ঢাকা নিউজ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির প্রভাবে বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম



ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির প্রভাবে বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসান, বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ইরানের তেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি (সমঝোতা স্মারক) স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:

তেলের দামের বর্তমান চিত্র

  • ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৯ সেন্ট বা ১.১২ শতাংশ কমে ৭৮.৬৬ ডলারে নেমে এসেছে।

  • ডব্লিউটিআই ক্রুড (WTI Crude): যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৮ সেন্ট বা ১.২৮ শতাংশ কমে ৭৫.৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

দাম কমার প্রধান কারণসমূহ

১. ইরানি তেলের প্রত্যাবর্তন: দুই দেশের মধ্যে ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশা তৈরি হয়েছে যে দ্রুতই ইরানের তেল বিশ্ববাজারে পুরোদমে ফিরবে। সরবরাহ বৃদ্ধির এই পূর্বাভাস বাজারে বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। ২. হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়া: চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কার চলাচল যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই রুটটি সচল হওয়ার খবর বাজারে স্বস্তি এনেছে। ৩. ৬০ দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা: অন্তর্বর্তী এই চুক্তির পর চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য উভয় পক্ষ ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, যা বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করছে।

বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA)-এর সতর্কতা: মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ও জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে ২০২৭ সাল নাগাদ বিশ্ববাজারে তেলের অতিরিক্ত সরবরাহ (Surplus) দেখা দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দাম আরও কমিয়ে দিতে পারে।

তবে চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্য একটি অর্থনৈতিক দিক থেকে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'ফেডারেল রিজার্ভ' মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এ বছর সুদের হার বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে। এটি কার্যকর হলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হতে পারে, যা ভবিষ্যতে তেলের চাহিদার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির প্রভাবে বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসান, বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ইরানের তেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি (সমঝোতা স্মারক) স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:

তেলের দামের বর্তমান চিত্র

  • ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৯ সেন্ট বা ১.১২ শতাংশ কমে ৭৮.৬৬ ডলারে নেমে এসেছে।

  • ডব্লিউটিআই ক্রুড (WTI Crude): যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৮ সেন্ট বা ১.২৮ শতাংশ কমে ৭৫.৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

দাম কমার প্রধান কারণসমূহ

১. ইরানি তেলের প্রত্যাবর্তন: দুই দেশের মধ্যে ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশা তৈরি হয়েছে যে দ্রুতই ইরানের তেল বিশ্ববাজারে পুরোদমে ফিরবে। সরবরাহ বৃদ্ধির এই পূর্বাভাস বাজারে বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। ২. হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়া: চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কার চলাচল যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই রুটটি সচল হওয়ার খবর বাজারে স্বস্তি এনেছে। ৩. ৬০ দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা: অন্তর্বর্তী এই চুক্তির পর চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য উভয় পক্ষ ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, যা বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করছে।

বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA)-এর সতর্কতা: মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ও জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে ২০২৭ সাল নাগাদ বিশ্ববাজারে তেলের অতিরিক্ত সরবরাহ (Surplus) দেখা দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দাম আরও কমিয়ে দিতে পারে।

তবে চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্য একটি অর্থনৈতিক দিক থেকে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'ফেডারেল রিজার্ভ' মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এ বছর সুদের হার বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে। এটি কার্যকর হলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হতে পারে, যা ভবিষ্যতে তেলের চাহিদার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ