসিক ও আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেয় আমিরাত। উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থন ছাড়াই মার্চ ও এপ্রিল মাসে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত আকারে নিজস্ব হামলা চালায় আবুধাবি এবং বর্তমানে তারা জিসিসি-সহ অন্যান্য আঞ্চলিক সংস্থায় নিজেদের সদস্যপদ বজায় রাখার বিষয়টিও পুনর্বিবেচনা করছে। যুদ্ধবিরতির আগে ইরান আমিরাত লক্ষ্য করে প্রায় ৩,০০০ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব ও ওমানও নিয়মিত ইরানি হামলার শিকার হয়।

এই সংকটে আমিরাত ও ইসরাইল গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং ইরানের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে যৌথভাবে কাজ করেছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি নিশ্চিত করেছেন, ইসরাইল ইতোমধ্যেই আমিরাতকে রক্ষায় আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং তা পরিচালনার জন্য সেনা পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব গত মার্চ মাসে ইরানের ওপর নিজস্ব উদ্যোগে কিছু হামলা চালালেও পরবর্তীতে সুর নরম করে এবং পাকিস্তান-নেতৃত্বাধীন শান্তিপ্রক্রিয়ায় অংশ নেয়, যেখানে আমিরাতকে যথেষ্ট মূল্যায়ন না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে আবুধাবি ইসলামাবাদের ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সুবিধা স্থগিত করে দেয় এবং পরে সৌদি আরব এগিয়ে এসে পাকিস্তানকে সেই আর্থিক সংকট থেকে উদ্ধার করে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ