ঢাকা নিউজ

মর্গে বাবা, হাসপাতালের বেডে আহত মা, পাশেই বসে আছে তাদের অবুঝ ৪ শিশু



মর্গে বাবা, হাসপাতালের বেডে আহত মা, পাশেই বসে আছে তাদের অবুঝ ৪ শিশু
ছবি : সংগৃহীত

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমায় আজ রোববার ভোরে শ্রমিকবাহী পিকআপ ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮ নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সিলেটের লালারগাঁও এলাকার বাসিন্দা বদরুল আমিন, আর তার স্ত্রী হাফিজা বেগম গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জীবিকার তাগিদে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে কাজে যাওয়ার পথেই এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন।

হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে যখন আহত হাফিজা বেগম যন্ত্রণায় ছটফট করছেন, তখন তার চার শিশু সন্তান তামিম, জুবায়ের, তানিয়া ও তাকরিম পাশেই খেলাধুলায় মগ্ন। তারা এখনো জানে না যে তাদের বাবা হাসপাতালের অন্য ভবনের মর্গে নিথর দেহে পড়ে আছেন। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে অটোরিকশা চালানো ছেড়ে কিছুদিন আগেই নির্মাণ শ্রমিকের কাজে যোগ দিয়েছিলেন বদরুল, কিন্তু এক নিমেষেই তার সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল।

নিহত বদরুলের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অভাব-অনটনের মধ্যেও তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল ছিলেন। সম্প্রতি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে শহরের ভাতালিয়া এলাকায় নতুন করে সংসার গুছিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আত্মীয়-স্বজনরা। চারজন অবুঝ শিশুর ভবিষ্যৎ এবং আহত মায়ের চিকিৎসা নিয়ে পুরো পরিবার এখন গভীর সংকটের মুখে।

সুনামগঞ্জে নির্মাণ কাজে যাওয়ার পথে ঘটা এই দুর্ঘটনায় নিহত অন্য ৩ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে, যারা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাসিন্দা। বাকি ৪ জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনার পর থেকে পিকআপ ও ট্রাকের চালক পলাতক রয়েছে। এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


মর্গে বাবা, হাসপাতালের বেডে আহত মা, পাশেই বসে আছে তাদের অবুঝ ৪ শিশু

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমায় আজ রোববার ভোরে শ্রমিকবাহী পিকআপ ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮ নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সিলেটের লালারগাঁও এলাকার বাসিন্দা বদরুল আমিন, আর তার স্ত্রী হাফিজা বেগম গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জীবিকার তাগিদে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে কাজে যাওয়ার পথেই এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন।

হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে যখন আহত হাফিজা বেগম যন্ত্রণায় ছটফট করছেন, তখন তার চার শিশু সন্তান তামিম, জুবায়ের, তানিয়া ও তাকরিম পাশেই খেলাধুলায় মগ্ন। তারা এখনো জানে না যে তাদের বাবা হাসপাতালের অন্য ভবনের মর্গে নিথর দেহে পড়ে আছেন। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে অটোরিকশা চালানো ছেড়ে কিছুদিন আগেই নির্মাণ শ্রমিকের কাজে যোগ দিয়েছিলেন বদরুল, কিন্তু এক নিমেষেই তার সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল।

নিহত বদরুলের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অভাব-অনটনের মধ্যেও তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল ছিলেন। সম্প্রতি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে শহরের ভাতালিয়া এলাকায় নতুন করে সংসার গুছিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আত্মীয়-স্বজনরা। চারজন অবুঝ শিশুর ভবিষ্যৎ এবং আহত মায়ের চিকিৎসা নিয়ে পুরো পরিবার এখন গভীর সংকটের মুখে।

সুনামগঞ্জে নির্মাণ কাজে যাওয়ার পথে ঘটা এই দুর্ঘটনায় নিহত অন্য ৩ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে, যারা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাসিন্দা। বাকি ৪ জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনার পর থেকে পিকআপ ও ট্রাকের চালক পলাতক রয়েছে। এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ