মিয়ানমারের পূর্ব শান রাজ্যে রাশিয়ার প্রথম বিনিয়োগকৃত খনি প্রকল্প থেকে কৌশলগত খনিজ 'টাংস্টেন' উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছে। একই অঞ্চলে আগে থেকেই পরিচালিত একটি বৃহৎ চীনা খনি প্রকল্পের পাশাপাশি এখন রুশ কোম্পানির এই প্রবেশ নতুন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করেছে। শান হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (এসএইচআরএফ) বরাতে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
খনি প্রকল্পের অবস্থান ও নেপথ্য সমীকরণ: এসএইচআরএফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার রুশ প্রকল্পটিকে খনি পরিচালনার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। খনিটির অবস্থান পূর্ব শান রাজ্যের মংটন টাউনশিপের সর্বোচ্চ পর্বত লই খি লেকের উত্তর দিকে, যা থাইল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
এর ঠিক বিপরীত দিকে, অর্থাৎ পর্বতটির দক্ষিণ অংশে মং জাউদ গ্রামাঞ্চলে একটি বৃহৎ চীনা টাংস্টেন খনি ইতোমধ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে উৎপাদন শুরু করেছে। সেখান থেকে উৎপাদিত টাংস্টেন চীনঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মি’র (ইউডব্লিউএসএ) সহযোগিতায় সরাসরি চীনে পাঠানো হচ্ছে। এলাকাটি যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ইউডব্লিউএসএ এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনী।
স্থানীয়দের জানাজানি ও রহস্যময় বিরোধিতা: স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম এই রুশ প্রকল্পের বিষয়ে জানতে পারেন ২০২৫ সালের মে মাসে, যখন জান্তা সেনা, পুলিশ ও স্থানীয় মিলিশিয়া পরিবেষ্টিত একটি রুশ খনিজ জরিপকারী দল ওই এলাকায় আসে। পরবর্তীতে চলতি বছরের (২০২৬) জানুয়ারিতে দলটি দ্বিতীয় দফায় এসে জমি পরিমাপের কাজ সম্পন্ন করে এবং গ্রামবাসীদের জানায় যে, নেপিডো (জান্তা কর্তৃপক্ষ) ইতোমধ্যে খনিজ উত্তোলনের লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছে।
কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, রুশ খনির এই অনুমোদনের পর চীনঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউডব্লিউএসএ-এর একজন প্রশাসক স্থানীয় গ্রামবাসীদের রাশিয়ার এই টাংস্টেন খনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে উৎসাহিত করেন, যা এই অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার প্রচ্ছন্ন ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দেয়।
পরিবেশ ও সামাজিক বিপর্যয়: পূর্ব শান রাজ্যের খনিজ উত্তোলন শিল্প (বিশেষ করে রেয়ার আর্থ ও স্বর্ণখনি) দীর্ঘদিন ধরে চীনা কোম্পানিগুলোর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এই খনি গ্রাস করার কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠী মারাত্মক সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী:
মং জাউদের চীনা খনির বর্জ্যে দূষিত ‘পাক গুট’ ঝরনার পানির সংস্পর্শে এসে আশপাশের গ্রামের বহু মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
খনি থেকে আসা বালুমিশ্রিত পলির কারণে স্থানীয় কৃষকদের ধানক্ষেত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খনিতে পানি সরবরাহের জন্য ঝরনার স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে দেওয়ায় গ্রামবাসীদের গৃহস্থালি ও কৃষিকাজের পানির প্রধান উৎস শুকিয়ে গেছে।
পূর্ব শান রাজ্যে এটি রাশিয়ার প্রথম খনি উদ্যোগ হলেও দেশটির সামরিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘মিয়ানমার ইকোনমিক কো-অপারেশন’ (এমইসি)-এর সাথে যৌথভাবে হোপং টাউনশিপে একটি ইস্পাত কারখানা ও লৌহ আকরিক খাতে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা আগে থেকেই রয়েছে। স্থানীয়দের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও সামরিক জান্তার পৃষ্ঠপোষকতায় এই প্রকল্পগুলো বর্তমানে সচল রয়েছে।

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
মিয়ানমারের পূর্ব শান রাজ্যে রাশিয়ার প্রথম বিনিয়োগকৃত খনি প্রকল্প থেকে কৌশলগত খনিজ 'টাংস্টেন' উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছে। একই অঞ্চলে আগে থেকেই পরিচালিত একটি বৃহৎ চীনা খনি প্রকল্পের পাশাপাশি এখন রুশ কোম্পানির এই প্রবেশ নতুন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করেছে। শান হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (এসএইচআরএফ) বরাতে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
খনি প্রকল্পের অবস্থান ও নেপথ্য সমীকরণ: এসএইচআরএফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার রুশ প্রকল্পটিকে খনি পরিচালনার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। খনিটির অবস্থান পূর্ব শান রাজ্যের মংটন টাউনশিপের সর্বোচ্চ পর্বত লই খি লেকের উত্তর দিকে, যা থাইল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
এর ঠিক বিপরীত দিকে, অর্থাৎ পর্বতটির দক্ষিণ অংশে মং জাউদ গ্রামাঞ্চলে একটি বৃহৎ চীনা টাংস্টেন খনি ইতোমধ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে উৎপাদন শুরু করেছে। সেখান থেকে উৎপাদিত টাংস্টেন চীনঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মি’র (ইউডব্লিউএসএ) সহযোগিতায় সরাসরি চীনে পাঠানো হচ্ছে। এলাকাটি যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ইউডব্লিউএসএ এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনী।
স্থানীয়দের জানাজানি ও রহস্যময় বিরোধিতা: স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম এই রুশ প্রকল্পের বিষয়ে জানতে পারেন ২০২৫ সালের মে মাসে, যখন জান্তা সেনা, পুলিশ ও স্থানীয় মিলিশিয়া পরিবেষ্টিত একটি রুশ খনিজ জরিপকারী দল ওই এলাকায় আসে। পরবর্তীতে চলতি বছরের (২০২৬) জানুয়ারিতে দলটি দ্বিতীয় দফায় এসে জমি পরিমাপের কাজ সম্পন্ন করে এবং গ্রামবাসীদের জানায় যে, নেপিডো (জান্তা কর্তৃপক্ষ) ইতোমধ্যে খনিজ উত্তোলনের লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছে।
কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, রুশ খনির এই অনুমোদনের পর চীনঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউডব্লিউএসএ-এর একজন প্রশাসক স্থানীয় গ্রামবাসীদের রাশিয়ার এই টাংস্টেন খনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে উৎসাহিত করেন, যা এই অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার প্রচ্ছন্ন ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দেয়।
পরিবেশ ও সামাজিক বিপর্যয়: পূর্ব শান রাজ্যের খনিজ উত্তোলন শিল্প (বিশেষ করে রেয়ার আর্থ ও স্বর্ণখনি) দীর্ঘদিন ধরে চীনা কোম্পানিগুলোর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এই খনি গ্রাস করার কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠী মারাত্মক সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী:
মং জাউদের চীনা খনির বর্জ্যে দূষিত ‘পাক গুট’ ঝরনার পানির সংস্পর্শে এসে আশপাশের গ্রামের বহু মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
খনি থেকে আসা বালুমিশ্রিত পলির কারণে স্থানীয় কৃষকদের ধানক্ষেত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খনিতে পানি সরবরাহের জন্য ঝরনার স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে দেওয়ায় গ্রামবাসীদের গৃহস্থালি ও কৃষিকাজের পানির প্রধান উৎস শুকিয়ে গেছে।
পূর্ব শান রাজ্যে এটি রাশিয়ার প্রথম খনি উদ্যোগ হলেও দেশটির সামরিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘মিয়ানমার ইকোনমিক কো-অপারেশন’ (এমইসি)-এর সাথে যৌথভাবে হোপং টাউনশিপে একটি ইস্পাত কারখানা ও লৌহ আকরিক খাতে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা আগে থেকেই রয়েছে। স্থানীয়দের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও সামরিক জান্তার পৃষ্ঠপোষকতায় এই প্রকল্পগুলো বর্তমানে সচল রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন