ঢাকা নিউজ

স্ত্রীর হক আদায়— অনুগ্রহ নয়, দায়িত্ব



স্ত্রীর হক আদায়— অনুগ্রহ নয়, দায়িত্ব
ছবি : সংগৃহীত

সংসার কেবল আবেগ, ভালোবাসা কিংবা একত্রে বসবাসের নাম নয়; বরং এটি অধিকার ও দায়িত্বের একটি পবিত্র বন্ধন। ইসলামে স্ত্রীর অধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অনেক সময় স্ত্রীর ভরণ-পোষণকে স্বামীর অনুগ্রহ মনে করা হয়, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এটি মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত একটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতার বিষয়।

অনুগ্রহ নয়, এটি স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার

স্ত্রীর খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করা স্বামীর মৌলিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। এই দায়িত্ব পালন করে খোঁটা দেওয়া বা নিজেকে দয়াবান দাবি করা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। যেমন বাড়িভাড়া বা দোকানের বিল পরিশোধ করা কোনো দয়া নয়, তেমনি স্ত্রীর প্রয়োজন পূরণ করাও স্বামীর দায়িত্ব, কোনো অনুগ্রহ নয়। উপরন্তু, পরিবারের জন্য ব্যয় করা অর্থ আল্লাহর কাছে সদাকার সওয়াব এনে দেয়।

কুরআনের নির্দেশনা

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্বামীদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন:

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ "তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে সদাচরণের ভিত্তিতে জীবনযাপন করো।" (সুরা আন-নিসা: আয়াত ১৯)

অন্যত্র এরশাদ হয়েছে:

لِيُنفِقْ ذُو سَعَةٍ مِّন سَعَتِهِ "যার সামর্থ্য আছে, সে তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে।" (সুরা আত-তালাক: আয়াত ৭)

হাদিসের আলোকে পারিবারিক দায়িত্ব

রাসুলুল্লাহ (সা.) অধীনস্থদের অধিকার ও ভরণ-পোষণের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন:

"একজন মানুষের গুনাহের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার অধীনস্থদের ভরণ-পোষণ নষ্ট করে।" (আবু দাউদ: ১৬৯২)

পরিবারের পেছনে ব্যয়ের সওয়াব সম্পর্কে তিনি বলেন:

"তুমি তোমার পরিবারের জন্য যা কিছু ব্যয় করো, তার প্রতিটিতেই তোমার জন্য সাদাকার সওয়াব রয়েছে।" (বুখারি: ৫৬)

একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা ও ভারসাম্য

পিতা-মাতার জন্য উদারভাবে ব্যয় করা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ। তবে পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্ত্রীর ন্যায্য অধিকার ও প্রয়োজনকে অবহেলা করা ইসলামের শিক্ষা নয়। একজন নারীর সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা তার স্বামী। তাই মায়ের হক যেমন রয়েছে, তেমনি স্ত্রীর প্রতিও আলাদা ও স্বতন্ত্র দায়িত্ব রয়েছে, যা স্বামীকে অবশ্যই পূরণ করতে হবে।

ধার্মিকতার পূর্বে বান্দার হক আদায়

ইসলাম কেবল নফল ইবাদত, মাহফিল বা দাওয়াতি কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের হক বা অধিকার আদায়ের শিক্ষা দেয়। অন্যের অধিকার নষ্ট করে নিজের ধার্মিকতা জাহির করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। কিয়ামতের দিন মানুষের হক আদায় না করার কারণে অনেক নেক আমলও ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।

একজন স্ত্রী হচ্ছেন জীবনের সঙ্গী, সন্তানের মা এবং ঘরের প্রশান্তির উৎস। তাই তাঁর প্রাপ্য খরচ, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সম্মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কর্তৃত্ব বা কঠোরতা নয়, বরং মর্যাদা, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতা থাকা উচিত। কারণ, আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


স্ত্রীর হক আদায়— অনুগ্রহ নয়, দায়িত্ব

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

সংসার কেবল আবেগ, ভালোবাসা কিংবা একত্রে বসবাসের নাম নয়; বরং এটি অধিকার ও দায়িত্বের একটি পবিত্র বন্ধন। ইসলামে স্ত্রীর অধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অনেক সময় স্ত্রীর ভরণ-পোষণকে স্বামীর অনুগ্রহ মনে করা হয়, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এটি মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত একটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতার বিষয়।

অনুগ্রহ নয়, এটি স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার

স্ত্রীর খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করা স্বামীর মৌলিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। এই দায়িত্ব পালন করে খোঁটা দেওয়া বা নিজেকে দয়াবান দাবি করা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। যেমন বাড়িভাড়া বা দোকানের বিল পরিশোধ করা কোনো দয়া নয়, তেমনি স্ত্রীর প্রয়োজন পূরণ করাও স্বামীর দায়িত্ব, কোনো অনুগ্রহ নয়। উপরন্তু, পরিবারের জন্য ব্যয় করা অর্থ আল্লাহর কাছে সদাকার সওয়াব এনে দেয়।

কুরআনের নির্দেশনা

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্বামীদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন:

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ "তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে সদাচরণের ভিত্তিতে জীবনযাপন করো।" (সুরা আন-নিসা: আয়াত ১৯)

অন্যত্র এরশাদ হয়েছে:

لِيُنفِقْ ذُو سَعَةٍ مِّন سَعَتِهِ "যার সামর্থ্য আছে, সে তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে।" (সুরা আত-তালাক: আয়াত ৭)

হাদিসের আলোকে পারিবারিক দায়িত্ব

রাসুলুল্লাহ (সা.) অধীনস্থদের অধিকার ও ভরণ-পোষণের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন:

"একজন মানুষের গুনাহের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার অধীনস্থদের ভরণ-পোষণ নষ্ট করে।" (আবু দাউদ: ১৬৯২)

পরিবারের পেছনে ব্যয়ের সওয়াব সম্পর্কে তিনি বলেন:

"তুমি তোমার পরিবারের জন্য যা কিছু ব্যয় করো, তার প্রতিটিতেই তোমার জন্য সাদাকার সওয়াব রয়েছে।" (বুখারি: ৫৬)

একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা ও ভারসাম্য

পিতা-মাতার জন্য উদারভাবে ব্যয় করা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ। তবে পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্ত্রীর ন্যায্য অধিকার ও প্রয়োজনকে অবহেলা করা ইসলামের শিক্ষা নয়। একজন নারীর সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা তার স্বামী। তাই মায়ের হক যেমন রয়েছে, তেমনি স্ত্রীর প্রতিও আলাদা ও স্বতন্ত্র দায়িত্ব রয়েছে, যা স্বামীকে অবশ্যই পূরণ করতে হবে।

ধার্মিকতার পূর্বে বান্দার হক আদায়

ইসলাম কেবল নফল ইবাদত, মাহফিল বা দাওয়াতি কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের হক বা অধিকার আদায়ের শিক্ষা দেয়। অন্যের অধিকার নষ্ট করে নিজের ধার্মিকতা জাহির করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। কিয়ামতের দিন মানুষের হক আদায় না করার কারণে অনেক নেক আমলও ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।

একজন স্ত্রী হচ্ছেন জীবনের সঙ্গী, সন্তানের মা এবং ঘরের প্রশান্তির উৎস। তাই তাঁর প্রাপ্য খরচ, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সম্মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কর্তৃত্ব বা কঠোরতা নয়, বরং মর্যাদা, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতা থাকা উচিত। কারণ, আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ