জার্মানিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতির ইতিহাস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগ থেকে শুরু। ১৯৪৫ সালে নাৎসি বাহিনীর আত্মসমর্পণের সময় দেশটিতে ১৬ লাখ মার্কিন সেনা থাকলেও পরে তা কমিয়ে আনা হয়। মূলত স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবিলায় জার্মানিকে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। ১৯৪৯ সালে ন্যাটো গঠনের পর এই সামরিক উপস্থিতি আরও সুসংহত হয়। বর্তমানে ইউরোপে মোতায়েন করা প্রায় ৬৮ হাজার মার্কিন সেনার মধ্যে অর্ধেকের বেশি, অর্থাৎ ৩৬ হাজার ৪০০ জনই জার্মানিতে অবস্থান করছেন। এই সেনারা দেশটির ২০ থেকে ৪০টি ঘাঁটিতে ছড়িয়ে আছেন। স্টুটগার্টে অবস্থিত ইউরোপীয় ও আফ্রিকা কমান্ডের সদর দপ্তর থেকে দুই মহাদেশের সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ ছাড়া রামস্টাইন বিমানঘাঁটি ইউরোপে মার্কিন বিমানবাহিনীর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এবং ল্যান্ডস্টুলে রয়েছে বিদেশের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক হাসপাতাল। স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এসব ঘাঁটির ভূমিকা বদলে মূলত ‘লজিস্টিক হাব’ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এখান থেকেই ইরাক, আফগানিস্তান এবং সাম্প্রতিক ইরান সংশ্লিষ্ট সামরিক অভিযানগুলো তদারকি করা হয়। যদিও মাঝেমধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে সৈন্য প্রত্যাহারের হুমকি আসে, তবে বিশ্লেষকদের মতে, রামস্টাইনের মতো ঘাঁটি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখা কঠিন। সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে নিরাপত্তা দিলেও ইউরোপ দেশটিকে বৈশ্বিক সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সরবরাহ করে।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
জার্মানিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতির ইতিহাস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগ থেকে শুরু। ১৯৪৫ সালে নাৎসি বাহিনীর আত্মসমর্পণের সময় দেশটিতে ১৬ লাখ মার্কিন সেনা থাকলেও পরে তা কমিয়ে আনা হয়। মূলত স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবিলায় জার্মানিকে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। ১৯৪৯ সালে ন্যাটো গঠনের পর এই সামরিক উপস্থিতি আরও সুসংহত হয়। বর্তমানে ইউরোপে মোতায়েন করা প্রায় ৬৮ হাজার মার্কিন সেনার মধ্যে অর্ধেকের বেশি, অর্থাৎ ৩৬ হাজার ৪০০ জনই জার্মানিতে অবস্থান করছেন। এই সেনারা দেশটির ২০ থেকে ৪০টি ঘাঁটিতে ছড়িয়ে আছেন। স্টুটগার্টে অবস্থিত ইউরোপীয় ও আফ্রিকা কমান্ডের সদর দপ্তর থেকে দুই মহাদেশের সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ ছাড়া রামস্টাইন বিমানঘাঁটি ইউরোপে মার্কিন বিমানবাহিনীর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এবং ল্যান্ডস্টুলে রয়েছে বিদেশের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক হাসপাতাল। স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এসব ঘাঁটির ভূমিকা বদলে মূলত ‘লজিস্টিক হাব’ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এখান থেকেই ইরাক, আফগানিস্তান এবং সাম্প্রতিক ইরান সংশ্লিষ্ট সামরিক অভিযানগুলো তদারকি করা হয়। যদিও মাঝেমধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে সৈন্য প্রত্যাহারের হুমকি আসে, তবে বিশ্লেষকদের মতে, রামস্টাইনের মতো ঘাঁটি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখা কঠিন। সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে নিরাপত্তা দিলেও ইউরোপ দেশটিকে বৈশ্বিক সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সরবরাহ করে।

আপনার মতামত লিখুন