ঢাকা নিউজ

গভীর কূপ খননে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন যুগে বাংলাদেশ



গভীর কূপ খননে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন যুগে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ডে ইতিহাস তৈরির লক্ষ্যে গভীর কূপ খননের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এতদিন এই গ্যাস ফিল্ডে ৩৭০০ মিটারের ওপর থেকে গ্যাস তোলা হলেও, এবার অত্যাধুনিক খনন রিগ ব্যবহার করে ৫৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত অনুসন্ধান চালানো হবে।

ইতিমধ্যেই তিতাস-৩১ কূপটির প্রায় সোয়া কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে। বাপেক্সের থ্রিডি সিসমিক সার্ভে অনুযায়ী, এই কূপের গভীর স্তরে কমপক্ষে ২ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস প্রাপ্তির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তিতাস গ্যাস ফিল্ডে উচ্চ চাপের কারণে অতীতে গভীর খনন সম্ভব না হলেও, এবারই প্রথম এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিতাস গ্যাস ফিল্ডে গ্যাসের মূল উৎসের অবস্থান প্রায় ৫ হাজার মিটারের নিচে। তাত্ত্বিকভাবে সোর্স রকের যত কাছে যাওয়া যাবে, গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা তত বেশি থাকবে। বর্তমানে দেশের এই বৃহত্তম গ্যাস ফিল্ড থেকে ১.৬৫ টিসিএফ গ্যাস অবশিষ্ট থাকলেও, গভীর স্তরে নতুন করে আরও আড়াই টিসিএফ পর্যন্ত মজুদের আশা করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিতাস ছাড়াও বাখরাবাদ, শ্রীকাইল ও মোবারকপুরে গভীর কূপ খনন করা হবে। দেশীয় কোম্পানিগুলোর এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকায় বিদেশি ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই গভীর খনন প্রক্রিয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং ঝুঁকিপূর্ণ, যার জন্য তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো দক্ষ জনবল সার্বক্ষণিক মাঠে থাকা জরুরি।

বর্তমানে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে, যেখানে দৈনিক চাহিদার বিপরীতে প্রায় ১২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি সামাল দিতে শিল্প, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সার কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তিতাসের এই গভীর খনন প্রকল্প সফল হলে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে সাগরে প্রতিবেশী মিয়ানমারের গ্যাস উত্তোলন এবং ভারতের অশোকনগরে তেল আবিস্কারের ফলে বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল ও গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা গেলে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


গভীর কূপ খননে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন যুগে বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ডে ইতিহাস তৈরির লক্ষ্যে গভীর কূপ খননের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এতদিন এই গ্যাস ফিল্ডে ৩৭০০ মিটারের ওপর থেকে গ্যাস তোলা হলেও, এবার অত্যাধুনিক খনন রিগ ব্যবহার করে ৫৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত অনুসন্ধান চালানো হবে।

ইতিমধ্যেই তিতাস-৩১ কূপটির প্রায় সোয়া কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে। বাপেক্সের থ্রিডি সিসমিক সার্ভে অনুযায়ী, এই কূপের গভীর স্তরে কমপক্ষে ২ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস প্রাপ্তির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তিতাস গ্যাস ফিল্ডে উচ্চ চাপের কারণে অতীতে গভীর খনন সম্ভব না হলেও, এবারই প্রথম এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিতাস গ্যাস ফিল্ডে গ্যাসের মূল উৎসের অবস্থান প্রায় ৫ হাজার মিটারের নিচে। তাত্ত্বিকভাবে সোর্স রকের যত কাছে যাওয়া যাবে, গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা তত বেশি থাকবে। বর্তমানে দেশের এই বৃহত্তম গ্যাস ফিল্ড থেকে ১.৬৫ টিসিএফ গ্যাস অবশিষ্ট থাকলেও, গভীর স্তরে নতুন করে আরও আড়াই টিসিএফ পর্যন্ত মজুদের আশা করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিতাস ছাড়াও বাখরাবাদ, শ্রীকাইল ও মোবারকপুরে গভীর কূপ খনন করা হবে। দেশীয় কোম্পানিগুলোর এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকায় বিদেশি ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই গভীর খনন প্রক্রিয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং ঝুঁকিপূর্ণ, যার জন্য তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো দক্ষ জনবল সার্বক্ষণিক মাঠে থাকা জরুরি।

বর্তমানে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে, যেখানে দৈনিক চাহিদার বিপরীতে প্রায় ১২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি সামাল দিতে শিল্প, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সার কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তিতাসের এই গভীর খনন প্রকল্প সফল হলে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে সাগরে প্রতিবেশী মিয়ানমারের গ্যাস উত্তোলন এবং ভারতের অশোকনগরে তেল আবিস্কারের ফলে বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল ও গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা গেলে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ