চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানার বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে শনিবার রাতে তাকে প্রত্যাহারের তথ্য জানা যায় এবং খুলশী থানার নতুন ওসি হিসেবে মোহাম্মদ সোলাইমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা এবং এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ওঠার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
খুলশী থানা পুলিশ গত শুক্রবার রাতে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় ডিবি পরিচয়ে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ সদস্যরা তাকে মারধর করেন এবং থানায় নেওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় ওসি আরিফুর রহমান তাকে আসামি সম্বোধন করে চোখ নিচে নামিয়ে কথা বলতে ধমক দিয়ে হেনস্তা করেন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এর পাশাপাশি আকবরশাহ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মো. সুমনকে দুই লাখ টাকা ঘুস না দেওয়ায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সিএমপি সদর দপ্তরে হামলার একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে ওসি আরিফের বিরুদ্ধে। সুমনের পরিবারের দাবি, ওসির বডিগার্ড মেজবাহর মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল এবং ৫০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও সুমনকে ছাড়া হয়নি। তবে ঘটনার দিন সুমন আকবরশাহ থানাধীন ফয়'স লেক এলাকায় মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতারা।
পুলিশের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতেও নানা রাজনৈতিক ভোলবদল ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালের দিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওবায়দুল কাদেরের এলাকা কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি থাকাকালীন দলটির গুণগান গেয়ে বক্তব্য দেওয়া আরিফুর রহমানের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সে সময় তিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেও পরবর্তী সময়ে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানায় থাকাকালীন এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর কাছ থেকে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সদর দপ্তর তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নিয়েছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আরিফুর রহমান নিজেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা পরিচয় দিয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসির পদ বাগিয়ে নেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে ভূমি দখল ও মাদককারবারিদের সহায়তার অভিযোগে ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। এ ছাড়া সহকর্মী ও পাঁচলাইশ থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে নিয়ে এক তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর সঙ্গে তার আপত্তিকর ফোনালাপও ছড়িয়ে পড়েছিল। এসব অভিযোগের বিষয়ে আরিফুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানার বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে শনিবার রাতে তাকে প্রত্যাহারের তথ্য জানা যায় এবং খুলশী থানার নতুন ওসি হিসেবে মোহাম্মদ সোলাইমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা এবং এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ওঠার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
খুলশী থানা পুলিশ গত শুক্রবার রাতে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় ডিবি পরিচয়ে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ সদস্যরা তাকে মারধর করেন এবং থানায় নেওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় ওসি আরিফুর রহমান তাকে আসামি সম্বোধন করে চোখ নিচে নামিয়ে কথা বলতে ধমক দিয়ে হেনস্তা করেন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এর পাশাপাশি আকবরশাহ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মো. সুমনকে দুই লাখ টাকা ঘুস না দেওয়ায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সিএমপি সদর দপ্তরে হামলার একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে ওসি আরিফের বিরুদ্ধে। সুমনের পরিবারের দাবি, ওসির বডিগার্ড মেজবাহর মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল এবং ৫০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও সুমনকে ছাড়া হয়নি। তবে ঘটনার দিন সুমন আকবরশাহ থানাধীন ফয়'স লেক এলাকায় মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতারা।
পুলিশের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতেও নানা রাজনৈতিক ভোলবদল ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালের দিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওবায়দুল কাদেরের এলাকা কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি থাকাকালীন দলটির গুণগান গেয়ে বক্তব্য দেওয়া আরিফুর রহমানের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সে সময় তিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেও পরবর্তী সময়ে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানায় থাকাকালীন এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর কাছ থেকে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সদর দপ্তর তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নিয়েছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আরিফুর রহমান নিজেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা পরিচয় দিয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসির পদ বাগিয়ে নেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে ভূমি দখল ও মাদককারবারিদের সহায়তার অভিযোগে ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। এ ছাড়া সহকর্মী ও পাঁচলাইশ থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে নিয়ে এক তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর সঙ্গে তার আপত্তিকর ফোনালাপও ছড়িয়ে পড়েছিল। এসব অভিযোগের বিষয়ে আরিফুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আপনার মতামত লিখুন