তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা নতুন মোড় নিয়েছে। অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়ের দল ‘টিভিকে’ সরকার গঠনের দাবি জানালেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রাজ্যের গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার। এনডিটিভির সূত্র অনুযায়ী, গভর্নর সরাসরি বিজয়কে প্রশ্ন করেছেন— “১১৩ জন বিধায়ক নিয়ে কীভাবে সরকার পরিচালনা করবেন, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮ জনের সমর্থন?”
গভর্নর আরও জানতে চেয়েছেন, কোন কোন দল বিজয়কে সমর্থনের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে সমর্থনের যে দাবিগুলো করা হচ্ছে তার ভিত্তি কী। জবাবে বিজয় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি বিধানসভায় আস্থা ভোটের মাধ্যমে তাঁর শক্তি প্রমাণ করতে প্রস্তুত এবং সরকার গঠনের সুযোগ না দেওয়া হলে প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ে নামবেন।
বর্তমান সমীকরণ ও জটিলতা:
টিভিকের অবস্থান: নির্বাচনে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বিজয়ের টিভিকে। ১১৮-র ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে এখনো তাদের ১০টি আসন প্রয়োজন।
কংগ্রেসের সমর্থন: কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার কথা জানালেও শর্ত দিয়েছে যে, জোটে বিজেপির মতো কোনো ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’ থাকা চলবে না। কংগ্রেসসহ বর্তমানে বিজয়ের ঝুলিতে রয়েছে ১১৩টি আসন।
বাকি ৫ আসনের খোঁজ: প্রয়োজনীয় বাকি সমর্থন পেতে বিজয় সিপিআই, সিপিএম, ভিসিকে এবং পিএমকের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। এই দলগুলো সমর্থন দিলে সংখ্যা ১২২-এ পৌঁছাতে পারে। তবে ভিসিকে ও পিএমকে বর্তমানে যথাক্রমে ডিএমকে ও এনডিএ জোটের শরিক হওয়ায় তাদের পক্ষ পরিবর্তন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং।
এআইএডিএমকে ফ্যাক্টর: গুঞ্জন রয়েছে যে এআইএডিএমকের একাধিক বিধায়ক বিজয়ের দিকে ঝুঁকে আছেন, তবে দলটির শীর্ষ নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের কথা অস্বীকার করেছেন।
রিসোর্ট পলিটিক্স ও পরবর্তী পদক্ষেপ: রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং বিধায়ক কেনাবেচা ঠেকাতে বিজয়ের ১০৭ জন বিধায়ককে চেন্নাইয়ের কাছের মামল্লাপুরমের একটি রিসোর্টে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে এআইএডিএমকের কিছু বিধায়ককেও পুদুচেরির একটি রিসোর্টে রাখা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
যদি বিজয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১১৮ জনের লিখিত সমর্থন দেখাতে ব্যর্থ হন, তবে গভর্নর বিধানসভা স্থগিত করে রাষ্ট্রপতি শাসনের (প্রেসিডেন্টস রুল) সুপারিশ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তামিলনাড়ুকে পুনরায় নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যের ক্ষমতার মসনদে শেষ পর্যন্ত কে বসবেন, তা নিয়ে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা নতুন মোড় নিয়েছে। অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়ের দল ‘টিভিকে’ সরকার গঠনের দাবি জানালেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রাজ্যের গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার। এনডিটিভির সূত্র অনুযায়ী, গভর্নর সরাসরি বিজয়কে প্রশ্ন করেছেন— “১১৩ জন বিধায়ক নিয়ে কীভাবে সরকার পরিচালনা করবেন, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮ জনের সমর্থন?”
গভর্নর আরও জানতে চেয়েছেন, কোন কোন দল বিজয়কে সমর্থনের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে সমর্থনের যে দাবিগুলো করা হচ্ছে তার ভিত্তি কী। জবাবে বিজয় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি বিধানসভায় আস্থা ভোটের মাধ্যমে তাঁর শক্তি প্রমাণ করতে প্রস্তুত এবং সরকার গঠনের সুযোগ না দেওয়া হলে প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ে নামবেন।
বর্তমান সমীকরণ ও জটিলতা:
টিভিকের অবস্থান: নির্বাচনে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বিজয়ের টিভিকে। ১১৮-র ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে এখনো তাদের ১০টি আসন প্রয়োজন।
কংগ্রেসের সমর্থন: কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার কথা জানালেও শর্ত দিয়েছে যে, জোটে বিজেপির মতো কোনো ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’ থাকা চলবে না। কংগ্রেসসহ বর্তমানে বিজয়ের ঝুলিতে রয়েছে ১১৩টি আসন।
বাকি ৫ আসনের খোঁজ: প্রয়োজনীয় বাকি সমর্থন পেতে বিজয় সিপিআই, সিপিএম, ভিসিকে এবং পিএমকের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। এই দলগুলো সমর্থন দিলে সংখ্যা ১২২-এ পৌঁছাতে পারে। তবে ভিসিকে ও পিএমকে বর্তমানে যথাক্রমে ডিএমকে ও এনডিএ জোটের শরিক হওয়ায় তাদের পক্ষ পরিবর্তন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং।
এআইএডিএমকে ফ্যাক্টর: গুঞ্জন রয়েছে যে এআইএডিএমকের একাধিক বিধায়ক বিজয়ের দিকে ঝুঁকে আছেন, তবে দলটির শীর্ষ নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের কথা অস্বীকার করেছেন।
রিসোর্ট পলিটিক্স ও পরবর্তী পদক্ষেপ: রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং বিধায়ক কেনাবেচা ঠেকাতে বিজয়ের ১০৭ জন বিধায়ককে চেন্নাইয়ের কাছের মামল্লাপুরমের একটি রিসোর্টে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে এআইএডিএমকের কিছু বিধায়ককেও পুদুচেরির একটি রিসোর্টে রাখা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
যদি বিজয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১১৮ জনের লিখিত সমর্থন দেখাতে ব্যর্থ হন, তবে গভর্নর বিধানসভা স্থগিত করে রাষ্ট্রপতি শাসনের (প্রেসিডেন্টস রুল) সুপারিশ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তামিলনাড়ুকে পুনরায় নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যের ক্ষমতার মসনদে শেষ পর্যন্ত কে বসবেন, তা নিয়ে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন