ঢাকা নিউজ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস, কমছে চাহিদা



বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস, কমছে চাহিদা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। মূলত মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগে উচ্চ সুদের হার দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রত্যাশায় এই দরপতন দেখা দিয়েছে।

সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২৩ দশমিক ২৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৩০ ডলারে স্থির হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

টিডি সিকিউরিটিজের গ্লোবাল হেড অব কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বার্ট মেলেক জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি বাজারে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে এবং সুদের হার নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চার সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে এবং ব্রেন্ট তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

ডলার শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণের দাম বেড়ে গেছে, যার ফলে এর বৈশ্বিক চাহিদা কমেছে। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচুতে রাখার ধারণাকে আরও জোরালো করেছে।

চলতি বছর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাবে না—এমন ধারণা এখন বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রবল হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণ সাধারণত অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে কাজ করলেও উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এটি বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণ হারায়।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভারের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ, প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্ববাজারে এই দরপতনের প্রভাবে বাংলাদেশের বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানো হতে পারে বলে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে। এর আগে সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস, কমছে চাহিদা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। মূলত মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগে উচ্চ সুদের হার দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রত্যাশায় এই দরপতন দেখা দিয়েছে।

সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২৩ দশমিক ২৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৩০ ডলারে স্থির হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

টিডি সিকিউরিটিজের গ্লোবাল হেড অব কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বার্ট মেলেক জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি বাজারে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে এবং সুদের হার নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চার সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে এবং ব্রেন্ট তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

ডলার শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণের দাম বেড়ে গেছে, যার ফলে এর বৈশ্বিক চাহিদা কমেছে। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচুতে রাখার ধারণাকে আরও জোরালো করেছে।

চলতি বছর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাবে না—এমন ধারণা এখন বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রবল হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণ সাধারণত অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে কাজ করলেও উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এটি বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণ হারায়।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভারের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ, প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্ববাজারে এই দরপতনের প্রভাবে বাংলাদেশের বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানো হতে পারে বলে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে। এর আগে সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ