ঢাকা নিউজ

একমুখী আধিপত্যের পতন ও নতুন বিশ্ব রাজনীতির উদয়



একমুখী আধিপত্যের পতন ও নতুন বিশ্ব রাজনীতির উদয়
ছবি : সংগৃহীত

লন্ডনে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও ডি আগুইয়ার প্যাট্রিওটা বর্তমান বিশ্বের এক হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরেছেন। তার মতে, পৃথিবী এখন বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, পরিবেশ বিপর্যয়, একের পর এক যুদ্ধ এবং লাগামহীন সামরিক বাজেটের মতো চরম সংকটে জর্জরিত। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিকতার অবমাননা, বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা এবং গণতান্ত্রিক শাসনের দুর্বলতার পাশাপাশি প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ মানবজাতিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তবে এই নৈরাজ্যের মধ্যেও তিনি এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে, যেখানে একদিকে রয়েছে একক আধিপত্যবাদী পরাশক্তি এবং অন্যদিকে দাঁড়িয়ে আছে বহুপাক্ষিকবাদে বিশ্বাসী এক বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠী।

এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ইরানের যুদ্ধকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের মতে, ইরানে পরিচালিত অত্যন্ত অজনপ্রিয় ও অবৈধ যুদ্ধটি একতরফা আধিপত্যবাদের কারণে তৈরি হওয়া অস্থিরতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। এই সংঘাত প্রমাণ করছে যে বিশ্বকে আর কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে বা একমুখী মেরুকরণে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতি এবং আইন অমান্য করে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের অন্ধকার যুগটি এখন দ্রুত সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির সংকটের মধ্য দিয়ে আমেরিকার একক আধিপত্যের পতন ঘটছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বাস্তবতায় পশ্চিমা দেশগুলো এখন নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল থাকার নীতি থেকে সরে এসে নতুনভাবে নিজেদের অবস্থান সাজিয়ে নিচ্ছে।

পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষেত্রে আমেরিকার নিরাপত্তা বলয় যেমন ভঙ্গুর প্রমাণিত হয়েছে, তেমনি ইউক্রেন সংকটেও ইউরোপের স্বার্থ রক্ষায় তা কার্যকর হয়নি। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বের অনেক দেশ এখন কোনো একটি নির্দিষ্ট শক্তির পেছনে না ছুটে বিভিন্ন দেশের সাথে বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময় সম্পর্ক গড়ে তোলাকে দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ বলে মনে করছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


একমুখী আধিপত্যের পতন ও নতুন বিশ্ব রাজনীতির উদয়

প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

featured Image

লন্ডনে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও ডি আগুইয়ার প্যাট্রিওটা বর্তমান বিশ্বের এক হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরেছেন। তার মতে, পৃথিবী এখন বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, পরিবেশ বিপর্যয়, একের পর এক যুদ্ধ এবং লাগামহীন সামরিক বাজেটের মতো চরম সংকটে জর্জরিত। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিকতার অবমাননা, বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা এবং গণতান্ত্রিক শাসনের দুর্বলতার পাশাপাশি প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ মানবজাতিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তবে এই নৈরাজ্যের মধ্যেও তিনি এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে, যেখানে একদিকে রয়েছে একক আধিপত্যবাদী পরাশক্তি এবং অন্যদিকে দাঁড়িয়ে আছে বহুপাক্ষিকবাদে বিশ্বাসী এক বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠী।

এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ইরানের যুদ্ধকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের মতে, ইরানে পরিচালিত অত্যন্ত অজনপ্রিয় ও অবৈধ যুদ্ধটি একতরফা আধিপত্যবাদের কারণে তৈরি হওয়া অস্থিরতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। এই সংঘাত প্রমাণ করছে যে বিশ্বকে আর কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে বা একমুখী মেরুকরণে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতি এবং আইন অমান্য করে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের অন্ধকার যুগটি এখন দ্রুত সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির সংকটের মধ্য দিয়ে আমেরিকার একক আধিপত্যের পতন ঘটছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বাস্তবতায় পশ্চিমা দেশগুলো এখন নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল থাকার নীতি থেকে সরে এসে নতুনভাবে নিজেদের অবস্থান সাজিয়ে নিচ্ছে।

পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষেত্রে আমেরিকার নিরাপত্তা বলয় যেমন ভঙ্গুর প্রমাণিত হয়েছে, তেমনি ইউক্রেন সংকটেও ইউরোপের স্বার্থ রক্ষায় তা কার্যকর হয়নি। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বের অনেক দেশ এখন কোনো একটি নির্দিষ্ট শক্তির পেছনে না ছুটে বিভিন্ন দেশের সাথে বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময় সম্পর্ক গড়ে তোলাকে দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ বলে মনে করছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ