ঢাকা নিউজ

‘নয়নভাগা’ প্রথায় তলিয়ে যাওয়া ধানে কৃষকের হাহাকার



‘নয়নভাগা’ প্রথায় তলিয়ে যাওয়া ধানে কৃষকের হাহাকার
ছবি : সংগৃহীত

নেত্রকোনার খালিয়াজুরিতে উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান। প্রাকৃতিক দুর্যোগে যখন কৃষকরা তাদের ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না, তখন হাওড়াঞ্চলের প্রচলিত নিষ্ঠুর ‘নয়নভাগা’ প্রথায় অন্যদের ধান কেটে নিয়ে যেতে দেখছেন তারা। জগন্নাথপুর গ্রামের মিলন ব্যাপারীর ৫০ একর জমির অর্ধেকের বেশি ধান এখন পানির নিচে, যা আর কাটা সম্ভব হচ্ছে না; অথচ এক সপ্তাহ আগেও সেখানে সোনালি ফসলের সমারোহ ছিল।

একই গ্রামের মুসকো খাঁ, সুলেমান মিয়া ও রাজিব মিয়ার মতো অনেক প্রান্তিক কৃষক এখন পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। কৃষকদের অভিযোগ, হাওড়ের জলকপাট অকার্যকর থাকা এবং নদী-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না, ফলে এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রমতে, কংস ও উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, মূলত ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি এবং পলি জমে নদ-নদী ভরাট হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে এই কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। খালিয়াজুরি উপজেলায় এখনো প্রায় ৪ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমি পানির নিচে থাকলেও বাঁধ রক্ষার তদারকি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


‘নয়নভাগা’ প্রথায় তলিয়ে যাওয়া ধানে কৃষকের হাহাকার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

নেত্রকোনার খালিয়াজুরিতে উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান। প্রাকৃতিক দুর্যোগে যখন কৃষকরা তাদের ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না, তখন হাওড়াঞ্চলের প্রচলিত নিষ্ঠুর ‘নয়নভাগা’ প্রথায় অন্যদের ধান কেটে নিয়ে যেতে দেখছেন তারা। জগন্নাথপুর গ্রামের মিলন ব্যাপারীর ৫০ একর জমির অর্ধেকের বেশি ধান এখন পানির নিচে, যা আর কাটা সম্ভব হচ্ছে না; অথচ এক সপ্তাহ আগেও সেখানে সোনালি ফসলের সমারোহ ছিল।

একই গ্রামের মুসকো খাঁ, সুলেমান মিয়া ও রাজিব মিয়ার মতো অনেক প্রান্তিক কৃষক এখন পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। কৃষকদের অভিযোগ, হাওড়ের জলকপাট অকার্যকর থাকা এবং নদী-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না, ফলে এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রমতে, কংস ও উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, মূলত ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি এবং পলি জমে নদ-নদী ভরাট হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে এই কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। খালিয়াজুরি উপজেলায় এখনো প্রায় ৪ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমি পানির নিচে থাকলেও বাঁধ রক্ষার তদারকি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ