গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের 'ব্লকেড কর্মসূচি' আজ সোমবার (১৮ মে) ৫ম দিনে গড়িয়েছে। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে "দাবি মোদের একটাই, ডুয়েট থেকে ভিসি চাই" স্লোগান দিয়ে মুহুর্মুহু মিছিল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সরকার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই ডুয়েটের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সিদ্ধান্তটি প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামেন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকনেতাও বহিরাগত কারও পরিবর্তে ডুয়েটের নিজস্ব জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
আন্দোলনের পটভূমি ও সহিংসতা:
প্রধান ফটকে তালা: গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা 'লাল কার্ড' কর্মসূচি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে যোগদান করতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
দুই পক্ষের সংঘর্ষ: রোববার সকাল ১০টার দিকে নবনিযুক্ত উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশ ক্যাম্পাসে প্রবেশের জন্য গেট খোলার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
পুলিশ ও সাংবাদিকসহ ২৫ জন আহত: এই সংঘাত ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান, ঊর্ধ্বতন ৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৮ জন পুলিশ সদস্য, গাজীপুর সদর উপজেলার ইউএনও সাজ্জাত হোসেন এবং দৈনিক দিনকালের গাজীপুর স্টাফ রিপোর্টার দেলোয়ার হোসেনসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য: আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এর একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা অন্যান্য সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই ডুয়েটের সার্বিক স্বার্থ ও উন্নয়ন বজায় রাখতে অভ্যন্তরীণ যোগ্য, দক্ষ ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত। বহিরাগত কোনো উপাচার্যকে তারা ক্যাম্পাসে মেনে নেবেন না।
বর্তমানে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে ডুয়েট ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসের আশেপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের 'ব্লকেড কর্মসূচি' আজ সোমবার (১৮ মে) ৫ম দিনে গড়িয়েছে। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে "দাবি মোদের একটাই, ডুয়েট থেকে ভিসি চাই" স্লোগান দিয়ে মুহুর্মুহু মিছিল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সরকার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই ডুয়েটের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সিদ্ধান্তটি প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামেন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকনেতাও বহিরাগত কারও পরিবর্তে ডুয়েটের নিজস্ব জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
আন্দোলনের পটভূমি ও সহিংসতা:
প্রধান ফটকে তালা: গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা 'লাল কার্ড' কর্মসূচি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে যোগদান করতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
দুই পক্ষের সংঘর্ষ: রোববার সকাল ১০টার দিকে নবনিযুক্ত উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশ ক্যাম্পাসে প্রবেশের জন্য গেট খোলার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
পুলিশ ও সাংবাদিকসহ ২৫ জন আহত: এই সংঘাত ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান, ঊর্ধ্বতন ৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৮ জন পুলিশ সদস্য, গাজীপুর সদর উপজেলার ইউএনও সাজ্জাত হোসেন এবং দৈনিক দিনকালের গাজীপুর স্টাফ রিপোর্টার দেলোয়ার হোসেনসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য: আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এর একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা অন্যান্য সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই ডুয়েটের সার্বিক স্বার্থ ও উন্নয়ন বজায় রাখতে অভ্যন্তরীণ যোগ্য, দক্ষ ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত। বহিরাগত কোনো উপাচার্যকে তারা ক্যাম্পাসে মেনে নেবেন না।
বর্তমানে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে ডুয়েট ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসের আশেপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন