ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি নির্দেশমূলক এবং তাঁর যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার একটি বিল পাস করেছে মার্কিন সিনেট। মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়, যা চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) অনুমোদিত হয়েছিল। মার্কিন ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো যুদ্ধসংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সফলভাবে পাস হলো। তবে এটি মূলত একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, কারণ ধারণা করা হচ্ছে এই প্রস্তাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ভেটো দেবেন।
বর্তমানে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও দলটির চারজন রক্ষণশীল সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। তাঁরা হলেন লুইসিয়ানার বিল কাসিডি, আলাস্কার লিসা মুরকোস্কি, মেইনের সুসান কলিন্স এবং কেনটাকির র্যান্ড পল। এছাড়া কেনটাকির মিচ ম্যাককনেল এবং পেনসিলভেনিয়ার ডেভ ম্যাককরমিক নামের দুজন রিপাবলিকান ভোটদানে বিরত ছিলেন এবং একজন বাদে বাকি সব ডেমোক্র্যাট সদস্য এই প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন জানান। এর মাধ্যমে খোদ রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের একাংশের মধ্যে এই যুদ্ধ নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ডেমোক্রেট নেতা চাক শুমার এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্প ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি এই বিপর্যয়কর যুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকান জনগণের জন্য কেবল সর্বোচ্চ বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা এবং সর্বোচ্চ ক্ষতি বয়ে এনেছেন। ট্রাম্পের এই ঐতিহাসিক ভুলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে যা আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম নিকৃষ্ট পদক্ষেপ হিসেবে লেখা থাকবে। তবে আইডাহোর রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ এর বিরোধিতা করে বলেন, এ প্রস্তাব পাস হলে সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনায় ট্রাম্পের অবস্থান দুর্বল হবে এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কমে গেছে ভেবে ইরানিরা আলোচনা ছেড়ে চলে যাবে।
পাস হওয়া এই যুদ্ধ সংক্রান্ত প্রস্তাবে মূলত ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা বন্ধ করে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এর ভেতরেই পরিষ্কার করা হয়েছে যে, কংগ্রেসের অনুমোদন পেলেই কেবল ট্রাম্প ইরানে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারবেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর ‘আসন্ন কোনো হামলা’ প্রতিরোধের জন্য সীমিত সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার অনুমতি বহাল রাখা হয়েছে। এদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং ইপসোসের মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, দেশটির মাত্র ২৪ শতাংশ আমেরিকান ইরানের সাথে চলমান এই যুদ্ধকে যৌক্তিক মনে করছেন।

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি নির্দেশমূলক এবং তাঁর যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার একটি বিল পাস করেছে মার্কিন সিনেট। মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়, যা চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) অনুমোদিত হয়েছিল। মার্কিন ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো যুদ্ধসংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সফলভাবে পাস হলো। তবে এটি মূলত একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, কারণ ধারণা করা হচ্ছে এই প্রস্তাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ভেটো দেবেন।
বর্তমানে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও দলটির চারজন রক্ষণশীল সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। তাঁরা হলেন লুইসিয়ানার বিল কাসিডি, আলাস্কার লিসা মুরকোস্কি, মেইনের সুসান কলিন্স এবং কেনটাকির র্যান্ড পল। এছাড়া কেনটাকির মিচ ম্যাককনেল এবং পেনসিলভেনিয়ার ডেভ ম্যাককরমিক নামের দুজন রিপাবলিকান ভোটদানে বিরত ছিলেন এবং একজন বাদে বাকি সব ডেমোক্র্যাট সদস্য এই প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন জানান। এর মাধ্যমে খোদ রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের একাংশের মধ্যে এই যুদ্ধ নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ডেমোক্রেট নেতা চাক শুমার এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্প ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি এই বিপর্যয়কর যুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকান জনগণের জন্য কেবল সর্বোচ্চ বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা এবং সর্বোচ্চ ক্ষতি বয়ে এনেছেন। ট্রাম্পের এই ঐতিহাসিক ভুলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে যা আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম নিকৃষ্ট পদক্ষেপ হিসেবে লেখা থাকবে। তবে আইডাহোর রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ এর বিরোধিতা করে বলেন, এ প্রস্তাব পাস হলে সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনায় ট্রাম্পের অবস্থান দুর্বল হবে এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কমে গেছে ভেবে ইরানিরা আলোচনা ছেড়ে চলে যাবে।
পাস হওয়া এই যুদ্ধ সংক্রান্ত প্রস্তাবে মূলত ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা বন্ধ করে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এর ভেতরেই পরিষ্কার করা হয়েছে যে, কংগ্রেসের অনুমোদন পেলেই কেবল ট্রাম্প ইরানে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারবেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর ‘আসন্ন কোনো হামলা’ প্রতিরোধের জন্য সীমিত সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার অনুমতি বহাল রাখা হয়েছে। এদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং ইপসোসের মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, দেশটির মাত্র ২৪ শতাংশ আমেরিকান ইরানের সাথে চলমান এই যুদ্ধকে যৌক্তিক মনে করছেন।

আপনার মতামত লিখুন