ঢাকা নিউজ

আত্মশুদ্ধি ও নেক আমলের মাধ্যমে হিজরি বছর বরণ



আত্মশুদ্ধি ও নেক আমলের মাধ্যমে হিজরি বছর বরণ
ছবি : সংগৃহীত

সময়ের পরিক্রমায় আবারও উপস্থিত হতে যাচ্ছে নতুন হিজরি বছর, যা কোনো আনন্দ-উৎসবের উপলক্ষ নয়; বরং এটি আত্মসমালোচনা, তওবা, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। হিজরি সনের সূচনা জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম মহান ঘটনা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরতের সঙ্গে, যা ত্যাগ, ধৈর্য, সংগ্রাম, ইমান ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসার এক অনন্য শিক্ষা দেয়। নতুন হিজরি বছর শুরু হয় মহিমান্বিত মহররম মাসের মাধ্যমে, যে মাসে একজন সচেতন মুসলমানের উচিত নেক আমল, তওবা এবং আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে বছরটিকে স্বাগত জানানো।

মহান আল্লাহ তাআলা যে চারটি মাসকে বিশেষ মর্যাদা (আশহুরে হুরুম) দান করেছেন, মহররম তার অন্যতম। সুরা তাওবাহর ৩৬ নম্বর আয়াত অনুযায়ী, এই সম্মানিত মাসগুলোতে নেক আমলের সওয়াব যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি গুনাহের ভয়াবহতাও বৃদ্ধি পায়। তাই এ মাসে পাপ থেকে বেঁচে থাকা এবং বেশি বেশি ইবাদতে মনোনিবেশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) একে ‘আল্লাহর মাস’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং হাদিস অনুযায়ী রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।

মহররম মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো ১০ মহররম বা আশুরা। এদিন আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.) ও তার কওমকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন বলে ইহুদিরা রোজা রাখত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে জানান যে মুসা (আ.)-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে মুসলমানরা বেশি হকদার এবং তিনি নিজেও রোজা রাখেন ও সাহাবিদের নির্দেশ দেন। আশুরার একটি রোজার মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা হওয়ার ফজিলত রয়েছে, তবে ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য এড়াতে ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম মিলিয়ে দুটি রোজা রাখা উত্তম।

হিজরি নববর্ষে একজন মুসলমানের প্রধান করণীয়গুলোর মধ্যে রয়েছে খাঁটি তওবা করা, গত বছরের আমল পর্যালোচনা করে আত্মসমালোচনা করা এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া। এর পাশাপাশি কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করা, নফল রোজা ও ইবাদত বৃদ্ধি করা, দান-সদকা ও মানবসেবা করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক সুদৃঢ় করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।

তবে হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন বিশেষ দোয়া, নির্দিষ্ট নামাজ বা উৎসবমুখর আয়োজনের অনেকগুলোরই কোনো সহিহ ভিত্তি কুরআন-সুন্নাহতে পাওয়া যায় না। হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্বীনের মধ্যে মনগড়া কিছু সংযোজন করা হলে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। তাই মহররম মাসের ফজিলত ও আশুরার গুরুত্ব উপলব্ধি করে সকল ইবাদত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী করার মাধ্যমে নতুন বছরকে কল্যাণ, বরকত ও নাজাতের বছর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


আত্মশুদ্ধি ও নেক আমলের মাধ্যমে হিজরি বছর বরণ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

সময়ের পরিক্রমায় আবারও উপস্থিত হতে যাচ্ছে নতুন হিজরি বছর, যা কোনো আনন্দ-উৎসবের উপলক্ষ নয়; বরং এটি আত্মসমালোচনা, তওবা, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। হিজরি সনের সূচনা জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম মহান ঘটনা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরতের সঙ্গে, যা ত্যাগ, ধৈর্য, সংগ্রাম, ইমান ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসার এক অনন্য শিক্ষা দেয়। নতুন হিজরি বছর শুরু হয় মহিমান্বিত মহররম মাসের মাধ্যমে, যে মাসে একজন সচেতন মুসলমানের উচিত নেক আমল, তওবা এবং আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে বছরটিকে স্বাগত জানানো।

মহান আল্লাহ তাআলা যে চারটি মাসকে বিশেষ মর্যাদা (আশহুরে হুরুম) দান করেছেন, মহররম তার অন্যতম। সুরা তাওবাহর ৩৬ নম্বর আয়াত অনুযায়ী, এই সম্মানিত মাসগুলোতে নেক আমলের সওয়াব যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি গুনাহের ভয়াবহতাও বৃদ্ধি পায়। তাই এ মাসে পাপ থেকে বেঁচে থাকা এবং বেশি বেশি ইবাদতে মনোনিবেশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) একে ‘আল্লাহর মাস’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং হাদিস অনুযায়ী রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।

মহররম মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো ১০ মহররম বা আশুরা। এদিন আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.) ও তার কওমকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন বলে ইহুদিরা রোজা রাখত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে জানান যে মুসা (আ.)-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে মুসলমানরা বেশি হকদার এবং তিনি নিজেও রোজা রাখেন ও সাহাবিদের নির্দেশ দেন। আশুরার একটি রোজার মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা হওয়ার ফজিলত রয়েছে, তবে ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য এড়াতে ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম মিলিয়ে দুটি রোজা রাখা উত্তম।

হিজরি নববর্ষে একজন মুসলমানের প্রধান করণীয়গুলোর মধ্যে রয়েছে খাঁটি তওবা করা, গত বছরের আমল পর্যালোচনা করে আত্মসমালোচনা করা এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া। এর পাশাপাশি কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করা, নফল রোজা ও ইবাদত বৃদ্ধি করা, দান-সদকা ও মানবসেবা করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক সুদৃঢ় করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।

তবে হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন বিশেষ দোয়া, নির্দিষ্ট নামাজ বা উৎসবমুখর আয়োজনের অনেকগুলোরই কোনো সহিহ ভিত্তি কুরআন-সুন্নাহতে পাওয়া যায় না। হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্বীনের মধ্যে মনগড়া কিছু সংযোজন করা হলে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। তাই মহররম মাসের ফজিলত ও আশুরার গুরুত্ব উপলব্ধি করে সকল ইবাদত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী করার মাধ্যমে নতুন বছরকে কল্যাণ, বরকত ও নাজাতের বছর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিতে হবে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ