ঢাকা নিউজ

ব্ল্যাকবোর্ড ও চকের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনের অভিমত



ব্ল্যাকবোর্ড ও চকের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনের অভিমত
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ও স্মার্ট বোর্ডের মাধ্যমে শিক্ষাদানের চেয়ে ঐতিহ্যবাহী ব্ল্যাকবোর্ড-চক ও বইয়ের ব্যবহারকে বেশি কার্যকর মনে করেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

তার বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়ায় প্রভাব: অধ্যাপক মামুন জানান, পাওয়ার পয়েন্ট বা স্মার্ট বোর্ডে ক্লাস নেওয়া শিক্ষকদের জন্য আরামদায়ক এবং এতে ক্লাসের গতিও বাড়ে। তবে এটি শিক্ষার্থীদের কাছে মুভি দেখার মতো মনে হয় এবং ক্লাস শেষে তাদের মাথায় অনেক তথ্যই সংরক্ষিত থাকে না।

  • তথ্যের বিশ্লেষণ ও ব্রেইনের সংযোগ: চক ও ব্ল্যাকবোর্ডে লেখার সময় শিক্ষকের গতি কিছুটা ধীর হয়। তিনি মনে করেন, এই ধীরগতি আমাদের মস্তিষ্ককে তথ্য সঠিকভাবে গ্রহণ (Absorb) করতে প্রয়োজনীয় সময় দেয়। যা স্মার্ট বোর্ডের দ্রুত গতির লেকচারে সম্ভব হয় না।

  • আন্তর্জাতিক উদাহরণ: তিনি সুইডেন ও নরওয়ের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে বলেন, গবেষণায় কুফল পাওয়ায় তারা এখন স্ক্রিন টাইম কমিয়ে পুনরায় ব্ল্যাকবোর্ড ও চক-বইয়ের ব্যবহারে ফিরে যাচ্ছে। এমনকি বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো ব্ল্যাকবোর্ড ব্যবহারকে গুরুত্ব দেয়।

  • পরিবেশ ও অর্থনৈতিক দিক: চক ও ব্ল্যাকবোর্ড পরিবেশবান্ধব। দেশীয়ভাবে এগুলো উৎপাদন করলে কর্মসংস্থান বাড়ে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়। অন্যদিকে স্মার্ট টেকনোলজি আমদানিনির্ভর এবং পরিবেশের জন্য তুলনামূলক কম টেকসই।

  • জ্ঞানের সরণ: পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র (কাজ = বল $\times$ সরণ) টেনে তিনি বলেন, পড়াশোনা মানে জ্ঞানের সরণ ঘটানো, যা বেশ কষ্টসাধ্য এবং শ্রমসাধ্য কাজ। তাই কেবল আরাম বা আনন্দই মানসম্মত শিক্ষার মাপকাঠি হতে পারে না।

অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনের এই পোস্টটি দেশের বর্তমান শিক্ষা পদ্ধতিতে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


ব্ল্যাকবোর্ড ও চকের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনের অভিমত

প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

featured Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ও স্মার্ট বোর্ডের মাধ্যমে শিক্ষাদানের চেয়ে ঐতিহ্যবাহী ব্ল্যাকবোর্ড-চক ও বইয়ের ব্যবহারকে বেশি কার্যকর মনে করেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

তার বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়ায় প্রভাব: অধ্যাপক মামুন জানান, পাওয়ার পয়েন্ট বা স্মার্ট বোর্ডে ক্লাস নেওয়া শিক্ষকদের জন্য আরামদায়ক এবং এতে ক্লাসের গতিও বাড়ে। তবে এটি শিক্ষার্থীদের কাছে মুভি দেখার মতো মনে হয় এবং ক্লাস শেষে তাদের মাথায় অনেক তথ্যই সংরক্ষিত থাকে না।

  • তথ্যের বিশ্লেষণ ও ব্রেইনের সংযোগ: চক ও ব্ল্যাকবোর্ডে লেখার সময় শিক্ষকের গতি কিছুটা ধীর হয়। তিনি মনে করেন, এই ধীরগতি আমাদের মস্তিষ্ককে তথ্য সঠিকভাবে গ্রহণ (Absorb) করতে প্রয়োজনীয় সময় দেয়। যা স্মার্ট বোর্ডের দ্রুত গতির লেকচারে সম্ভব হয় না।

  • আন্তর্জাতিক উদাহরণ: তিনি সুইডেন ও নরওয়ের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে বলেন, গবেষণায় কুফল পাওয়ায় তারা এখন স্ক্রিন টাইম কমিয়ে পুনরায় ব্ল্যাকবোর্ড ও চক-বইয়ের ব্যবহারে ফিরে যাচ্ছে। এমনকি বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো ব্ল্যাকবোর্ড ব্যবহারকে গুরুত্ব দেয়।

  • পরিবেশ ও অর্থনৈতিক দিক: চক ও ব্ল্যাকবোর্ড পরিবেশবান্ধব। দেশীয়ভাবে এগুলো উৎপাদন করলে কর্মসংস্থান বাড়ে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়। অন্যদিকে স্মার্ট টেকনোলজি আমদানিনির্ভর এবং পরিবেশের জন্য তুলনামূলক কম টেকসই।

  • জ্ঞানের সরণ: পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র (কাজ = বল $\times$ সরণ) টেনে তিনি বলেন, পড়াশোনা মানে জ্ঞানের সরণ ঘটানো, যা বেশ কষ্টসাধ্য এবং শ্রমসাধ্য কাজ। তাই কেবল আরাম বা আনন্দই মানসম্মত শিক্ষার মাপকাঠি হতে পারে না।

অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনের এই পোস্টটি দেশের বর্তমান শিক্ষা পদ্ধতিতে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ