ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান একদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক মধ্যস্থতা করছিল, অন্যদিকে ইরানের সামরিক বিমানগুলোকে নিজেদের বিমানঘাঁটিতে সুরক্ষা প্রদানের জন্য জায়গা করে দিয়েছিল।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক বিমান রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে সরিয়ে নিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, আমেরিকান ও ইসরায়েলি বিমান হামলা থেকে রক্ষা পেতেই তেহরান এই কৌশল অবলম্বন করে। সরিয়ে নেওয়া সরঞ্জামগুলোর মধ্যে ইরানের বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ গোয়েন্দা বিমান 'আরসি-১৩০' (RC-130) ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কিছু বেসামরিক বিমান আফগানিস্তানেও পার্ক করা হয়েছিল।
এই খবরটি প্রকাশ পাওয়ার পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লিন্ডসে গ্রাহাম এই সংকটে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকার পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, প্রতিবেদনটি সঠিক হলে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে পাকিস্তান সরকার এই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নূর খান বিমানঘাঁটি সম্পর্কিত তথ্যগুলোকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, নূর খান ঘাঁটিটি শহরের জনাকীর্ণ কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে কোনো বিদেশি সামরিক বিমান জনসাধারণের দৃষ্টির আড়ালে রাখা অসম্ভব।
অন্যদিকে, তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তান সরকার স্বীকার করেছে যে, যুদ্ধের সময় নিরাপত্তার খাতিরে একটি ইরানি বেসামরিক বিমান কিছু সময়ের জন্য কাবুল ও হেরাত বিমানবন্দরে অবস্থান করছিল। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের এই কথিত দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পরবর্তীকালে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান একদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক মধ্যস্থতা করছিল, অন্যদিকে ইরানের সামরিক বিমানগুলোকে নিজেদের বিমানঘাঁটিতে সুরক্ষা প্রদানের জন্য জায়গা করে দিয়েছিল।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক বিমান রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে সরিয়ে নিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, আমেরিকান ও ইসরায়েলি বিমান হামলা থেকে রক্ষা পেতেই তেহরান এই কৌশল অবলম্বন করে। সরিয়ে নেওয়া সরঞ্জামগুলোর মধ্যে ইরানের বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ গোয়েন্দা বিমান 'আরসি-১৩০' (RC-130) ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কিছু বেসামরিক বিমান আফগানিস্তানেও পার্ক করা হয়েছিল।
এই খবরটি প্রকাশ পাওয়ার পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লিন্ডসে গ্রাহাম এই সংকটে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকার পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, প্রতিবেদনটি সঠিক হলে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে পাকিস্তান সরকার এই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নূর খান বিমানঘাঁটি সম্পর্কিত তথ্যগুলোকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, নূর খান ঘাঁটিটি শহরের জনাকীর্ণ কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে কোনো বিদেশি সামরিক বিমান জনসাধারণের দৃষ্টির আড়ালে রাখা অসম্ভব।
অন্যদিকে, তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তান সরকার স্বীকার করেছে যে, যুদ্ধের সময় নিরাপত্তার খাতিরে একটি ইরানি বেসামরিক বিমান কিছু সময়ের জন্য কাবুল ও হেরাত বিমানবন্দরে অবস্থান করছিল। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের এই কথিত দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পরবর্তীকালে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন