গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিটা) অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের গোপালপুর উপজেলার পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের একটি গ্রামীণ সড়কে আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ৬শ মিটার মাটি ভরাট ও ইটের সলিং করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের সভাপতি সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম এবং ঠিকাদার তার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় দিনের বেলায় রাস্তার ইট তুলে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান এবং তা দিয়ে পাকা বাথরুম ও পায়খানা নির্মাণ করেন।
গ্রামের মোড়ল আব্দুল হালিম জানান, কৃষকদের হালচাষ ও ফসল পরিবহণের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সংস্কার করা হয়েছিল। রাস্তার ইট তোলার কারণ জানতে চাইলে রাস্তা পাকা করার জন্য খোয়া বানানো হচ্ছে বলে জানানো হলেও পরে দেখা যায় সেই ইট দিয়ে তাদের বাড়িতে বাথরুম নির্মাণ করা হয়েছে। এদিকে বর্ষা শুরু হওয়ায় ইটবিহীন সড়কের মাটি ধসে পড়ছে এবং মাঠ থেকে বোরো ধান ঘরে তুলতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। গ্রামের প্রবীণ আব্দুল জলিল জানান, স্বামী-স্ত্রী মিলে সরকারি টাকায় রাস্তা বানিয়ে আবার তারাই দিনের বেলায় ইট তুলে নিয়ে গোসলখানা ও পাকা পায়খানা বানিয়েছেন এবং প্রভাবশালী হওয়ায় কিছু বলতে গেলেই তারা ভয়ভীতি দেখান। সোমবার সরেজমিন ইউপি সদস্যের বাড়িতে গিয়ে রাস্তার কাজের সাইনবোর্ড বাথরুমের পাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কাজ শেষে সাড়ে তিন হাজার ইট উদ্বৃত্ত ছিল এবং সেই ইট দিয়েই তিনি বাড়িতে বাথরুম নির্মাণ করেছেন; উপজেলা প্রশাসন কখনো ইট ফেরত চায়নি। তবে ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, গ্রামের কিছু দুষ্ট লোক রাতের আঁধারে রাস্তার ইট চুরি করে নিয়ে গেছে। রাস্তাটি পুনঃসংস্কারের জন্য নতুন প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে বিধায় হারিয়ে যাওয়া ইট নিয়ে প্রশাসনকে কিছু জানানো হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গোপালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে। এর মধ্যে নিজ খরচে ইট কিনে রাস্তা চলাচলের উপযোগী না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিটা) অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের গোপালপুর উপজেলার পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের একটি গ্রামীণ সড়কে আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ৬শ মিটার মাটি ভরাট ও ইটের সলিং করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের সভাপতি সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম এবং ঠিকাদার তার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় দিনের বেলায় রাস্তার ইট তুলে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান এবং তা দিয়ে পাকা বাথরুম ও পায়খানা নির্মাণ করেন।
গ্রামের মোড়ল আব্দুল হালিম জানান, কৃষকদের হালচাষ ও ফসল পরিবহণের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সংস্কার করা হয়েছিল। রাস্তার ইট তোলার কারণ জানতে চাইলে রাস্তা পাকা করার জন্য খোয়া বানানো হচ্ছে বলে জানানো হলেও পরে দেখা যায় সেই ইট দিয়ে তাদের বাড়িতে বাথরুম নির্মাণ করা হয়েছে। এদিকে বর্ষা শুরু হওয়ায় ইটবিহীন সড়কের মাটি ধসে পড়ছে এবং মাঠ থেকে বোরো ধান ঘরে তুলতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। গ্রামের প্রবীণ আব্দুল জলিল জানান, স্বামী-স্ত্রী মিলে সরকারি টাকায় রাস্তা বানিয়ে আবার তারাই দিনের বেলায় ইট তুলে নিয়ে গোসলখানা ও পাকা পায়খানা বানিয়েছেন এবং প্রভাবশালী হওয়ায় কিছু বলতে গেলেই তারা ভয়ভীতি দেখান। সোমবার সরেজমিন ইউপি সদস্যের বাড়িতে গিয়ে রাস্তার কাজের সাইনবোর্ড বাথরুমের পাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কাজ শেষে সাড়ে তিন হাজার ইট উদ্বৃত্ত ছিল এবং সেই ইট দিয়েই তিনি বাড়িতে বাথরুম নির্মাণ করেছেন; উপজেলা প্রশাসন কখনো ইট ফেরত চায়নি। তবে ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, গ্রামের কিছু দুষ্ট লোক রাতের আঁধারে রাস্তার ইট চুরি করে নিয়ে গেছে। রাস্তাটি পুনঃসংস্কারের জন্য নতুন প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে বিধায় হারিয়ে যাওয়া ইট নিয়ে প্রশাসনকে কিছু জানানো হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গোপালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে। এর মধ্যে নিজ খরচে ইট কিনে রাস্তা চলাচলের উপযোগী না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন