শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম ও বহুমুখী রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদান নিয়ে আরও বেশি বস্তুনিষ্ঠ ও উচ্চমানের গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ইতিহাসের প্রতি যে অবিচার ও কৃপণতা করা হয়েছে, তা দূর করতে শহীদ জিয়ার পুরো জীবন, তার চিন্তাভাবনা ও কাজ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। রোববারে (১৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ এবং সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রয়াত বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজুল্লাহ’র লেখা বই ছাড়া শহীদ জিয়াকে নিয়ে তেমন কোনো তথ্যসমৃদ্ধ ও গবেষণালব্ধ কাজ চোখে পড়ে না, তাই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এখন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বড় ধরনের গবেষণা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের মাধ্যমে এই ভূখণ্ডের মানুষের নিজস্ব ও স্বতন্ত্র ভৌগোলিক পরিচয় তথা আইডেন্টিটি বা সত্তা প্রতিষ্ঠা করা। ৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে সব রাজনৈতিক দলকে এক সুতায় গেঁথে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি মুসলিম লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেন এবং একটি ‘লিবারেল ডেমোক্রেসি’ বা উদারপন্থি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি গঠন করেছিলেন।
৭৪-এর মানবসৃষ্ট ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপট টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, তৎকালীন আন্তর্জাতিক মহলে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত হওয়া একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে শহীদ জিয়া তার কঠোর পরিশ্রম দিয়ে টেনে তুলেছিলেন। তিনি দেশের আনাচে-কানাচে পায়ে হেঁটে, কৃষকের ঘরের দুয়ারে গিয়ে মানুষের মনে আশার আলো জ্বালিয়েছেন। নিজ অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দিনাজপুর সফরকালে প্রেসিডেন্ট জিয়া আকস্মিকভাবে গাড়ি থামিয়ে এক অতি সাধারণ ও দরিদ্র মায়ের কুটিরে ঢুকে পানি পান করেছিলেন। রাষ্ট্রনায়ক হয়েও সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন একাত্মতা প্রকাশের ফলেই শাহাদাতের পর লাখ লাখ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার জানাজায় শরিক হয়েছিল এবং তৎকালীন ‘টাইম ম্যাগাজিন’ও তাদের প্রতিবেদনে শহীদ জিয়ার জনপ্রিয়তার এই অভূতপূর্ব ও আবেগঘন চিত্রটি তুলে ধরেছিল।
কৃষি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, খাল খনন কর্মসূচির পাশাপাশি রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও সুগারকেন ইনস্টিটিউটের আধুনিকায়নে জিয়াউর রহমানের অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়া তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমী করতে ‘হিজবুল বাহার’ জাহাজে করে বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশ ঘুরিয়ে দেখানোর অনন্য উদ্যোগ তিনিই নিয়েছিলেন।
বিগত শাসনামলে গণমাধ্যমের একাংশের চাটুকারিতার সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মিডিয়া এখন করপোরেট বা বিজনেস হাউসের প্রতিনিধি হয়ে গেছে। বিগত রেজিমের চাটুকারিতা থেকে মুক্ত হয়ে মুক্ত সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে সাংবাদিকদের যে লড়াই, তাতে বর্তমান সরকার ও দেশপ্রেমিক জনগণের পূর্ণ সমর্থন থাকবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম ও দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম ও বহুমুখী রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদান নিয়ে আরও বেশি বস্তুনিষ্ঠ ও উচ্চমানের গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ইতিহাসের প্রতি যে অবিচার ও কৃপণতা করা হয়েছে, তা দূর করতে শহীদ জিয়ার পুরো জীবন, তার চিন্তাভাবনা ও কাজ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। রোববারে (১৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ এবং সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রয়াত বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজুল্লাহ’র লেখা বই ছাড়া শহীদ জিয়াকে নিয়ে তেমন কোনো তথ্যসমৃদ্ধ ও গবেষণালব্ধ কাজ চোখে পড়ে না, তাই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এখন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বড় ধরনের গবেষণা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের মাধ্যমে এই ভূখণ্ডের মানুষের নিজস্ব ও স্বতন্ত্র ভৌগোলিক পরিচয় তথা আইডেন্টিটি বা সত্তা প্রতিষ্ঠা করা। ৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে সব রাজনৈতিক দলকে এক সুতায় গেঁথে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি মুসলিম লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেন এবং একটি ‘লিবারেল ডেমোক্রেসি’ বা উদারপন্থি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি গঠন করেছিলেন।
৭৪-এর মানবসৃষ্ট ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপট টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, তৎকালীন আন্তর্জাতিক মহলে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত হওয়া একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে শহীদ জিয়া তার কঠোর পরিশ্রম দিয়ে টেনে তুলেছিলেন। তিনি দেশের আনাচে-কানাচে পায়ে হেঁটে, কৃষকের ঘরের দুয়ারে গিয়ে মানুষের মনে আশার আলো জ্বালিয়েছেন। নিজ অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দিনাজপুর সফরকালে প্রেসিডেন্ট জিয়া আকস্মিকভাবে গাড়ি থামিয়ে এক অতি সাধারণ ও দরিদ্র মায়ের কুটিরে ঢুকে পানি পান করেছিলেন। রাষ্ট্রনায়ক হয়েও সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন একাত্মতা প্রকাশের ফলেই শাহাদাতের পর লাখ লাখ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার জানাজায় শরিক হয়েছিল এবং তৎকালীন ‘টাইম ম্যাগাজিন’ও তাদের প্রতিবেদনে শহীদ জিয়ার জনপ্রিয়তার এই অভূতপূর্ব ও আবেগঘন চিত্রটি তুলে ধরেছিল।
কৃষি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, খাল খনন কর্মসূচির পাশাপাশি রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও সুগারকেন ইনস্টিটিউটের আধুনিকায়নে জিয়াউর রহমানের অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়া তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমী করতে ‘হিজবুল বাহার’ জাহাজে করে বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশ ঘুরিয়ে দেখানোর অনন্য উদ্যোগ তিনিই নিয়েছিলেন।
বিগত শাসনামলে গণমাধ্যমের একাংশের চাটুকারিতার সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মিডিয়া এখন করপোরেট বা বিজনেস হাউসের প্রতিনিধি হয়ে গেছে। বিগত রেজিমের চাটুকারিতা থেকে মুক্ত হয়ে মুক্ত সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে সাংবাদিকদের যে লড়াই, তাতে বর্তমান সরকার ও দেশপ্রেমিক জনগণের পূর্ণ সমর্থন থাকবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম ও দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার।

আপনার মতামত লিখুন