ঢাকা নিউজ

আসন খালি থাকলেও বিশ্বকাপে দর্শকসংখ্যা বেশি দেখানোর কারণ



আসন খালি থাকলেও বিশ্বকাপে দর্শকসংখ্যা বেশি দেখানোর কারণ
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের গ্যালারিতে অসংখ্য খালি আসন চোখে পড়লেও মাঠে উপস্থিতির সংখ্যা প্রায় পূর্ণ ধারণক্ষমতার কাছাকাছি দেখানোর মূল কারণ হলো ফুটবল ক্লাব ও টুর্নামেন্ট আয়োজকেরা সাধারণত মাঠে উপস্থিত প্রকৃত দর্শকের সংখ্যা নয়, বরং মোট বিক্রি হওয়া টিকিটের সংখ্যা প্রকাশ করে থাকে। গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচে ধারণক্ষমতার চেয়ে মাত্র ৭০০ টিকিট কম বিক্রি হলেও মধ্যমাঠের আশপাশে হাজারো আসন ফাঁকা থাকার পেছনেও এই টিকিট বিক্রির হিসাব কাজ করেছে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টিকিট করপোরেট স্পনসরদের জন্য বরাদ্দ থাকে এবং এই করপোরেট টিকিটধারীদের অনুপস্থিতির কারণেও টেলিভিশনে দৃশ্যমান সামনের সারির আসনগুলো প্রায়ই খালি বা আংশিক পূর্ণ দেখা যায়।

এ বিষয়ে ফিফার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক উপস্থিতির পরিসংখ্যান আসন খালি থাকার দৃশ্যমান রূপ দেখে নয়, বরং স্ক্যান হওয়া টিকিট এবং স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণের ভেতরে উপস্থিত দর্শকের ভিত্তির ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়। অনেক সময় টিকিটধারী দর্শকেরা পুরো ম্যাচজুড়ে নিজেদের আসনে না বসে কনকোর্স বা চলাচলের এলাকাতেও অবস্থান করেন। তবে নিরাপত্তা ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গেট-স্টেটমেন্ট চাইলেও কোন ধরনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হবে সে বিষয়ে আয়োজকদের স্বাধীনতা থাকে এবং টিকিট পুনর্বিক্রেতা বা কোনো সমর্থক টিকিট কিনে ম্যাচে উপস্থিত না হলেও ফিফা সেই টিকিটকে হিসাবের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত রাখে।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপের নির্ধারিত মানদণ্ড ও মাঠের প্রস্থ বাড়াতে গিয়ে বিজ্ঞাপন বোর্ড, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাজের স্থান এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কারণে অনেক স্টেডিয়ামের আসনসংখ্যা বা ধারণক্ষমতা মূল কাঠামোর চেয়ে কমিয়ে পুনর্গঠন করতে হয়। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে ফিফা সভাপতি প্রতিটি ম্যাচের টিকিট শেষ হওয়ার দাবি করলেও পরবর্তীতে ফিফা এই বক্তব্য থেকে সরে আসে এবং মেক্সিকোর ম্যাচের মতো কিছু খেলা পুরোপুরি হাউসফুল হলেও দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেক প্রজাতন্ত্রের মতো ম্যাচগুলোতে দর্শকের আগ্রহ তুলনামূলক কম থাকে। মূলত টিকিট বিক্রি, করপোরেট বরাদ্দ, অনুপস্থিত দর্শক এবং ফিফার গণনা পদ্ধতির সমন্বিত কারণেই ঘোষিত দর্শকসংখ্যা ও গ্যালারির দৃশ্যমান উপস্থিতির মধ্যে এই পার্থক্য তৈরি হয়।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


আসন খালি থাকলেও বিশ্বকাপে দর্শকসংখ্যা বেশি দেখানোর কারণ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্বকাপের গ্যালারিতে অসংখ্য খালি আসন চোখে পড়লেও মাঠে উপস্থিতির সংখ্যা প্রায় পূর্ণ ধারণক্ষমতার কাছাকাছি দেখানোর মূল কারণ হলো ফুটবল ক্লাব ও টুর্নামেন্ট আয়োজকেরা সাধারণত মাঠে উপস্থিত প্রকৃত দর্শকের সংখ্যা নয়, বরং মোট বিক্রি হওয়া টিকিটের সংখ্যা প্রকাশ করে থাকে। গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচে ধারণক্ষমতার চেয়ে মাত্র ৭০০ টিকিট কম বিক্রি হলেও মধ্যমাঠের আশপাশে হাজারো আসন ফাঁকা থাকার পেছনেও এই টিকিট বিক্রির হিসাব কাজ করেছে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টিকিট করপোরেট স্পনসরদের জন্য বরাদ্দ থাকে এবং এই করপোরেট টিকিটধারীদের অনুপস্থিতির কারণেও টেলিভিশনে দৃশ্যমান সামনের সারির আসনগুলো প্রায়ই খালি বা আংশিক পূর্ণ দেখা যায়।

এ বিষয়ে ফিফার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক উপস্থিতির পরিসংখ্যান আসন খালি থাকার দৃশ্যমান রূপ দেখে নয়, বরং স্ক্যান হওয়া টিকিট এবং স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণের ভেতরে উপস্থিত দর্শকের ভিত্তির ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়। অনেক সময় টিকিটধারী দর্শকেরা পুরো ম্যাচজুড়ে নিজেদের আসনে না বসে কনকোর্স বা চলাচলের এলাকাতেও অবস্থান করেন। তবে নিরাপত্তা ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গেট-স্টেটমেন্ট চাইলেও কোন ধরনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হবে সে বিষয়ে আয়োজকদের স্বাধীনতা থাকে এবং টিকিট পুনর্বিক্রেতা বা কোনো সমর্থক টিকিট কিনে ম্যাচে উপস্থিত না হলেও ফিফা সেই টিকিটকে হিসাবের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত রাখে।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপের নির্ধারিত মানদণ্ড ও মাঠের প্রস্থ বাড়াতে গিয়ে বিজ্ঞাপন বোর্ড, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাজের স্থান এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কারণে অনেক স্টেডিয়ামের আসনসংখ্যা বা ধারণক্ষমতা মূল কাঠামোর চেয়ে কমিয়ে পুনর্গঠন করতে হয়। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে ফিফা সভাপতি প্রতিটি ম্যাচের টিকিট শেষ হওয়ার দাবি করলেও পরবর্তীতে ফিফা এই বক্তব্য থেকে সরে আসে এবং মেক্সিকোর ম্যাচের মতো কিছু খেলা পুরোপুরি হাউসফুল হলেও দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেক প্রজাতন্ত্রের মতো ম্যাচগুলোতে দর্শকের আগ্রহ তুলনামূলক কম থাকে। মূলত টিকিট বিক্রি, করপোরেট বরাদ্দ, অনুপস্থিত দর্শক এবং ফিফার গণনা পদ্ধতির সমন্বিত কারণেই ঘোষিত দর্শকসংখ্যা ও গ্যালারির দৃশ্যমান উপস্থিতির মধ্যে এই পার্থক্য তৈরি হয়।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ