ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই রায়ের ফলে এখন থেকে গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা কোনোভাবেই প্রকাশ করা যাবে না। সোমবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। আদালতের মতে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করা নারীর প্রতি বৈষম্য এবং কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে সমাজে যে বৈষম্য তৈরি হয়, তা সংবিধানের মৌলিক নীতির পরিপন্থি। এটি নারীর মর্যাদা, সমতা এবং জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন। আদালত মনে করেন, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল নজরদারি ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
হাইকোর্ট আরও জানান, বাংলাদেশে এই বিষয়ে মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি সামাজিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছে। অনাগত শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিচারকরা মত দিয়েছেন। প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে কঠোর আইন থাকলেও বাংলাদেশে এর অভাব ছিল বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
আদালত এই নির্দেশনাকে ‘কনটিনিউয়াস ম্যান্ডামাস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যার ফলে ভবিষ্যতে এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি আদালত নিজেই সরাসরি তদারকি করতে পারবেন। কেবল গাইডলাইন প্রণয়ন নয়, বরং কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন উচ্চ আদালত।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই রায়ের ফলে এখন থেকে গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা কোনোভাবেই প্রকাশ করা যাবে না। সোমবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। আদালতের মতে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করা নারীর প্রতি বৈষম্য এবং কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে সমাজে যে বৈষম্য তৈরি হয়, তা সংবিধানের মৌলিক নীতির পরিপন্থি। এটি নারীর মর্যাদা, সমতা এবং জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন। আদালত মনে করেন, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল নজরদারি ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
হাইকোর্ট আরও জানান, বাংলাদেশে এই বিষয়ে মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি সামাজিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছে। অনাগত শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিচারকরা মত দিয়েছেন। প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে কঠোর আইন থাকলেও বাংলাদেশে এর অভাব ছিল বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
আদালত এই নির্দেশনাকে ‘কনটিনিউয়াস ম্যান্ডামাস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যার ফলে ভবিষ্যতে এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি আদালত নিজেই সরাসরি তদারকি করতে পারবেন। কেবল গাইডলাইন প্রণয়ন নয়, বরং কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন উচ্চ আদালত।

আপনার মতামত লিখুন