সম্প্রতি একটি ইসলামি অনুষ্ঠানে জিনা বা ব্যভিচারের পাপে জড়িয়ে পড়া এক তরুণের অনুশোচনা ও তওবা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, শয়তানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করা। একজন ইমানদারের দায়িত্ব হলো কোনো অবস্থাতেই শয়তানকে এই জায়গায় সফল হতে না দেওয়া। আল্লাহ তাআলা কুরআনে ঘোষণা করেছেন তাঁর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হওয়া যাবে না এবং মানুষ আন্তরিকভাবে তওবা করে ফিরে আসলে ক্ষমার অযোগ্য কোনো গুনাহ নেই।
অনেকে কুরআনের আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করে মনে করেন আল্লাহ শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না, তবে এর সঠিক অর্থ হলো কেউ তওবা ছাড়া শিরকের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তা ক্ষমা করা হবে না, কিন্তু জীবিত অবস্থায় খাঁটি অন্তরে তওবা করলে আল্লাহ তাকেও ক্ষমা করেন। নবী করীম (সা.) বলেছেন, আদম সন্তানের প্রত্যেকেই ভুলকারী এবং তাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে ভুল করার পর তওবা করে নিজেকে সংশোধন করে। সুতরাং বড় গুনাহে জড়িয়ে পড়ার পরও কেউ যদি সত্যিকার অর্থে অনুতপ্ত হয়ে ভবিষ্যতে আর পাপে না ফেরার দৃঢ় সংকল্প করে, তবে আল্লাহ অবশ্যই তার তওবা কবুল করতে পারেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বর্তমান সময়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে ইমানের দুর্বলতা এবং আল্লাহর রহমতের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলাকে চিহ্নিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বৈষয়িক উন্নতি বা প্রযুক্তির প্রাচুর্য মানুষের প্রকৃত সুখ নিশ্চিত করতে পারেনি, বরং কয়েক দশক আগের মানুষের মধ্যে মানসিক প্রশান্তি ও পারিবারিক বন্ধন অনেক বেশি ছিল। মানুষ তখনই আত্মহত্যার দিকে ধাবিত হয় যখন সে মনে করে তার সামনে আর কোনো আশা নেই, কিন্তু একজন মুমিন বিশ্বাস করে যত বড় সংকটই আসুক আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বড়।
শয়তান চায় মানুষ গুনাহের পর হতাশ হয়ে পড়ুক, আর আল্লাহ চান বান্দা তওবা করে তাঁর দিকে ফিরে আসুক। তাই চারদিক অন্ধকার হয়ে গেলেও দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও মুমিনকে আশাবাদী থাকতে হবে। গুনাহ যত বড়ই হোক না কেন, হতাশ না হয়ে তওবার দরজা খোলা আছে—এই বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হৃদয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করাই একজন মুমিনের প্রকৃত পথ।

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
সম্প্রতি একটি ইসলামি অনুষ্ঠানে জিনা বা ব্যভিচারের পাপে জড়িয়ে পড়া এক তরুণের অনুশোচনা ও তওবা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, শয়তানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করা। একজন ইমানদারের দায়িত্ব হলো কোনো অবস্থাতেই শয়তানকে এই জায়গায় সফল হতে না দেওয়া। আল্লাহ তাআলা কুরআনে ঘোষণা করেছেন তাঁর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হওয়া যাবে না এবং মানুষ আন্তরিকভাবে তওবা করে ফিরে আসলে ক্ষমার অযোগ্য কোনো গুনাহ নেই।
অনেকে কুরআনের আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করে মনে করেন আল্লাহ শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না, তবে এর সঠিক অর্থ হলো কেউ তওবা ছাড়া শিরকের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তা ক্ষমা করা হবে না, কিন্তু জীবিত অবস্থায় খাঁটি অন্তরে তওবা করলে আল্লাহ তাকেও ক্ষমা করেন। নবী করীম (সা.) বলেছেন, আদম সন্তানের প্রত্যেকেই ভুলকারী এবং তাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে ভুল করার পর তওবা করে নিজেকে সংশোধন করে। সুতরাং বড় গুনাহে জড়িয়ে পড়ার পরও কেউ যদি সত্যিকার অর্থে অনুতপ্ত হয়ে ভবিষ্যতে আর পাপে না ফেরার দৃঢ় সংকল্প করে, তবে আল্লাহ অবশ্যই তার তওবা কবুল করতে পারেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বর্তমান সময়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে ইমানের দুর্বলতা এবং আল্লাহর রহমতের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলাকে চিহ্নিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বৈষয়িক উন্নতি বা প্রযুক্তির প্রাচুর্য মানুষের প্রকৃত সুখ নিশ্চিত করতে পারেনি, বরং কয়েক দশক আগের মানুষের মধ্যে মানসিক প্রশান্তি ও পারিবারিক বন্ধন অনেক বেশি ছিল। মানুষ তখনই আত্মহত্যার দিকে ধাবিত হয় যখন সে মনে করে তার সামনে আর কোনো আশা নেই, কিন্তু একজন মুমিন বিশ্বাস করে যত বড় সংকটই আসুক আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বড়।
শয়তান চায় মানুষ গুনাহের পর হতাশ হয়ে পড়ুক, আর আল্লাহ চান বান্দা তওবা করে তাঁর দিকে ফিরে আসুক। তাই চারদিক অন্ধকার হয়ে গেলেও দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও মুমিনকে আশাবাদী থাকতে হবে। গুনাহ যত বড়ই হোক না কেন, হতাশ না হয়ে তওবার দরজা খোলা আছে—এই বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হৃদয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করাই একজন মুমিনের প্রকৃত পথ।

আপনার মতামত লিখুন