যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চলতি সপ্তাহে বেইজিংয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ট্রাম্পের চীন পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং পরবর্তী দুই দিন দুই নেতার মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ছয় মাসেরও বেশি সময় পর বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশের শীর্ষ নেতাদের এই প্রথম সরাসরি সাক্ষাতে ইরান, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্যর মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
বৈঠকে দুই দেশ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে ‘বোর্ড অব ট্রেড’ এবং ‘বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট’ নামক নতুন ফোরাম গঠনের ঘোষণা দিতে পারে। এ ছাড়া চীন বোয়িং উড়োজাহাজ, মার্কিন কৃষিপণ্য ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ক্রয়চুক্তি করতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বর্তমানে কার্যকর থাকা বিরল খনিজ সরবরাহসংক্রান্ত বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরান ইস্যুটি এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাত নিরসনে এবং তেহরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় আনতে শি জিনপিংয়ের ওপর চাপ বাড়াতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। এ ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ এই আলোচনায় উঠে আসবে। অন্যদিকে তাইওয়ান প্রশ্নে ওয়াশিংটনের সমর্থন নিয়ে চীনের অসন্তুষ্টি এবং বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
প্রযুক্তিগত ঝুঁকির বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন চীনে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এআই ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি বা ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একটি স্থায়ী চ্যানেল তৈরির প্রস্তাব দিতে পারে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে চাইলেও বেইজিং এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আগ্রহ দেখায়নি বলে জানা গেছে।
এর আগে গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই নেতার বৈঠকে তীব্র বাণিজ্যযুদ্ধে সাময়িক বিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছিল এবং চীন বিরল খনিজ সরবরাহ সীমিত করার হুমকি দিয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট কিছু শুল্কের আইনি বৈধতা নেই বলে রায় দিলেও ট্রাম্প নতুন আইনি পথে শুল্ক আরোপের অঙ্গীকার করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প-শি বৈঠক বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চলতি সপ্তাহে বেইজিংয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ট্রাম্পের চীন পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং পরবর্তী দুই দিন দুই নেতার মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ছয় মাসেরও বেশি সময় পর বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশের শীর্ষ নেতাদের এই প্রথম সরাসরি সাক্ষাতে ইরান, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্যর মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
বৈঠকে দুই দেশ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে ‘বোর্ড অব ট্রেড’ এবং ‘বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট’ নামক নতুন ফোরাম গঠনের ঘোষণা দিতে পারে। এ ছাড়া চীন বোয়িং উড়োজাহাজ, মার্কিন কৃষিপণ্য ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ক্রয়চুক্তি করতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বর্তমানে কার্যকর থাকা বিরল খনিজ সরবরাহসংক্রান্ত বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরান ইস্যুটি এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাত নিরসনে এবং তেহরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় আনতে শি জিনপিংয়ের ওপর চাপ বাড়াতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। এ ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ এই আলোচনায় উঠে আসবে। অন্যদিকে তাইওয়ান প্রশ্নে ওয়াশিংটনের সমর্থন নিয়ে চীনের অসন্তুষ্টি এবং বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
প্রযুক্তিগত ঝুঁকির বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন চীনে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এআই ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি বা ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একটি স্থায়ী চ্যানেল তৈরির প্রস্তাব দিতে পারে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে চাইলেও বেইজিং এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আগ্রহ দেখায়নি বলে জানা গেছে।
এর আগে গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই নেতার বৈঠকে তীব্র বাণিজ্যযুদ্ধে সাময়িক বিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছিল এবং চীন বিরল খনিজ সরবরাহ সীমিত করার হুমকি দিয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট কিছু শুল্কের আইনি বৈধতা নেই বলে রায় দিলেও ট্রাম্প নতুন আইনি পথে শুল্ক আরোপের অঙ্গীকার করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প-শি বৈঠক বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন