রাজধানী ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জানান, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মশক নিধন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কোরীয় বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে একটি সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি ভিত্তিক কেন্দ্রে রূপান্তর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সকল বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন করে সেগুলোকে 'জিরো বর্জ্য' বা শূন্য বর্জ্যে নামিয়ে আনা হবে। এছাড়া শহরের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোতে ল্যান্ডস্কেপিং ও গ্রাফিতির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
শহরকে সবুজে আবৃত করতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আগামী পাঁচ বছরে ৫ লক্ষ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গা এবং উন্মুক্ত সড়ক দ্বীপগুলোতে বনায়ন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। বন অধিদপ্তরের সাথে সমন্বিতভাবে ইতোমধ্যে ৪১ হাজারের বেশি বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার খালি জায়গাগুলোকে বনায়নের আওতায় আনা হবে।
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বায়ুদূষণের উৎস চিহ্নিত করে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন ও অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঢাকার চারপাশের অবৈধ ইটভাটা বন্ধে সাভার উপজেলাকে বিশেষ এলাকা ঘোষণা করে সেখানে খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ঢাকার চারপাশের নদী ও খালের দূষণ রোধে শিল্প-কারখানায় ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে এই প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং সেগুলো পর্যবেক্ষণে আইপি ক্যামেরা ব্যবহারের প্রক্রিয়া চলছে। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকাকে একটি আদর্শ পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানী ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জানান, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মশক নিধন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কোরীয় বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে একটি সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি ভিত্তিক কেন্দ্রে রূপান্তর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সকল বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন করে সেগুলোকে 'জিরো বর্জ্য' বা শূন্য বর্জ্যে নামিয়ে আনা হবে। এছাড়া শহরের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোতে ল্যান্ডস্কেপিং ও গ্রাফিতির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
শহরকে সবুজে আবৃত করতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আগামী পাঁচ বছরে ৫ লক্ষ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গা এবং উন্মুক্ত সড়ক দ্বীপগুলোতে বনায়ন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। বন অধিদপ্তরের সাথে সমন্বিতভাবে ইতোমধ্যে ৪১ হাজারের বেশি বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার খালি জায়গাগুলোকে বনায়নের আওতায় আনা হবে।
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বায়ুদূষণের উৎস চিহ্নিত করে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন ও অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঢাকার চারপাশের অবৈধ ইটভাটা বন্ধে সাভার উপজেলাকে বিশেষ এলাকা ঘোষণা করে সেখানে খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ঢাকার চারপাশের নদী ও খালের দূষণ রোধে শিল্প-কারখানায় ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে এই প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং সেগুলো পর্যবেক্ষণে আইপি ক্যামেরা ব্যবহারের প্রক্রিয়া চলছে। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকাকে একটি আদর্শ পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন