বাংলাদেশে শিশু টিকাদান কর্মসূচির পূর্বতন সাফল্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলেও বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুদের প্রাণহানি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হামের উপসর্গে ২০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু এবং ৩২ হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা বিদ্যমান টিকাদান ব্যবস্থার ঘাটতিগুলোকেই স্পষ্ট করছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার দ্রুত টিকা ক্রয় ও কর্মসূচি হাতে নিলেও এগুলোকে কেবল আপদকালীন সমাধান হিসেবে না রেখে একটি স্থায়ী ও টেকসই ‘ইকো-সিস্টেম’ হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।
একটি কার্যকর স্থায়ী সমাধানের জন্য ইপিআই (EPI) দপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এর জন্য একজন নিয়মিত ডিরেক্টরসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা এখন সময়ের দাবি। স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সমন্বিত করে একটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর গঠন করা হলে সেখানে ইপিআই-এর জন্য ‘অতিরিক্ত মহাপরিচালক’ পদ সৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এছাড়া টিকার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে প্রতি বছর ১৫ মাসের চাহিদাসম্পন্ন টিকা মজুদ রাখা এবং টিকাদান কর্মীদের শূন্যপদ পূরণসহ তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা আবশ্যক।
দেশের ‘বায়ো-সিকিউরিটি’ বা জৈব-নিরাপত্তা নিশ্চিতে হামসহ সব ধরনের টিকা দেশেই উৎপাদন করা অপরিহার্য। এই লক্ষ্যে ইডিসিএল-এর ভ্যাকসিন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিশেষায়িত দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। প্রথাগতভাবে কেবল অবকাঠামো নির্মাণ না করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রযুক্তি হস্তান্তরের সমঝোতা এবং জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা প্রয়োজন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি সংক্রামক রোগের তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণের জন্য ‘হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম’-এর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বর্তমানে এই কেন্দ্রটি তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে; যেখানে নিয়মিত মেডিকেল অফিসার এবং ডাটা অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ সেবাটি সচল রাখতে দ্রুত স্থায়ী পদ সৃষ্টি ও জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে হামসহ টিকা দিয়ে প্রতিরোধযোগ্য শিশু মৃত্যু রোধে একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশে শিশু টিকাদান কর্মসূচির পূর্বতন সাফল্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলেও বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুদের প্রাণহানি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হামের উপসর্গে ২০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু এবং ৩২ হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা বিদ্যমান টিকাদান ব্যবস্থার ঘাটতিগুলোকেই স্পষ্ট করছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার দ্রুত টিকা ক্রয় ও কর্মসূচি হাতে নিলেও এগুলোকে কেবল আপদকালীন সমাধান হিসেবে না রেখে একটি স্থায়ী ও টেকসই ‘ইকো-সিস্টেম’ হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।
একটি কার্যকর স্থায়ী সমাধানের জন্য ইপিআই (EPI) দপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এর জন্য একজন নিয়মিত ডিরেক্টরসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা এখন সময়ের দাবি। স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সমন্বিত করে একটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর গঠন করা হলে সেখানে ইপিআই-এর জন্য ‘অতিরিক্ত মহাপরিচালক’ পদ সৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এছাড়া টিকার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে প্রতি বছর ১৫ মাসের চাহিদাসম্পন্ন টিকা মজুদ রাখা এবং টিকাদান কর্মীদের শূন্যপদ পূরণসহ তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা আবশ্যক।
দেশের ‘বায়ো-সিকিউরিটি’ বা জৈব-নিরাপত্তা নিশ্চিতে হামসহ সব ধরনের টিকা দেশেই উৎপাদন করা অপরিহার্য। এই লক্ষ্যে ইডিসিএল-এর ভ্যাকসিন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিশেষায়িত দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। প্রথাগতভাবে কেবল অবকাঠামো নির্মাণ না করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রযুক্তি হস্তান্তরের সমঝোতা এবং জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা প্রয়োজন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি সংক্রামক রোগের তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণের জন্য ‘হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম’-এর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বর্তমানে এই কেন্দ্রটি তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে; যেখানে নিয়মিত মেডিকেল অফিসার এবং ডাটা অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ সেবাটি সচল রাখতে দ্রুত স্থায়ী পদ সৃষ্টি ও জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে হামসহ টিকা দিয়ে প্রতিরোধযোগ্য শিশু মৃত্যু রোধে একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন