ঢাকা নিউজ

হাওরে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন ও সোনার ফসল



হাওরে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন ও সোনার ফসল
ছবি : সংগৃহীত

অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের হাওরাঞ্চলগুলোতে সোনালি ধান তলিয়ে গিয়ে তৈরি হয়েছে এক মানবিক বিপর্যয়। সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল এখন পানির নিচে, যার ফলে কৃষকের দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল চোখের সামনেই পচে যাচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে বাঁধ ভেঙে এবং জলাবদ্ধতার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় হাওরবাসীর চোখেমুখে এখন কেবলই দিশেহারা অবস্থা ও বুকফাঁটা আর্তনাদ।

সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজারে প্রায় ৩০ হাজার ৬০৫ হেক্টর এবং নেত্রকোনায় ১৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে; কিশোরগঞ্জেও নিমজ্জিত হয়েছে নয় হাজার ৪৫ হেক্টর জমির ধান। অনেক জায়গায় কিছু ধান কাটা সম্ভব হলেও বৃষ্টির কারণে তা শুকাতে না পারায় অঙ্কুরিত হয়ে যাচ্ছে, যা বাজারে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের মতো এলাকায় যেখানে ধান পুরোপুরি তলিয়ে গেছে, সেখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অভাবনীয়।

হাওরের কৃষকরা সাধারণত এনজিও, ব্যাংক লোন বা মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন। ফসল হারিয়ে এখন তারা সেই ঋণের বোঝা শোধ করা এবং সারা বছরের খাদ্য সংস্থান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। নেত্রকোনার বৃদ্ধা সাইকুলের মা বা সুনামগঞ্জের কৃষক আনোয়ার হোসেনের মতো হাজারো মানুষের আক্ষেপ—চোখের সামনে ফসল নষ্ট হতে দেখলেও কিছুই করার নেই, এখন বেঁচে থাকার ন্যূনতম পথটুকুও রুদ্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়ভাবে ‘নয়নভাগা’ নামক এক প্রথার করুণ প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে হাওরাঞ্চল জুড়ে, যেখানে নিজের জমির ধান কাটতে না পেরে মালিককে অসহায়ভাবে অন্যের কেটে নিয়ে যাওয়া দেখতে হচ্ছে। অথচ দেশের মোট বোরো উৎপাদনের ২০ শতাংশই আসে এই হাওর জেলাগুলো থেকে। এমন জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন ফসল রক্ষায় সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনার অভাব সাধারণ কৃষকদের জীবনকে বারবার সংকটের মুখে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাওরের ফসল রক্ষায় দেশপ্রেমিক বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের নিয়ে একটি কার্যকর ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। হাওরে ফসল আবাদের সময় পর্যাপ্ত পানি রাখা এবং কাটার সময় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে এই নিয়মিত ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। কৃষকদের এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্দশা লাঘবে এখনই পরিকল্পিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে চরম খাদ্য সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


হাওরে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন ও সোনার ফসল

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের হাওরাঞ্চলগুলোতে সোনালি ধান তলিয়ে গিয়ে তৈরি হয়েছে এক মানবিক বিপর্যয়। সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল এখন পানির নিচে, যার ফলে কৃষকের দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল চোখের সামনেই পচে যাচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে বাঁধ ভেঙে এবং জলাবদ্ধতার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় হাওরবাসীর চোখেমুখে এখন কেবলই দিশেহারা অবস্থা ও বুকফাঁটা আর্তনাদ।

সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজারে প্রায় ৩০ হাজার ৬০৫ হেক্টর এবং নেত্রকোনায় ১৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে; কিশোরগঞ্জেও নিমজ্জিত হয়েছে নয় হাজার ৪৫ হেক্টর জমির ধান। অনেক জায়গায় কিছু ধান কাটা সম্ভব হলেও বৃষ্টির কারণে তা শুকাতে না পারায় অঙ্কুরিত হয়ে যাচ্ছে, যা বাজারে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের মতো এলাকায় যেখানে ধান পুরোপুরি তলিয়ে গেছে, সেখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অভাবনীয়।

হাওরের কৃষকরা সাধারণত এনজিও, ব্যাংক লোন বা মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন। ফসল হারিয়ে এখন তারা সেই ঋণের বোঝা শোধ করা এবং সারা বছরের খাদ্য সংস্থান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। নেত্রকোনার বৃদ্ধা সাইকুলের মা বা সুনামগঞ্জের কৃষক আনোয়ার হোসেনের মতো হাজারো মানুষের আক্ষেপ—চোখের সামনে ফসল নষ্ট হতে দেখলেও কিছুই করার নেই, এখন বেঁচে থাকার ন্যূনতম পথটুকুও রুদ্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়ভাবে ‘নয়নভাগা’ নামক এক প্রথার করুণ প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে হাওরাঞ্চল জুড়ে, যেখানে নিজের জমির ধান কাটতে না পেরে মালিককে অসহায়ভাবে অন্যের কেটে নিয়ে যাওয়া দেখতে হচ্ছে। অথচ দেশের মোট বোরো উৎপাদনের ২০ শতাংশই আসে এই হাওর জেলাগুলো থেকে। এমন জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন ফসল রক্ষায় সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনার অভাব সাধারণ কৃষকদের জীবনকে বারবার সংকটের মুখে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাওরের ফসল রক্ষায় দেশপ্রেমিক বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের নিয়ে একটি কার্যকর ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। হাওরে ফসল আবাদের সময় পর্যাপ্ত পানি রাখা এবং কাটার সময় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে এই নিয়মিত ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। কৃষকদের এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্দশা লাঘবে এখনই পরিকল্পিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে চরম খাদ্য সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ