ঢাকা নিউজ

দেশে হামের ভয়াবহ বিস্তার: আক্রান্তদের বড় অংশই ৯ মাসের কম বয়সী শিশু



দেশে হামের ভয়াবহ বিস্তার: আক্রান্তদের বড় অংশই ৯ মাসের কম বয়সী শিশু
ছবি : সংগৃহীত

দেশে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিত হামে ৩৮ জন এবং সন্দেহজনক আরও ১৮১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৪৪৩ জন এবং সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যা ২৩,৬০৬ জন।

সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো, আক্রান্তদের মধ্যে ৩৪ থেকে ৬০ শতাংশেরই বয়স ৯ মাসের কম। সাধারণত শিশুদের ৯ মাস পূর্ণ হলে হামের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়, কিন্তু তার আগেই বিপুল সংখ্যক শিশু আক্রান্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্যবিদরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এর পেছনে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা 'হার্ড ইমিউনিটি' অর্জিত না হওয়া, মায়েদের থেকে পর্যাপ্ত ইমিউনিটি শিশুর শরীরে না আসা এবং ভিটামিন ও পুষ্টির অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমান পরিস্থিতির পেছনের কারণসমূহ:

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা:

  • টিকাদানে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা: ২০২৫ সালের মধ্যে হাম নির্মূলের লক্ষ্য থাকলেও টিকা মজুতের অভাব ও মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ সংকটে অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে।

  • অব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাব: নিয়মিত বিশেষ ক্যাম্পেইন না হওয়া এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অসন্তোষের কারণে ১০-১৫ শতাংশ শিশু রুটিন টিকার আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

  • জনবল সংকট: দীর্ঘদিনের জনবল ঘাটতি এবং স্বাস্থ্য খাতের অদূরদর্শী পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে মহামারির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সতর্কতা:

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, পরিস্থিতি এখন 'জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থায়' পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল ও নতুন নিয়োগের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি। আইইডিসিআর-এর সাবেক পরিচালক আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, হামে মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৩ জন থেকে বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

প্রতিরোধে করণীয়:

  • হাসপাতালের সেবা প্রান্তিক পর্যায়ে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া।

  • পুষ্টি কার্যক্রম ও ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল বিতরণ জোরদার করা।

  • মাতৃদুগ্ধ পানে উৎসাহিত করা এবং স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বৃদ্ধি করা।

  • টিকার উৎপাদন ও সরবরাহে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা।

সরকার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোর গাফিলতিকে দায়ী করলেও, বর্তমান স্বাস্থ্য বিভাগকেও আরও জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামীকাল সোমবার থেকে দেশব্যাপী হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


দেশে হামের ভয়াবহ বিস্তার: আক্রান্তদের বড় অংশই ৯ মাসের কম বয়সী শিশু

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিত হামে ৩৮ জন এবং সন্দেহজনক আরও ১৮১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৪৪৩ জন এবং সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যা ২৩,৬০৬ জন।

সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো, আক্রান্তদের মধ্যে ৩৪ থেকে ৬০ শতাংশেরই বয়স ৯ মাসের কম। সাধারণত শিশুদের ৯ মাস পূর্ণ হলে হামের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়, কিন্তু তার আগেই বিপুল সংখ্যক শিশু আক্রান্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্যবিদরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এর পেছনে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা 'হার্ড ইমিউনিটি' অর্জিত না হওয়া, মায়েদের থেকে পর্যাপ্ত ইমিউনিটি শিশুর শরীরে না আসা এবং ভিটামিন ও পুষ্টির অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমান পরিস্থিতির পেছনের কারণসমূহ:

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা:

  • টিকাদানে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা: ২০২৫ সালের মধ্যে হাম নির্মূলের লক্ষ্য থাকলেও টিকা মজুতের অভাব ও মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ সংকটে অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে।

  • অব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাব: নিয়মিত বিশেষ ক্যাম্পেইন না হওয়া এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অসন্তোষের কারণে ১০-১৫ শতাংশ শিশু রুটিন টিকার আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

  • জনবল সংকট: দীর্ঘদিনের জনবল ঘাটতি এবং স্বাস্থ্য খাতের অদূরদর্শী পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে মহামারির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সতর্কতা:

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, পরিস্থিতি এখন 'জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থায়' পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল ও নতুন নিয়োগের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি। আইইডিসিআর-এর সাবেক পরিচালক আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, হামে মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৩ জন থেকে বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

প্রতিরোধে করণীয়:

  • হাসপাতালের সেবা প্রান্তিক পর্যায়ে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া।

  • পুষ্টি কার্যক্রম ও ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল বিতরণ জোরদার করা।

  • মাতৃদুগ্ধ পানে উৎসাহিত করা এবং স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বৃদ্ধি করা।

  • টিকার উৎপাদন ও সরবরাহে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা।

সরকার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোর গাফিলতিকে দায়ী করলেও, বর্তমান স্বাস্থ্য বিভাগকেও আরও জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামীকাল সোমবার থেকে দেশব্যাপী হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ