ইউরোপের দেশগুলোতে মে-জুন মাসে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোয় জনজীবনে ব্যাপক ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, সাহারা থেকে আসা উষ্ণ বায়ুর কারণে ইউরোপের বিশাল অঞ্চলজুড়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী 'হিট ডোম' বা তাপ বলয় সৃষ্টি হতে পারে, যা পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের ওপর উষ্ণ বাতাস আটকে রেখে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়াচ্ছে। কপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্যমতে, পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে গত মে মাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এবং ফ্রান্সেও মে মাসটি উষ্ণতম মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বর্তমানে পশ্চিম ইউরোপের বিশাল অংশে অনুভূত তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে অত্যন্ত তীব্র তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি নির্দেশ করছে।
তীব্র এই গরমে স্পেনে মে মাসে তাপপ্রবাহজনিত কারণে ১০১ জন, ফ্রান্সে ৭ জন এবং যুক্তরাজ্যে কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা স্পেনে ২০১৫ সালের পর সর্বোচ্চ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা বেশ কয়েকটি অঞ্চলে লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করেছে। তীব্র গরমে ফ্রান্সের রেল নেটওয়ার্ক প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৭১টি আন্তঃনগর ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ৩৫০০ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া প্যারিসের লুভোর জাদুঘরের কনসার্ট, জার্মানির বার্লিন ওপেন টেনিস ফাইনাল স্থগিত করা হয়েছে এবং ইতালির আটটি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বেলজিয়ামের নামুর শহরের কাছে তাপদাহে পাখিসহ প্রায় ১৫০টি প্রাণি অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে পৃথিবী উত্তপ্ত হতে থাকায় যে ঘটনা আগে জুলাই মাসে ঘটত, তা এখন মে-জুনেই ঘটছে এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ১২-১৬° সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ছে। আগামী দিনগুলিতে এই হিট ডোম আরও তীব্র হওয়ার কারণে বায়ুপ্রবাহ আরও উষ্ণ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের ডেটা অনুযায়ী, বিগত তিন বছর (২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫) বিশ্বব্যাপী উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে এবং গত বছরও বহু দেশে খরা ও দাবানলসহ হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। গবেষকদের মতে, ইউরোপীয় গ্রীষ্মকাল শুধু উষ্ণতরই হচ্ছে না, বরং এটি দুই প্রান্তেই দীর্ঘতর হচ্ছে।

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
ইউরোপের দেশগুলোতে মে-জুন মাসে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোয় জনজীবনে ব্যাপক ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, সাহারা থেকে আসা উষ্ণ বায়ুর কারণে ইউরোপের বিশাল অঞ্চলজুড়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী 'হিট ডোম' বা তাপ বলয় সৃষ্টি হতে পারে, যা পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের ওপর উষ্ণ বাতাস আটকে রেখে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়াচ্ছে। কপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্যমতে, পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে গত মে মাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এবং ফ্রান্সেও মে মাসটি উষ্ণতম মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বর্তমানে পশ্চিম ইউরোপের বিশাল অংশে অনুভূত তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে অত্যন্ত তীব্র তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি নির্দেশ করছে।
তীব্র এই গরমে স্পেনে মে মাসে তাপপ্রবাহজনিত কারণে ১০১ জন, ফ্রান্সে ৭ জন এবং যুক্তরাজ্যে কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা স্পেনে ২০১৫ সালের পর সর্বোচ্চ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা বেশ কয়েকটি অঞ্চলে লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করেছে। তীব্র গরমে ফ্রান্সের রেল নেটওয়ার্ক প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৭১টি আন্তঃনগর ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ৩৫০০ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া প্যারিসের লুভোর জাদুঘরের কনসার্ট, জার্মানির বার্লিন ওপেন টেনিস ফাইনাল স্থগিত করা হয়েছে এবং ইতালির আটটি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বেলজিয়ামের নামুর শহরের কাছে তাপদাহে পাখিসহ প্রায় ১৫০টি প্রাণি অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে পৃথিবী উত্তপ্ত হতে থাকায় যে ঘটনা আগে জুলাই মাসে ঘটত, তা এখন মে-জুনেই ঘটছে এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ১২-১৬° সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ছে। আগামী দিনগুলিতে এই হিট ডোম আরও তীব্র হওয়ার কারণে বায়ুপ্রবাহ আরও উষ্ণ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের ডেটা অনুযায়ী, বিগত তিন বছর (২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫) বিশ্বব্যাপী উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে এবং গত বছরও বহু দেশে খরা ও দাবানলসহ হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। গবেষকদের মতে, ইউরোপীয় গ্রীষ্মকাল শুধু উষ্ণতরই হচ্ছে না, বরং এটি দুই প্রান্তেই দীর্ঘতর হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন