যুক্তরাজ্যে মিশেল ও লাভিনিয়া ওসবোর্ন নামের দুই যমজ বোনের জীবনে এক বিস্ময়কর ও বিরল তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, একই মায়ের গর্ভে জন্ম নিলেও এই যমজ বোনদের বাবা আলাদা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অত্যন্ত বিরল এই ঘটনাটিকে ‘হেটারোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন’ বলা হয়। বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত মাত্র ২০টি এমন ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং মিশেল ও লাভিনিয়াই যুক্তরাজ্যের প্রথম নথিভুক্ত যমজ, যাদের বাবা ভিন্ন।
সাধারণত একজন নারীর একই ঋতুচক্রে একাধিক ডিম্বাণু তৈরি হলে এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের ফলে ওই ডিম্বাণুগুলো পৃথকভাবে নিষিক্ত হলে এমনটি ঘটতে পারে। ১৯৭৬ সালে নটিংহামে জন্ম নেওয়া এই যমজ বোনদের বর্তমান বয়স ৪৯ বছর। তাদের মা ১৯ বছর বয়সে তাদের জন্ম দিয়েছিলেন এবং শৈশবেই তাদের ফেলে চলে যাওয়ায় তারা এক আত্মীয়ের কাছে বড় হন। কৈশোরে তাদের মা 'জেমস' নামের এক ব্যক্তিকে বাবা হিসেবে পরিচয় দিলেও মিশেলের মনে এ নিয়ে সব সময় সংশয় ছিল।
২০২১ সালে তাদের মায়ের স্মৃতিভ্রম রোগ ধরা পড়লে সত্য জানার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মিশেল ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২ সালে মায়ের মৃত্যুর দিনই পরীক্ষার ফলাফলে জানা যায়, জেমস মিশেলের বাবা নন। অনুসন্ধানে তিনি জানতে পারেন তার আসল বাবা 'অ্যালেক্স' নামের এক ব্যক্তি। অন্যদিকে, লাভিনিয়া প্রথমে দ্বিধায় থাকলেও পরে ডিএনএ পরীক্ষা করান এবং দেখা যায় তার বাবা আসলে 'আর্থার' নামের এক অন্য ব্যক্তি।
লাভিনিয়া এখন তার জৈবিক বাবা আর্থারের সান্নিধ্যে রয়েছেন এবং আর্থার দুই বোনকেই আপন করে নিয়েছেন। আর্থারের দেওয়া তথ্য মতে, এক কঠিন বিপদের মুহূর্তে সাহায্য চাইতে গিয়ে তাদের মা গর্ভবতী হয়েছিলেন। মিশেল তার জৈবিক বাবার সন্ধান পেলেও তার সাথে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী হননি।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই বিরল অলৌকিকতা তাদের পরিচয়কে আলাদা করে দিলেও দুই বোনের আত্মিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। যমজ এই বোনদের মতে, ডিএনএ তাদের বাবার পরিচয় ভিন্ন করে দিলেও তাদের জন্মের নিবিড় বন্ধন এবং যমজ হওয়ার সত্যটি চিরকাল অটুট থাকবে। তারা মনে করেন, এই ঘটনাটি তাদের জীবনের এক অদ্ভুত কিন্তু অবিচ্ছেদ্য অংশ।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
যুক্তরাজ্যে মিশেল ও লাভিনিয়া ওসবোর্ন নামের দুই যমজ বোনের জীবনে এক বিস্ময়কর ও বিরল তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, একই মায়ের গর্ভে জন্ম নিলেও এই যমজ বোনদের বাবা আলাদা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অত্যন্ত বিরল এই ঘটনাটিকে ‘হেটারোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন’ বলা হয়। বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত মাত্র ২০টি এমন ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং মিশেল ও লাভিনিয়াই যুক্তরাজ্যের প্রথম নথিভুক্ত যমজ, যাদের বাবা ভিন্ন।
সাধারণত একজন নারীর একই ঋতুচক্রে একাধিক ডিম্বাণু তৈরি হলে এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের ফলে ওই ডিম্বাণুগুলো পৃথকভাবে নিষিক্ত হলে এমনটি ঘটতে পারে। ১৯৭৬ সালে নটিংহামে জন্ম নেওয়া এই যমজ বোনদের বর্তমান বয়স ৪৯ বছর। তাদের মা ১৯ বছর বয়সে তাদের জন্ম দিয়েছিলেন এবং শৈশবেই তাদের ফেলে চলে যাওয়ায় তারা এক আত্মীয়ের কাছে বড় হন। কৈশোরে তাদের মা 'জেমস' নামের এক ব্যক্তিকে বাবা হিসেবে পরিচয় দিলেও মিশেলের মনে এ নিয়ে সব সময় সংশয় ছিল।
২০২১ সালে তাদের মায়ের স্মৃতিভ্রম রোগ ধরা পড়লে সত্য জানার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মিশেল ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২ সালে মায়ের মৃত্যুর দিনই পরীক্ষার ফলাফলে জানা যায়, জেমস মিশেলের বাবা নন। অনুসন্ধানে তিনি জানতে পারেন তার আসল বাবা 'অ্যালেক্স' নামের এক ব্যক্তি। অন্যদিকে, লাভিনিয়া প্রথমে দ্বিধায় থাকলেও পরে ডিএনএ পরীক্ষা করান এবং দেখা যায় তার বাবা আসলে 'আর্থার' নামের এক অন্য ব্যক্তি।
লাভিনিয়া এখন তার জৈবিক বাবা আর্থারের সান্নিধ্যে রয়েছেন এবং আর্থার দুই বোনকেই আপন করে নিয়েছেন। আর্থারের দেওয়া তথ্য মতে, এক কঠিন বিপদের মুহূর্তে সাহায্য চাইতে গিয়ে তাদের মা গর্ভবতী হয়েছিলেন। মিশেল তার জৈবিক বাবার সন্ধান পেলেও তার সাথে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী হননি।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই বিরল অলৌকিকতা তাদের পরিচয়কে আলাদা করে দিলেও দুই বোনের আত্মিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। যমজ এই বোনদের মতে, ডিএনএ তাদের বাবার পরিচয় ভিন্ন করে দিলেও তাদের জন্মের নিবিড় বন্ধন এবং যমজ হওয়ার সত্যটি চিরকাল অটুট থাকবে। তারা মনে করেন, এই ঘটনাটি তাদের জীবনের এক অদ্ভুত কিন্তু অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আপনার মতামত লিখুন