ঢাকা নিউজ

রেকর্ড দামে বিক্রি হলো মুঘল আমলের ‘অ্যাস্ট্রোল্যাব’: যা ছিল সেকালের ‘সুপার কম্পিউটার’



রেকর্ড দামে বিক্রি হলো মুঘল আমলের ‘অ্যাস্ট্রোল্যাব’: যা ছিল সেকালের ‘সুপার কম্পিউটার’
ছবি : সংগৃহীত

মুঘল আমলের প্রকৌশল ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের এক অনন্য নিদর্শন ‘অ্যাস্ট্রোল্যাব’ লন্ডনের সোথবি’স (Sotheby’s) নিলামঘরে রেকর্ড ২০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি (প্রায় ২.৭৫ মিলিয়ন ডলার) দামে বিক্রি হয়েছে। লাহোরে তৈরি সপ্তদশ শতাব্দীর এই পিতলের যন্ত্রটি ইসলামি বিশ্বের কোনো বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের নিলামে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড গড়েছে।

কেন একে ‘স্মার্টফোন’ বা ‘সুপার কম্পিউটার’ বলা হচ্ছে?

অক্সফোর্ড সেন্টারের ইতিহাসবিদ ড. ফেদেরিকা গিগান্তে এই যন্ত্রটিকে আধুনিক স্মার্টফোনের প্রাচীন সংস্করণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এটি মূলত একটি অ্যানালগ কম্পিউটার, যা ত্রিমাত্রিক মহাকাশের তথ্যকে দ্বিমাত্রিক তলে উপস্থাপন করতে পারতো। এর বহুমুখী ব্যবহারের মধ্যে ছিল:

  • সময় নির্ধারণ: সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত এবং নামাজের সঠিক সময় নির্ণয়।

  • দিক নির্ণয়: নক্ষত্রের অবস্থান এবং মক্কার (কাবা) সঠিক দিক খুঁজে বের করা।

  • পরিমাপ: উঁচু ভবনের উচ্চতা বা গভীর কূপের গভীরতা নির্ভুলভাবে মাপা।

  • জ্যোতিষশাস্ত্র: রাশিফল তৈরি এবং পঞ্জিকা হিসেবে ব্যবহার।

  • ভৌগোলিক তথ্য: এতে ৯৪টি শহরের নাম এবং সেগুলোর সঠিক অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ খোদাই করা আছে।


রাজকীয় ইতিহাস ও নির্মাণশৈলী

  • তৈরির সময়: ১৬৩৭ সালে মুঘল সাম্রাজ্যের লাহোরে এটি তৈরি করা হয়।

  • কারিগর: ‘লাহোর স্কুল অব অ্যাস্ট্রোল্যাব মেকার্স’-এর দুই বিখ্যাত ভাই—কাইম মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদ মুকিম এটি তৈরি করেন।

  • মালিকানা: এটি জয়পুরের মহারাজ দ্বিতীয় সাওয়াই মান সিংয়ের সংগ্রহের রত্ন ছিল। পরবর্তীতে এটি তাঁর স্ত্রী মহারানি গায়ত্রী দেবীর কাছে হস্তান্তরিত হয়।

  • সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন: যন্ত্রটিতে নক্ষত্রের নাম ফারসি ভাষায় থাকলেও তার নিচেই দেবনাগরী লিপিতে সংস্কৃত প্রতিশব্দ খোদাই করা আছে, যা মুঘল আমলের হিন্দু-মুসলিম বৈজ্ঞানিক চর্চার এক বিরল উদাহরণ।


কারিগরি উৎকর্ষ

সাধারণ অ্যাস্ট্রোল্যাবের তুলনায় এটি প্রায় চারগুণ বড়। এর ওজন ৮.২ কেজি এবং উচ্চতা ৪৬ সেন্টিমিটার। এতে পাঁচটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ক্যালিব্রেটেড প্লেট রয়েছে। এর ডিগ্রি বিভাজনগুলো ১ ডিগ্রির তিন ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত নিখুঁতভাবে মাপতে সক্ষম ছিল।

তৎকালীন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের আমলের প্রভাবশালী প্রশাসক আকা আফজালের ফরমায়েশে এটি তৈরি করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর এই ঐতিহাসিক যন্ত্রটি এখন এক অজ্ঞাতনামা সংগ্রাহকের সংগ্রহশালা আলোকিত করবে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


রেকর্ড দামে বিক্রি হলো মুঘল আমলের ‘অ্যাস্ট্রোল্যাব’: যা ছিল সেকালের ‘সুপার কম্পিউটার’

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

মুঘল আমলের প্রকৌশল ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের এক অনন্য নিদর্শন ‘অ্যাস্ট্রোল্যাব’ লন্ডনের সোথবি’স (Sotheby’s) নিলামঘরে রেকর্ড ২০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি (প্রায় ২.৭৫ মিলিয়ন ডলার) দামে বিক্রি হয়েছে। লাহোরে তৈরি সপ্তদশ শতাব্দীর এই পিতলের যন্ত্রটি ইসলামি বিশ্বের কোনো বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের নিলামে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড গড়েছে।

কেন একে ‘স্মার্টফোন’ বা ‘সুপার কম্পিউটার’ বলা হচ্ছে?

অক্সফোর্ড সেন্টারের ইতিহাসবিদ ড. ফেদেরিকা গিগান্তে এই যন্ত্রটিকে আধুনিক স্মার্টফোনের প্রাচীন সংস্করণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এটি মূলত একটি অ্যানালগ কম্পিউটার, যা ত্রিমাত্রিক মহাকাশের তথ্যকে দ্বিমাত্রিক তলে উপস্থাপন করতে পারতো। এর বহুমুখী ব্যবহারের মধ্যে ছিল:

  • সময় নির্ধারণ: সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত এবং নামাজের সঠিক সময় নির্ণয়।

  • দিক নির্ণয়: নক্ষত্রের অবস্থান এবং মক্কার (কাবা) সঠিক দিক খুঁজে বের করা।

  • পরিমাপ: উঁচু ভবনের উচ্চতা বা গভীর কূপের গভীরতা নির্ভুলভাবে মাপা।

  • জ্যোতিষশাস্ত্র: রাশিফল তৈরি এবং পঞ্জিকা হিসেবে ব্যবহার।

  • ভৌগোলিক তথ্য: এতে ৯৪টি শহরের নাম এবং সেগুলোর সঠিক অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ খোদাই করা আছে।


রাজকীয় ইতিহাস ও নির্মাণশৈলী

  • তৈরির সময়: ১৬৩৭ সালে মুঘল সাম্রাজ্যের লাহোরে এটি তৈরি করা হয়।

  • কারিগর: ‘লাহোর স্কুল অব অ্যাস্ট্রোল্যাব মেকার্স’-এর দুই বিখ্যাত ভাই—কাইম মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদ মুকিম এটি তৈরি করেন।

  • মালিকানা: এটি জয়পুরের মহারাজ দ্বিতীয় সাওয়াই মান সিংয়ের সংগ্রহের রত্ন ছিল। পরবর্তীতে এটি তাঁর স্ত্রী মহারানি গায়ত্রী দেবীর কাছে হস্তান্তরিত হয়।

  • সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন: যন্ত্রটিতে নক্ষত্রের নাম ফারসি ভাষায় থাকলেও তার নিচেই দেবনাগরী লিপিতে সংস্কৃত প্রতিশব্দ খোদাই করা আছে, যা মুঘল আমলের হিন্দু-মুসলিম বৈজ্ঞানিক চর্চার এক বিরল উদাহরণ।


কারিগরি উৎকর্ষ

সাধারণ অ্যাস্ট্রোল্যাবের তুলনায় এটি প্রায় চারগুণ বড়। এর ওজন ৮.২ কেজি এবং উচ্চতা ৪৬ সেন্টিমিটার। এতে পাঁচটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ক্যালিব্রেটেড প্লেট রয়েছে। এর ডিগ্রি বিভাজনগুলো ১ ডিগ্রির তিন ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত নিখুঁতভাবে মাপতে সক্ষম ছিল।

তৎকালীন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের আমলের প্রভাবশালী প্রশাসক আকা আফজালের ফরমায়েশে এটি তৈরি করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর এই ঐতিহাসিক যন্ত্রটি এখন এক অজ্ঞাতনামা সংগ্রাহকের সংগ্রহশালা আলোকিত করবে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ