ঢাকা নিউজ

পরকালীন হিসাবে ছাড় পাওয়া তিন মৌলিক বিষয়



পরকালীন হিসাবে ছাড় পাওয়া তিন মৌলিক বিষয়
ছবি : সংগৃহীত

মানুষ পৃথিবীতে খালি হাতে আসে এবং খালি হাতেই রবের দরবারে ফিরে যায়। তবে এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের প্রতিটি নিয়ামত, সুযোগ এবং ভোগের হিসাব একদিন মহান আল্লাহর কাছে দিতে হবে। প্রখ্যাত তাবেঈ ইমাম হাসান আল-বাসরী (রহ.)-এর মতে, দুনিয়ায় মানুষের খুবই সামান্য তিনটি বিষয়ের পরকালীন কোনো হিসাব নেই।

এই তিনটি বিষয় হলো— লজ্জাস্থান আবৃত করার জন্য এক টুকরা কাপড়, জীবন ধারণের জন্য অল্প কিছু খাদ্য এবং মাথা গোঁজার জন্য একটি আশ্রয়। এর বাইরে দুনিয়ার যত নিয়ামত, সম্পদ ও ভোগ-বিলাস আছে, সবকিছুর হিসাব একদিন আল্লাহর কাছে দিতে হবে। মানুষ জীবনভর যে সম্পদ ও বিলাসিতার জন্য নিজেকে ক্লান্ত করে, তার কিছুই কবরে যাবে না; বরং এগুলো কোথা থেকে অর্জিত ও কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং নিয়ামতের কতটুকু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে, তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ হবে।

পবিত্র কুরআনের সুরা আত-তাকাসুরের ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেছেন, সেদিন অবশ্যই তোমাদেরকে নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। এই আয়াত স্মরণ করিয়ে দেয় যে সুস্বাস্থ্য, সম্পদ, সময়, পরিবার, খাদ্য ও বাসস্থান সবই আল্লাহর নিয়ামত এবং প্রতিটি নিয়ামতের সঙ্গে জবাবদিহিতা জড়িয়ে আছে।

হাদিস শরিফেও এই জবাবদিহিতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার পদদ্বয় সরবে না, যতক্ষণ না তাকে তার সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে— কোথা থেকে অর্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে। এছাড়া অপর এক হাদিসে সময়, সুস্থতা, সামর্থ্য ও সুযোগকে মূল্যবান মনে করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, কারণ এগুলো আল্লাহর আমানত এবং এগুলোরও হিসাব দিতে হবে।

মুমিনের প্রজ্ঞা হলো দুনিয়ার সম্পদকে লক্ষ্য নয়, বরং আখিরাতের পাথেয় বানানো। জীবনের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের পর যা কিছু আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন, সবই তার পক্ষ থেকে আমানত; তাই দুনিয়ার মোহ পরিহার করে আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করাই মুমিনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


পরকালীন হিসাবে ছাড় পাওয়া তিন মৌলিক বিষয়

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

মানুষ পৃথিবীতে খালি হাতে আসে এবং খালি হাতেই রবের দরবারে ফিরে যায়। তবে এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের প্রতিটি নিয়ামত, সুযোগ এবং ভোগের হিসাব একদিন মহান আল্লাহর কাছে দিতে হবে। প্রখ্যাত তাবেঈ ইমাম হাসান আল-বাসরী (রহ.)-এর মতে, দুনিয়ায় মানুষের খুবই সামান্য তিনটি বিষয়ের পরকালীন কোনো হিসাব নেই।

এই তিনটি বিষয় হলো— লজ্জাস্থান আবৃত করার জন্য এক টুকরা কাপড়, জীবন ধারণের জন্য অল্প কিছু খাদ্য এবং মাথা গোঁজার জন্য একটি আশ্রয়। এর বাইরে দুনিয়ার যত নিয়ামত, সম্পদ ও ভোগ-বিলাস আছে, সবকিছুর হিসাব একদিন আল্লাহর কাছে দিতে হবে। মানুষ জীবনভর যে সম্পদ ও বিলাসিতার জন্য নিজেকে ক্লান্ত করে, তার কিছুই কবরে যাবে না; বরং এগুলো কোথা থেকে অর্জিত ও কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং নিয়ামতের কতটুকু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে, তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ হবে।

পবিত্র কুরআনের সুরা আত-তাকাসুরের ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেছেন, সেদিন অবশ্যই তোমাদেরকে নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। এই আয়াত স্মরণ করিয়ে দেয় যে সুস্বাস্থ্য, সম্পদ, সময়, পরিবার, খাদ্য ও বাসস্থান সবই আল্লাহর নিয়ামত এবং প্রতিটি নিয়ামতের সঙ্গে জবাবদিহিতা জড়িয়ে আছে।

হাদিস শরিফেও এই জবাবদিহিতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার পদদ্বয় সরবে না, যতক্ষণ না তাকে তার সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে— কোথা থেকে অর্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে। এছাড়া অপর এক হাদিসে সময়, সুস্থতা, সামর্থ্য ও সুযোগকে মূল্যবান মনে করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, কারণ এগুলো আল্লাহর আমানত এবং এগুলোরও হিসাব দিতে হবে।

মুমিনের প্রজ্ঞা হলো দুনিয়ার সম্পদকে লক্ষ্য নয়, বরং আখিরাতের পাথেয় বানানো। জীবনের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের পর যা কিছু আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন, সবই তার পক্ষ থেকে আমানত; তাই দুনিয়ার মোহ পরিহার করে আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করাই মুমিনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ