যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ পরিচালনায় ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ‘গ্রক’ ব্যবহার করে মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে দুই হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে যুদ্ধাস্ত্র বর্ষণ করেছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের (পেন্টাগন) ডিজিটাল ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রধান ক্যামেরন স্ট্যানলির একটি লিখিত সাক্ষ্য থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সরাসরি প্রকাশ পেয়েছে।
মিসিসিপির উত্তর জেলা আদালতে পরিবেশবাদী সংগঠন এনএএসিপি বনাম মাস্কের প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’-এর চলমান একটি দেওয়ানি মামলায় পেন্টাগন কর্মকর্তা ক্যামেরন স্ট্যানলি এই লিখিত ঘোষণা জমা দেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন সরকার এক্সএআই-এর বাণিজ্যিক সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘গ্রক গভ মডেল’ ব্যবহার করছে, যা পেন্টাগনের ‘ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমস’ (এমএসএস)-এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও জাতীয় নিরাপত্তা মিশনে সহায়তা করছে।
স্ট্যানলির তথ্যমতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন এই সিস্টেমের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী মাত্র চার দিনে ২,০০০টি যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করতে সক্ষম হয়, তবে প্রযুক্তিটি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে ইরানের ‘ফাউন্ডেশন অব মার্টিয়ার্স অ্যান্ড ভেটেরান্স’-এর হিসাব অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনের হামলাসহ এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
পেন্টাগনের এই স্বীকারোক্তিটি এসেছে মূলত এক্সএআই-এর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি পরিবেশগত মামলার সূত্র ধরে, যেখানে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে অবস্থিত 'কোলোসাস ২' সুপারকম্পিউটার ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নিয়মবহির্ভূতভাবে ২৭টি মিথেন গ্যাস টারবাইন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করে এনএএসিপি। এই টারবাইনগুলো থেকে নির্গত বিষাক্ত নাইট্রোজেন অক্সাইড কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে দাবি করে সংস্থাটি অবৈধ টারবাইন বন্ধ এবং এক্সএআই-এর ওপর আর্থিক জরিমানার দাবি জানিয়েছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন এবং মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই মামলাটি খারিজ করার জন্য আদালতের কাছে জোর আবেদন জানিয়েছে। পেন্টাগন কর্মকর্তা ও প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে যুক্তি দেখিয়েছেন যে, ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম ব্যাহত হলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং কোনো বেসরকারি সংস্থা পরিবেশগত আইন ব্যবহার করে দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলবে—এমনটা মার্কিন সরকার মেনে নেবে না।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ পরিচালনায় ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ‘গ্রক’ ব্যবহার করে মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে দুই হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে যুদ্ধাস্ত্র বর্ষণ করেছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের (পেন্টাগন) ডিজিটাল ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রধান ক্যামেরন স্ট্যানলির একটি লিখিত সাক্ষ্য থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সরাসরি প্রকাশ পেয়েছে।
মিসিসিপির উত্তর জেলা আদালতে পরিবেশবাদী সংগঠন এনএএসিপি বনাম মাস্কের প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’-এর চলমান একটি দেওয়ানি মামলায় পেন্টাগন কর্মকর্তা ক্যামেরন স্ট্যানলি এই লিখিত ঘোষণা জমা দেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন সরকার এক্সএআই-এর বাণিজ্যিক সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘গ্রক গভ মডেল’ ব্যবহার করছে, যা পেন্টাগনের ‘ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমস’ (এমএসএস)-এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও জাতীয় নিরাপত্তা মিশনে সহায়তা করছে।
স্ট্যানলির তথ্যমতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন এই সিস্টেমের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী মাত্র চার দিনে ২,০০০টি যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করতে সক্ষম হয়, তবে প্রযুক্তিটি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে ইরানের ‘ফাউন্ডেশন অব মার্টিয়ার্স অ্যান্ড ভেটেরান্স’-এর হিসাব অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনের হামলাসহ এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
পেন্টাগনের এই স্বীকারোক্তিটি এসেছে মূলত এক্সএআই-এর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি পরিবেশগত মামলার সূত্র ধরে, যেখানে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে অবস্থিত 'কোলোসাস ২' সুপারকম্পিউটার ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নিয়মবহির্ভূতভাবে ২৭টি মিথেন গ্যাস টারবাইন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করে এনএএসিপি। এই টারবাইনগুলো থেকে নির্গত বিষাক্ত নাইট্রোজেন অক্সাইড কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে দাবি করে সংস্থাটি অবৈধ টারবাইন বন্ধ এবং এক্সএআই-এর ওপর আর্থিক জরিমানার দাবি জানিয়েছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন এবং মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই মামলাটি খারিজ করার জন্য আদালতের কাছে জোর আবেদন জানিয়েছে। পেন্টাগন কর্মকর্তা ও প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে যুক্তি দেখিয়েছেন যে, ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম ব্যাহত হলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং কোনো বেসরকারি সংস্থা পরিবেশগত আইন ব্যবহার করে দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলবে—এমনটা মার্কিন সরকার মেনে নেবে না।

আপনার মতামত লিখুন